নাবালিকাদের ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’  দিল্লি পুলিশের জালে ধরা পড়ল

0
30

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০০ পুলিশ খুঁজছিল তাকে। দেড় হাজার ঘন্টা ব্যয় হয়েছে তারই জন্য
আর ঘেঁটে ফেলা হয়েছিল ছ’ শরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ ! অবশেষে একটা মেরুন রঙের স্কুটারই ধরিয়ে দিল তাকে ।

মঙ্গলবার পুর্ব দিল্লির শংকরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হল নাবালিকাদের পরিবাবেরর ত্রাস ”সিরিয়াল ধর্ষক” মনীশ চাড্ডা। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল পুলিশ ।

মনীশের শেষতম শিকার ছিল পুর্ব দিল্লির কল্যানপুরীর ১১বছরের নাবালিকা । মেয়েটি দুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল । মনীশ তাকে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে তারই বাড়ির ছাদে নিয়ে যায় এবং কুকর্ম শুরু করে কিন্তু মাঝপথে মেয়েটি ছিটকে বেরিয়ে আসে মনীশের কবল থেকে ।

পুলিশ জানিয়েছে, নিজের স্বভাবের বাইরে গিয়ে এই প্রথম মনীশ ভুল করে বসে । সে মেয়েটিকে থাপ্পড় মারে । মেয়েটি কাঁদতে থাকে । মনীশ ভয় পেয়ে যায় । রাস্তায় নেমে প্রথমে জনতার ভিড়ে মিশে যায় । এরপর আবার সে ফিরে আসে স্কুটারটি নিতে ।

এলাকার মানুষের সন্দেহ হয় স্কুটারের মালিক বাইরের কেউ । সিসিটিভিতে এই স্কুটারের ছবি স্পষ্ট ধরা পড়ে । এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলার পর স্কুটারের মালিকের তল্লাশি চলে এবং ধরা পড়ে মনীশ।

পুর্ব দিল্লি পুলিশের অতিরিক্তি ডেপুটি পুলিশ কমিশনার যশমিত সিংহ জানিয়েছেন , ” গত মে মাস থেকে শুরু করে শেষতম ঘটনাটি ধরলে দিল্লির চারটি জায়গায় মোট চারজন নাবালিকা মনীশের লালসার শিকার হয়েছে । এদের বয়স ৭ থেকে ১১ বছর । অপরাধ গুলি সংগঠিত হয়েছে পান্ডবনগর , গাজীপুর , মধু বিহার এবং কল্যানপুরিতে ।”

পুলিশ জানিয়েছে , সর্বত্রই মনীশের অপরাধের ধরন মোটামুটি একই রকম ছিল । ৩০বছর বয়সী মনীশ শিকার খুঁজে নিয়ে খেলনা , চকলেট ইত্যাদির লোভ দেখিয়ে বালিকাকে নিয়ে যেত তাদেরই বাড়ির ছাদ অথবা টেরসে । সিসিটিভিগুলিকে এমনভাবে এড়িয়ে যেত যে মধ্য উচ্চতার মনীশ কখনোই স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি । এক জায়গায় অপরাধ করার পর চলে যেত ভিন্ন এলাকাতে ।

ফলে তাকে ধরা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল পুলিশের কাছে । বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছিল পুলিশের ওপর।
ক্লাশ টেন পাশ করার পর আর পড়েনি মনীশ । কাজকর্ম কিছুই করেনা। বাবার বানিয়ে যাওয়া বাড়ির একাংশ ভাড়া দিয়ে সেই আয় থেকেই বিধবা মা সহ দুজনের চলে ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে , যে চারটি ঘটনার আভিযোগ দায়ের হয়েছে শুধুমাত্র সেটাই তারা জানে্য্য। এর বাইরেও মনীশের শিকার কেউ হয়েছিল কিনা তা জানা নেই ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here