বানীব্রত দত্ত,কলকাতাৱ রামপুরহাট, ২৭ নভেম্বর 2022 : “পঞ্চায়েত উপহার দিন। আমি আবার আসবো। আমার ডান্স হবে আর ডায়লগ হবে। নাচ গান বাজনা হবে কথা দিলাম।” রবিবার বীরভূমের মল্লারপুর নিমিতলা মাঠে বিজেপির সভায় স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতেই একথা বলেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। কেষ্টার গড়ে বিজেপি কর্মী ও সাধরণ মানুষ দীর্ঘ অপেক্ষায় ছিল ফাটাকেস্ট মহাগুরু মিঠুনের জন্য। এদিন দুপুরে সভামঞ্চ যখন মিঠুন চক্রবর্তী বক্তব্য রাখতে উঠতেই উচ্ছাসে ফেটে পড়ে আমজনতা।

 

 

বক্তব্যের মাঝখানেই মিঠুন বলে ওঠেন “আমি কঠোর স্বরে একটা কথা বলতে চাই। সব কাজ কিন্তু আমাদের করতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে সবাই কাজ করব এই শপথ নিন।” এরপরেই মিঠুন জনতার কাছে নতুন তাস খেললেন। উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের চাঙ্গা করার টোপ দিয়ে তিনি বললেন, “এই এলাকার ষোলটা পঞ্চায়েত আমাকে উপহার দিন। যদি ষোলটা পঞ্চায়েত উপহার দেন আমি আবার আসবো। সেদিন এমনি আসব না। আমার সঙ্গে আরও অনেককে নিয়ে আসব। এখানে গান হবে। বাজনা হবে। আমার ডান্স হবে। আমার ডায়লগ হবে। একদম লোভ দেখিয়ে বলছি না। পঞ্চায়েত উপহার দিলে পরে আমি আসবোই। অনুষ্ঠান হবেই হবে। “

অভিনেতা মহাগুরু মিঠুনদাৱ এই ঘোষনার সাথে সাথেই কর্মীসভায় উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। চিৎকার করে বলতে থাকে,” পঞ্চায়েত উপহার দেবই।” এদিনের মল্লারপুরের মাঠের কর্মীসভায় তিল ধারণের জায়গা ছিল না। তার মাঝেই মিঠুন তার বক্তব্যের মাঝেই উপস্থিত জনতার কাছ থেকে নানা প্রশ্ন ও অভাব অভিযোগ শুনতে চান। সেই সময় মাইক হাতে দশম শ্রেণীর ছাত্রী নবনীতা সরকার বলে ওঠেন, “আমরা জেনারেল কাস্ট বলে কি কিছুই পাবো না। আমরা কি সামান্য স্কলারশিপও পেতে পারি না? কারণ আমার পড়াশোনার খরচ যোগাতে পারছে না আমার পরিবার।” উত্তরে মিঠুন বলেন, “কেন টিভিতে দেখি এই তো কত শ্রী এই শ্রী ওই শ্রী। তোমাকে শ্রী বলে কিছু নেই। ছাত্রীটি উত্তর দেয়,” না আমি কোন সুবিধা পাই না।” এরপরেই মিঠুন বলেন, “মাসে তোমার পড়াশুনো জন্য কত খরচ হয়। উত্তর আসে, ২০০০ টাকা,” তৎক্ষণাৎ মিঠুন, বোলপুর সংগঠনিক জেলা সভাপতি অষ্টম মন্ডলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মন্ডল বাবুকে বলে দিচ্ছি এক বছরের আপনার পড়াশোনার খরচ উনি আপনার কাছে পৌঁছে দেবেন। “নবনিতার বাবা অসিত সরকার বলেন, “মিলে কাজ করতাম কাজ ছাড়িয়ে দিয়েছে। টাকার অভাবে মেয়েটাকে পড়াতে পারছি না। অথচ সরকারি কোন প্রকল্পের কোন সুবিধা পাই না। মিঠুনদা এই আশা পূরণ করলে আমার মেয়ের পড়াশুনাটা হবে।”

ওই সময় জনতার দরবার থেকে ফের একধিক প্রশ্ন ছুটে যায় মহাগুরুর দিকে। একাদশ শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়া মাইক হাতে মঞ্চে উপস্থিত মিঠুন চক্রবর্তীর উদ্দেশ্যে বলেন,” গ্রামের ভেতর দিয়ে দিনরাত বালি ট্রাক যায় স্কুলে যেতে ভয় করে। উত্তরে মিঠুন বলেন, “একটা কাজ করো। স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে যখন ওই ট্রাকগুলো যাবে তখন রাস্তায় বসে পড়ো। তারপরে দেখি কি করে ট্রাক আর যেতে পারে। যদি দরকার পড়ে আমাদের স্থানীয় লিডারদের ডাকবে। তারা উপস্থিত থাকবে।” সভায় উপস্থিত মহিলা চিৎকার করে বলতে থাকেন ‘’স্যার আমরা ২২ বছর ধরে ভাড়া বাড়ি তে থাকছি, আবাস যোজনার বাড়ি পায়নি ,, প্রশ্নে মিঠুন চক্রবর্তী উত্তর দেন ,”আপানার ভাড়া দেওয়ার দিন শেষ। নিজের বাড়ি হবেই।প্রধানের সঙ্গে দেখা করবেন। মঞ্চে উপস্থিত দুই সভাপতি কে দেখিয়ে বলেন, এদের সঙ্গে দেখা করবেন। “

ওই সময় পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলা বলে ওঠেন ‘’ দেশের উন্নতি হচ্ছে কি ? অনেক দিন ধরে শুনছি। প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মুজমদারকে মাইকো ফোন দিয়ে , শুনে নিন মোদিজী কী কী করেছেন। তবে সুকান্ত মুজমদার এ রাজ্যে ও জেলা জুড়ে ভাৱতেৱ প্রধানমন্ত্রীৱ উন্নয়নমূলক কাজেৱ কোনও বিষয়ই নজৱে আসেনি। তার কারণ হিসাবে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষারোপ করছেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের আহ্বায়ক মলয় মুখোপাধ‍্যায় বলেন, মিঠুন চক্রবর্তীর সব কথার জবাব দেওয়া ২ ডিসেম্বর ওই একই মাঠে। লোক হবে না ভেবেই তো নিমতলার ছোট মাঠ বেছেছে বিজেপি। সেদিন সবাই দেখবে মানুষ কার পাশে? সেদিন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে হাজির থাকবেন দেবাংশু ভট্টাচার্য এবং মহুয়া মৈত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here