শান্তিপুর বিষমদ কাণ্ডে মৃত্যুর মিছিল

0
89

নিজস্ব প্রতিনিধি নদীয়া :  কালনায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা কে পণ্ড করতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেলেন স্থানীয় বিধায়ক। আগামী শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের কালনায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা করতে আসার কথা। সেই সভা কে  বানচাল করতে ষড়যন্ত্র করে এই কাজ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে  নৃসিংহ পুরের চৌধুরী পাড়ায় এসে একথা বলেন শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। শুধু ষড়যন্ত্রই নয় তিনি অভিযোগে করে বলেন, এই বিষযুক্ত চোলাই প্যাকেট পার্শবর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ড থেকে বর্ধমানের কালনা হয়ে রাতের অন্ধকারে এই গ্রামে ঢোকে। গ্রামবাসীদের সামনে বিধায়ক যখন একথা বলছেন, সে সময় তার পাশে ছিলেন রাজ্যের কারা মন্ত্রী উজ্জ্বল বিস্বাস। মন্ত্রী অবশ্য এই তত্ত্বের ধারে কাছেও যাননি। মন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় সি আই ডি কে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে।

সি আই ডি তদন্ত করে এই ঘটনায় কারা কারা যুক্ত আছে খুঁজে বার করবে বলে তার বিশ্বাস। এদিকে বিধায়কের এহেন তত্ত্ব খাড়া করা কে মেনে নিতে পারেননি চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দারা। বিধায়কের বক্তব্যে গ্রামবাসীদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সামনেই গ্রামবাসী বিশেষ করে মহিলারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

তাদের অভিযোগ, একদিকে অসুস্থদের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না, অপরদিকে বিধায়কের ঝাড়খন্ডের তত্ত্ব কে বিস্বাস করতে নারাজ অধিকাংশ গ্রামবাসী। গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় মাহাতো নামে এক যুবক বলেন, কোন ষড়যন্ত্র নয়। কিংবা ঝাড়খন্ড থেকে চোলাই আসার কথাও সঠিক নয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সঞ্জয় মাহাতো বলেন, সাধন বিস্বাস থেকে চন্দন। এরা প্রত্যেকেই বহুবার চোলাই বিক্রির অভিযোগে জেল খেটেছেন।

তবু বন্ধ হয়নি অবৈধ চোলাই ব্যবসা। আজ ১২ জন মানুষের তাজা প্রাণ চলে গেল বিষ চোলাই পান করার জন্য। গত কাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় এক মহিলা সহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। বুধবার রাতে কল্যাণী জে এন এম হাসপাতালে মৃত্যু হয় মূল অভিযুক্ত চন্দন মাহাতো (৩৭) ও তার ভাই লক্ষী মাহাতোর।

এরা দুজনই বিষ মদ কাণ্ডের নায়ক। তাদের বাড়ি চৌধুরী পাড়ায়। এছাড়াও আরও দুজনের মৃত্যু হয় বৃহস্পতিবার। শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে মৃত্যু হয় বাসুদেব মাহাতো (৪৯)। দুপুরে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু হয় কৃষ্ণ  মাহাতো (৩০) ও গঙ্গা প্রসাদ মাহাতো (৪৮) এর। কৃষ্ণ হলেন মৃত মহিলার ছেলে। শান্তিপুরের চৌধুরী পাড়ার বিষ চোলাই খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ১২ তে দাঁড়াল। ঘটনার সরজমিনে পরিদর্শন করতে এদিন দুপুরে দক্ষিণবঙ্গের আই জি নিরোজ কুমার সিংহ অভিশপ্ত চৌধুরী পাড়ায় আসেন।

নিরোজ কুমারের সঙ্গে ছিলেন, নদীয়া মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডি আই জি বাস্তব বৈদ্য। এছাড়াও ছিলেন, নদিয়ার পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার সহ অন্যান্য পুলিশ কর্তারা। এই ঘটনায় চারজন কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, জয়দেব সাঁতরা, সাধন বিস্বাস ওরফে সাধু, গুছিয়া মাহাতো ও জয়ন্তী মাহাতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে চারজনের মধ্যে তিনজন কে রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে, তাদের চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here