বেঙ্গল ওয়াচ নিউজ ডেস্ক:নদিয়া: প্রতীক্ষার অবসান। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফের চালু হয়েছে ট্রাভেল বা টুরিস্ট ভিসা।
এতদিন দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে মূলত মেডিকেল ভিসার উপরই নির্ভর করতে হচ্ছিল। ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে পরিবহণ পরিষেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়েছিল সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষদের মধ্যে।
ট্রাভেল ভিসা পুনরায় চালু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নদিয়ার গেদে সীমান্তে দেখা দিয়েছে খুশির আবহ। গেদে চেকপোস্টকে কেন্দ্র করে যেসব মানুষ ও ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী চলাচলের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তের মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক এবং টোটোচালকদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।
গেদে সীমান্ত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। দুই দেশের মানুষের পারিবারিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, চিকিৎসা, পর্যটনসহ বিভিন্ন কারণে এই সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত হয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ট্রাভেল ভিসা বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সীমান্তকেন্দ্রিক বহু পেশার মানুষও সমস্যার মধ্যে পড়েছিলেন।
মেডিকেল ভিসার উপরই ছিল মূল নির্ভরতা
দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাভেল ভিসা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা বহু মানুষকে চিকিৎসার প্রয়োজনেই মূলত ভ্রমণ করতে দেখা যেত। মেডিকেল ভিসা চালু থাকলেও পর্যটন, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাতায়াত অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছিল।
ফলে, গেদে সীমান্তে যাত্রীসংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে। ব্যাহত হয় ব্যবসায়িক পরিকাঠামো। যাত্রী কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পরিষেবা ও ছোট ব্যবসার উপর। মুদ্রা বিনিময় থেকে শুরু করে স্থানীয় পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই কমে যায় কাজের সুযোগ। দুই দেশের ভিসা চালু হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার আশা। ট্রাভেল ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় পুজোর আগে এখন নদীয়ার ভারত বাংলাদেশ গেদে সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত বাড়লে সীমান্ত এলাকায় কেনাকাটা, খাবারদাবার, পরিবহণ এবং মুদ্রা বিনিময়ের মতো পরিষেবার চাহিদাও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।বিশেষ করে মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী চলাচলের উপর নির্ভরশীল। একইভাবে সীমান্ত এলাকায় যাত্রীদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ভ্যান ও টোটোচালকরাও যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।খুশি ভ্যান ও টোটোচালকরাও
গেদে চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকায় ভ্যান ও টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বহু মানুষ। সীমান্ত দিয়ে যাত্রী চলাচল কমে গেলে তাঁদের আয়েও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। ট্রাভেল ভিসা ফের চালু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চালকদের আশা, আগামী দিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক হলে তাঁদের কাজও বাড়বে। সীমান্ত থেকে রেলস্টেশন, বাজার কিংবা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী পরিবহণের চাহিদা বাড়লে উপকৃত হবেন তাঁরা।ব্যবসায়ীদের মুখেও স্বস্তি গেদে সীমান্ত এলাকায় ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনও ট্রাভেল ভিসা চালুর দিকে বিশেষভাবে তাকিয়ে রয়েছেন। যাত্রী চলাচল বাড়লে স্থানীয় দোকানপাট, খাবারের ব্যবসা, পরিবহণ এবং অন্যান্য পরিষেবায় তার প্রভাব পড়বে বলে আশা তাঁদের।দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসায় যে মন্দাভাব তৈরি হয়েছিল, এবার ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ট্রাভেল ভিসা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও বাড়বে এবং সীমান্ত এলাকার অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ট্রাভেল ভিসা চালু হওয়ায় গেদে সীমান্তে যেন আবারও ফিরতে চলেছে পুরনো ব্যস্ততা—আর সেই প্রত্যাশাতেই এখন দিন গুনছেন সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষ।
