বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক ::

 

তাহলে কি লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রচার শুরু করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? প্রধানমন্ত্রী মোদী ও বিজেপি সরকারকে রীতিমতো আক্রমণ করছেন সরকারি মঞ্চ থেকে। কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা উত্তরবঙ্গের সভাগুলিতে এসে বারবার বলছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে কি বিজেপির ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের কাছে নিয়ে আসার মরিয়া চেষ্টা চলছে?

সোমবার বানারহাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি ফের কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন। উত্তরবঙ্গের মানুষকে বাংলার পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। বাংলা যে কেন্দ্রের কাছে বিশাল অঙ্কের টাকা পায়, সে কথা বলতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোলেননি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের প্রকল্প ও উন্নয়ন যজ্ঞের প্রচার করেছেন তিনি।

জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাটে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেলার দিকে মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চ থেকে ২৬ হাজার মানুষের জন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আরও বেশি করে তাদের ঘরের লোক হওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর আগেও দেখা গিয়েছে অনুষ্ঠান মঞ্চগুলি থেকে তিনি কেন্দ্রের সরকারকে আক্রমণ করেছেন। বাংলার বঞ্চনা সম্পর্কে মানুষকে জানাচ্ছেন। এদিনও সেই একই পথে হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের রেশন পরিষেবা নিয়েও বক্তব্য রেখেছেন। কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।

রাজ্য সরকার বিনামূল্যে রেশন দিচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ভোটের রাজনীতি করার জন্য বিনামূল্যে রেশন পরিষেবা চালাচ্ছে। এমনই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। ভোট সামনে আসতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ভোট মিটে গেলেই ফের রেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে। করোনা অতিমারির সময় বিনামূল্যে রেশন পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। তারপর তাহলে সেটি কেন বন্ধ করা হল? প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, ভোটে জিতলে এক সময় ব্যাঙ্ক একাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে আসবে। কিন্তু সেই টাকা কি আদৌ মানুষ পেয়েছেন? বানারহাটের মঞ্চ থেকে ওই প্রসঙ্গ আবার উত্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি বারবার মিথ্যে কথা বলে ভোটের রাজনীতি করবে। মানুষ যেন এবার তাদের বিশ্বাস না কর। সেই আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্র জিএসটি বাবদ সব টাকা তুলে নেয়। কিন্তু রাজ্যকে কোনও। টাকা দেয় না সব প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও রাজ্য সরকার সবকটি প্রকল্পই চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাবেন। তিনি ফের দিল্লিতে বাংলার বঞ্চনা নিয়ে কথা বলবেন। দাবি আদায়ের চেষ্টা করবেন। এ কথাও তিনি জানিয়েছেন।

বাংলা কখনও মাথা নীচু করতে জানে না। সব সময় বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। তিনি নিজে এই লড়াইয়ে রয়েছেন। জলপাইগুড়িতে এসে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার প্রত্যেকটি বাড়িতে ২০২৪ সালের মধ্যে পানীয় জল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এমনই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *