বেঙ্গল ওয়াচ ডেস্ক ::বিশ্বভারতীতে উপাচার্য হিসাবে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যোগ দেওয়ার পর থেকেই চলেছে বিক্ষোভ ।

 

 

 

নানা কারণে অশান্ত হয়ে উঠছে বিশ্বভারতী।এবার বিতর্ক গুলি চালানোর নির্দেশ নিয়ে।উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত বিশ্বভারতী। প্রতিবাদে উপাচার্যের ঘরের দরজা ভেঙে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন পড়ুয়ারা। রাতভর চলেছে বিক্ষোভ। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ঘেরাওমুক্ত হন উপাচার্য। বুধবার উপাচার্যের কাছে কয়েকটি দাবিদাওয়া নিয়ে গিয়েছিলেন পড়ুয়ারা। অভিযোগ, উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। এই খবর চাউর হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। উপাচার্যকে ঘেরাও করে শুরু হয় বিক্ষোভ। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পড়ুয়াদের ধস্তাধস্তি চলে। বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা দাবি তোলেন, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ঘেরাও চলবে। এক ছাত্র বলেন. “যদি ওঁ এখান থেকে চলে যান. তাহলেই এখানকার মঙ্গল হবে।” আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম হচ্ছে। আরেক ছাত্রর অভিযোগ, “কোর্টের অর্ডারে কোনও কিছুর নিষ্পত্তি হচ্ছে। তার পরক্ষণই অন্য কিছু বেনিয়ম শুরু করছেন।”

ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগেই।তবে সেই রেশ কাটিয়ে চালু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়।এর মধ্যে আবার বিতর্ক।ঘটনার সূত্রপাত,উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন অন্যান্য অধ্যাপক অধ্যাপিকারাও। জানা যাচ্ছে, রাত দুটো পর্যন্ত উপাচার্য নিজের অফিসেই ছিলেন। অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীরা ছাত্রদের মারধর করে সরিয়ে উপাচার্যকে বার করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা শাবল, গাইতি নিয়ে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি যাতে নতুন করে উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য নজর রেখেছে অতিরিক্ত বাহিনী। গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবশ্য বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তথা উপাচার্যের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।এভাবে রবীন্দ্রনাথের বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন কলুষিত হচ্ছে।এর বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের একাংশ ক্ষুব্ধ।।
আন্দোলনকারী ছাত্র শুভ নাথ বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে বিশ্ববিদ্য়ালয়ে নানা অনিয়ম হচ্ছে। যাঁরা আন্দোলন করছে তাঁদের ভর্তি আটকে দেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ বছর ধরে উপাচার্য এসব কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষতি করেছেন। আজ ছাত্রছাত্রীরা তাঁর পদত্যাগের দাবি জানান। তখনই তিনি তাঁর নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে ছাত্রদের মার খাওয়ান। এরপর আন্দোলনকারীরা কথা বলতে চাইলে তিনি তাঁর নিরাপত্তারক্ষীকে ছাত্রকে গুলি করার নির্দেশ দেন। উপচার্য তাঁর বডিগার্ডকে এই নির্দেশ কী করে দিতে পারেন?
পাল্টা আন্দোলনকারীদের দিকে আঙুল তুলে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, “আমাকে গালাগালি করেছে। বাপ-মা তুলে গালাগালি দিয়েছে। গায়ে হাত দিয়েছে।”
এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই ভেঙে পড়বে বিশ্বভারতীর পঠন-পাঠন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here