গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, পূর্ব বর্ধমান : বর্ধমানের মেমারী ২নং ব্লকের বড়পলাশন ১ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মণ্ডল গ্ৰামে শনিবার মহা সমারোহে পালিত হল জগৎগৌরীদেবীর পুজো। জগৎগৌরীদেবী মণ্ডল গ্ৰামে অধিষ্ঠাত্রী দেবী। বিগত তিনশত বৎসর ধরে মা এখানে পূজিতা হচ্ছেন।

জগৎগৌরীদেবী পুজোর ব্যবস্থা করে গেছেন বর্ধমানের মহারাজা। গ্ৰামবাসীদের কাছ থেকে শোনা যায় যে মণ্ডল গ্ৰামের একটি পুকুরে জেলেরা জালে মাছ ধরতে গিয়ে একটি মূর্তি পায়, সেই মূর্তিটি হল জগৎগৌরীদেবী। সেই পুকুর থেকে একটি মাগুর মাছ ধরে মায়ের ভোগ দেওয়ার রীতি প্রাচীনকাল থেকে আজও চলে আসছে।

জগৎগৌরীদেবীর পুজো না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক বাড়িতে রান্না হয়না। ঐতিহ্যবাহী পুজোকে ঘিরে মণ্ডল গ্ৰাম এখন মেতে রয়েছে উৎসবের আমেজে। পুজো উপলক্ষ্যে হাজার হাজার মানুষ এখানে ভীড় জমান । মণ্ডল গ্ৰাম ছাড়াও পাশাপাশি এলাকা ও অন্যান্য জেলা থেকেও লোকসমাগম হয় এই পুজোতে।এই পুজোয় পশু বলিদান প্রথা চালু রয়েছে। পুজো উপলক্ষ্যে বসেছে একটি বড়ো মেলা। পুজো উপলক্ষ্যে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

গ্রামবাসীদের মতে পালবংশের রাজা নয়পালের ঠাকুর ছিলেন এই জগৎগৌরী৷ কালাপাহাড় মন্দির ভেঙে মূর্তিটি কলুষিত করে স্থানীয় বিশেপুকুরে নিক্ষেপ করে৷ আড়াইশো বছর পূর্বে গ্রামের কৈবর্তরা পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে জাল ফেললে দেবীমূর্তি উঠে আসে৷ দেবীর এই উত্থান সংবাদ স্বপ্নে তিনজন জানতে পারেন যথা বারাণসী সিদ্ধান্তঠাকুর এবং স্যংখ্যায়ন ও কাত্যায়ন গোত্রের উগ্রক্ষত্রিয়রা৷ দেবী জানালেন যে তিনি জরৎকারী জগৎকারী।তাঁর বিধিবদ্ধ পুজোর ব্যবস্থা যেন করা হয়৷ দেবীকে জল থেকে তুলে এনে প্রথমে গ্রামের জোড়া শিবমন্দিরে রাখা হয়৷ এই মন্দির কালক্রমে জগৎগৌরীর মন্দির নামে সুপরিচিত হয়ে ওঠে৷ এখনও দেবীর আদিবাহক কৈর্বত্যরা৷ তারাই দেবীকে দোলায় চড়িয়ে গ্রাম পরিক্রমা করে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here