সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে নদী পারাপার

0
56

নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া :নৌকা পারাপারে যাত্রী সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ২০১৬ নৃসিংহপুর নৌকা ডুবির ঘটনায় সলিল সমাধি হয়েছিল প্রায় বারো জনের।সেই দুর্ঘটনার পর প্রশাসন উদ্যোগ নেয় সমস্ত ফেরিঘাটে নৌকাতে যাত্রী পারাপার করতে গেলে বাধ্যতা মূলক ভাবে ব্যবহার করতে হবে লাইফ জ্যাকেট।

কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশিকাই সার,কার্যত সরকারি সেই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদীয়ার রানাঘাটের ছোট বাজার ফেরি ঘাটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে নৌকায় যাত্রী পারাপার। অভিযোগ,যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া অনেক দূর,নৌকা পারাপার হতে যে টাকা নেওয়া হচ্ছে,তারও কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।

নদীয়ার রানাঘাটের ছোট বাজারে রানাঘাট ও আইসতলার সাথে যোগাযোগের জন্য ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে চূর্ণী নদীর ওপর নব্বই এর দশকে তৈরি হয়েছিল একটি ফুট ব্রিজ।যার প্রশাকি নাম ঝুলন্ত ব্রীজ।সম্প্রতি সেই ফুট ব্রিজটির পরিস্থিতি ব্যবহার অযোগ্য হওয়ায় সেটিকে সংস্কার করতে উদ্যোগী হয় নদীয়া জেলা প্রশাসন।

তার জন্য ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা।প্রশাসন সূত্রে খবর,সংস্কারের সেই কাজের টেন্ডার হয়ে গেলেও ব্রিজ মেরামতির কাজ এখনো শুরু হয়নি।তবে ইতোমধ্যেই সেই ব্রিজ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।আর তার পরিবর্তে রানাঘাট ও আইসতলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে পুনরায় শুরু হয়েছে ফেরি সার্ভিস।সূত্রের খবর,প্রত্যেকদিন স্কুল পড়ুয়া থেকে অফিস যাত্রী,ব্যবসায়ী থেকে সাংসারিক প্রয়োজনে কয়েক হাজার মানুষ রানাঘাট ও আইসতলার মধ্যে যাতায়াত করেন।

অভিযোগ,যাত্রী নিরাপত্তার নূন্যতম ব্যবস্থাও না থাকায় কার্যত প্রত্যেক দেন প্রাণ হাতে করে নদী পারাপার করছেন সাধারণ মানুষ।অভিযোগ,যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট চাইলেও তা দিচ্ছেন না ফেরি সার্ভিস কতৃপক্ষ।নিতথ্যাত্রী দের অভিযোগ,প্রয়োজনের তুলনায় নৌকার সংখ্যা কম থাকায় কখনো কখনো স্কুলের সময় নৌকায় অনেক যাত্রী এক সাথে উঠে পড়ে।বড়দের জন্য না হলেও বাচ্চা ও মহিলাদের অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট দেওয়া উচিত।কিন্তু তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কার্যত ভগবান ভরসায় নদী পারাপার করছেন মানুষজন।যদিও স্থানীয় রামনগর 1 নম্বর পঞ্চায়েত প্রধান শ্যাম সুন্দর ঘোষের দাবী, “নৌকা পারাপারে যাত্রী সুরক্ষার সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে।লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হচ্ছে”।যদিও পঞ্চায়েত প্রধানের দাবির সাথে আসল চিত্রের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।অভিযোগ,কার্যত সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছেলে খেলা চলছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির দাবী রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি দের হাত থাকায় ফেরিসার্ভিস কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেনা প্রশাসন।যদিও এই প্রসঙ্গে রানাঘাট এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস ঘোষ জানান,”ফুট ব্রিজের সংস্কারের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে।যতদিন কাজ শেষ না হচ্ছে ততদিন সাময়িক ভাবে ছোট বাজার ঘাটে ফেরি সার্ভিস চালানো হচ্ছে।যে এজেন্সিকে ঘাটের বরাত দেওয়া হয়েছে,তাদের সাথে চুক্তি আছে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট দিতে হবে যাত্রীদের।যদি লাইফ জ্যাকেট না দেওয়া হয় তবে ফেরিসার্ভিস কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এখন কবে থেকে যাত্রীদের সুরক্ষায় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার শুরু হবে সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here