পুরোনো আক্রোশে পরিকল্পিতভাবে খুন শান্তিপুরে, দাবী পরিবারের

0
173

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া:- গত মঙ্গলবার অর্থাৎ ৫-ই ফেব্রুয়ারী রাতে তাঁতের সুতো আনতে বেরিয়েছিল বাপন মন্ডল কিন্তু আর বাড়ী ফেরা হলো না তাঁর।

মাথায় ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের কারণে বাপন বুধবার ভোরে কলকাতার পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বাগআঁচড়া পঞ্চায়েতের লক্ষীনাথপুরে কলাতলাপাড়ায়। ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় যুবক সন্দীপ প্রামানিককে গ্রেফতার করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। তাঁকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে রানাঘাট মহকুমা আদালত।

এখন দেখাযাক ঠিক কি ঘটেছিলো সেদিন রাতে। কেনই বা ঘটে গেল এত বড় একটা অঘটন। পরিবারের কাছ থেকে জানা গেল আগেও বাপনকে নানাভাবে সন্দীপ ও তাঁর সঙ্গীরা গণ্ডগোলে জড়াতে চেয়েছিল কিন্তু সেযাত্রা সেটা সম্ভব হয়নি।

এলাকায় অতি নম্র ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত বাপন একাই ছিল পরিবারের পুরুষ সদস্য। বিধবা মা, স্ত্রী, চার বছরের এক কন্যা এবং একমাসের শিশু পুত্রকে নিয়ে সুখেই কাটছিল বাপনের সংসার। বাপন সেদিন রাতে তাঁতের সুতো আনতে বেরিয়ে দেখে যে তাঁর এক আত্মীয়-এর সাথে সন্দীপের বিশাল গন্ডগোল বেঁধেছে।

সে তখন সেটা আটকাতে যায়। সন্দীপ হঠাৎ করে একটা ভারী বস্তু দিয়ে সজোরে বাপনের মাথায় আঘাত করে। বাপন রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ তাঁকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে কলকাতার পিজি-তে রেফার করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এখন কথা হলো- গন্ডগোলটা হচ্ছিল সন্দীপের সাথে বাপনের আত্মীয়র কিন্তু সন্দীপ সেই আত্মীয়কে ছেড়ে দিয়ে বাপনকে মারতে গেল কোনো? তবে কি পুরো ঘটনাটাই পূর্ব পরিকল্পিত? এমনটাই দাবী করছে বাপনের পরিবার। মূলতঃ বাপনের স্ত্রী কমলা মন্ডল এবং দিদি টিঙ্কু সাহার মন্তব্য এমনটাই দাবী করে। এলাকার উপপ্রধান সুজয় সরকার বাপনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এখন দেখা যাক শান্তিপুর থানার পুলিশ কতটা সঠিক তদন্ত করে। সঠিক তদন্ত করে আরো কেউ এই খুনের সাথে যুক্ত কিনা সেটা দেখাই এখন শান্তিপুর থানার পুলিশের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ এমনটাই মনে করছেন এলাকার মানুষ। পরিবার দোষী অথবা দোষীদের কঠোরতম শাস্তি চাইছে। পরবর্তীকালে শান্তিপুর থানার ভূমিকার দিকে সবার নজর থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here