সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ মাকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় দেহ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

0
52

নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া :পারিবারিক সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ মাকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুন করে পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকালে নদীয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বাগানী পাড়া এলাকায়।অভিযুক্ত ছেলে সত্যেন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পারিপার্শ্বিক স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে অপমানে তিন সন্তান সহ নিজে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তের স্ত্রী।

ইতিমধ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্তের দুই ছেলে মেয়ের। মৃতদের নাম সুদীপ বিশ্বাস(১২) ও রিমা বিশ্বাস(১৭)।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ছোট ছেলে শুভ বিশ্বাস(৭) ও মা গীতা বিশ্বাস(৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত তিরিশে নভেম্বর শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বাগআছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের করমচা পুর গ্রামে একটি আম বাগানের ভেতর থেকে এক মহিলার জ্বলন্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাঠায় শান্তিপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনার পর আনুমানিক দিন পনেরো পরে শান্তিপুর থানার সাথে যোগাযোগ করে রানাঘাট পুলিশ মর্গে এসে মৃত বৃদ্ধা তরুবালা দেবীর (৬৮) দেহ শনাক্ত করেন এবং দেওর সত্যেন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সম্পত্তির লোভে পরিকল্পিত ভাবে মাকে হত্যা করার অভিযোগ করেন শান্তিপুর পুরসভা দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাগানী পাড়ার বাসিন্দা মৃতার বৌমা শ্যামলি বিশ্বাস।

অভিযোগ, দীর্ঘ দিন যাবৎ বৃদ্ধা তরুবালা দেবী নিখোঁজ ফাঁকা সত্যও পরিবারের কাছে সেই কথা বেমালুম চেপে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত সত্যেন বাবু। এরপর বিষয়টি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। তরু বালা দেবীর দেহটি সনাক্তকরণ ও শ্যামলীদেবীর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বিকালে অভিযুক্ত সত্যেন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে শান্তিপুর থানার পুলিশ।

স্বামীর গ্রেপ্তারের পর অপমানের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিন সন্তান সহ নিজে বিষ মেশানো খাবার খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন সত্যেন বাবুর স্ত্রী গীতা বিশ্বাস বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।

পরে স্থানীয়রা জানতে পেরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে শান্তিপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু হয় মেয়ে রিমার। অবস্থার অবনতি হলে বাকি তিনজনকে কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানে মৃত্যু হয় ছেলে সুদীপ বিশ্বাসের।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষ্ণনগরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন গীতা দেবী সহ ছোট ছেলে শুভ বিশ্বাস।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সম্পূর্ণ বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here