পর্যটকদের কাছে সান্টা হয়ে উঠলেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক,এবার উপহার সঙ্গীতমুখর নৌকাবিহার

0
60

তারাশঙ্কর গুপ্ত,বাঁকুড়া:পর্যটকদের চমক দেওয়া অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক মানস মন্ডল।এবার বড়দিনের আগে তিনি যেন পর্যটকদের কাছে সান্টা হয়ে উঠলেন ।

উপহার দিলেন সঙ্গীত মুখর নৌকাবিহার। এবার ঐতিহ্যবাহি বিষ্ণুপুর ঘরাণার সূর মূর্ছনায় বুঁদ হয়ে আপনি ভেসে বেড়াতে পারবেন লালবাঁধের জলে। মল্লরাজাদের এক সময়ের রাজধানী, মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরে বেড়াতে এসে পর্যটকরা এবার থেকে নৌকাবিহার উপভোগ করতে পাবেন।

নৌকায় বসেই দূর থেকে বেশ কয়েকটি টেরাকোটা শিল্প সমৃদ্ধ মন্দির দেখার সুযোগ থাকছে তেমনি বিষ্ণুপুর ঘরানার সুরের ঝর্ণা ধারা মুখরিত করবে লালবাঁধের আকাশ বাতাস ।

সন্ধ্যা নামতেই সেই নৌকাতেই জ্বলে উঠবে সন্ধ্যে বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত লন্ঠন। পর্যটন মরশুমের শুরুতেই শুক্রবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের লালবাঁধের জলে সুসজ্জিত নৌযাত্রার সূচণা হয়ে গেল। সূচণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল সহ অন্যান্য মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা।

পর্যটকদের কথা চিন্তা করেই লালবাঁধের পাড় পরিস্কার করেছে মহকুমা প্রশাসন। তৈরী হয়েছে জেটি। লালবাঁধের জলে এখন থেকে অপেক্ষমান ডিজেল ইঞ্জিন চালিত নৌকা। মহকুমা প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত একটি নৌকা থাকছে। যে নৌকা বিষ্ণুপুরের শিল্পীরাই তৈরী করেছেন। অন্যটি খুব শীঘ্রই শহর কলকাতা থেকে আসছে।

ঐ নৌকাতে প্রায় তিরিশ জন বসার সুযোগ পাবেন। খরচ পড়বে এক ঘন্টায় মাথা পিছু একশো টাকা। একই সঙ্গে নৌকায় যাত্রী নিরাপত্তায় কোন ধরণের ফাঁক রাখতে রাজী নয় প্রশাসন। লালবাঁধের জলে সর্বক্ষণ স্পিড বোট নিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রশিক্ষিত কর্মীরা সদাসতর্ক থাকবেন। বলা যায় পর্যটকদের বড়ো দিনের বড়ো উপহার দিল বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন।

অভিনব এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটক সকলেই। মহকুমা শাসক মানস মণ্ডলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলেই। তাদের মতে, সারা দিন মন্দির নগরীর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানোর শেষে লালবাঁধের জলে ভাসমান নৌকায় বসে বিষ্ণুপুর ঘরানার গান শুনতে শুনতে কিছু ক্ষনের বিশ্রাম,আর কী চাই?

মহকুমা শাসক মানস মন্ডল বলেন বিষ্ণুপুর পর্যটনকে আরো উপভোগ্য আরো আকর্ষণীয় করতে আমাদের প্রয়াস চলতে থাকবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here