সেরা নবান্ন উৎসবের পুরস্কার বিতরণী কাটোয়ার চাণ্ডুলীতে

0
157

গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী,কাটোয়াঃ বাংলার লোক উৎসব তথা চান্ডুলী গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্য “নবান্ন”। নতুন ধানের-চালের উৎসব। এই লোক উৎসব উপলক্ষ্যে সাড়া অগ্রহায়ণ মাস জুড়ে মেতে ওঠে বাংলার প্রতিটা প্রান্ত।বাদ পড়েনি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ২ নং ব্লকের শ্রীবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের চান্ডুলী গ্রাম।

গত ২৮ শে অগ্রহায়ণ গ্রামের সব দেব-দেবী দের নতুন ধানের চাল উৎসর্গ করে নবান্নের প্রসাদ গ্রহন করেন সকল গ্রামবাসী।

মেতে ওঠেন দেব-দেবীর পূজা অর্চনায় মহা সমারোহে। প্রতিমা-মন্ডপ-আলোকসজ্জা ও বাজনায় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ গড়ে ওঠে চান্ডুলীর আকাশে বাতাসে। পরের দিন ২৯ শে অগ্রহায়ণ হয় মহা ধুমধামে প্রতিযোগিতামূলক প্রদর্শনী প্রতিমা নিরঞ্জন।

গ্রামের প্রতিটি ক্লাব প্রতিমা, মন্ডপসজ্জা, আলোকমালা ও বাজনায় একে অপরের চেয়ে এগিয়ে থাকতে চায় নিজস্বতায়।

সেই উৎসাহকে আরো বাড়িয়ে দিতে এবছরে একটি বিশেষ ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেয় কাটোয়া কাছারী রোডের “পদ্মশ্রী”-র মালিক তথা চান্ডুলী গ্রামের ছেলে পিন্টু ভট্টাচার্য্য।

তিনি তাঁর স্বর্গীয় পিতা মাতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এবছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট আটটি “স্বর্গীয় কানাইলাল ভট্টাচার্য্য ও স্বর্গীয় পদ্মরাণী স্মৃতি ট্রফি” র ঘোষণা করেন। আজ রবিবার সেই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে খুশির ও আনন্দ উত্তেজনায় মাতল গোটা চান্ডুলী।

শ্রীপতি মঞ্চে বসে চাঁদের হাট। এই গুনী সমাবেশেই এক এক করে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় “সেরা নবান্ন ২০১৮” র ক্লাবগুলি হাতে। সেরা প্রতিমা হিসাবে মাঝের পাড়া লক্ষীমাতা সংঘের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কাটোয়া ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুব্রত মজুমদার।

সেরা আলোক সজ্জার পুরষ্কার পায় মহিষাসুরমর্দ্দিনী সংঘ জেলা পরিষদ সদস্য তুষার সামন্তের হাত থেকে। সেরা মন্ডপ সজ্জার পুরস্কার তুলে দেন কাটোয়া ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিষাদ সামন্ত।

সেরা বাজনায় ঘোষপাড়া শিবদুর্গা, পুরস্কার তুলে দেন শ্রীবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাগর প্রধান। বাজনায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে কাটোয়া ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি জাগু প্রধানের হাত থেকে পুরষ্কার পায় দক্ষিণপাড়া কৃষ্ণমাতা সংঘ। বাজনায় তৃতীয় গনেশজননী সংঘের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন শ্রীবাটী পঞ্চায়েতের উপ প্রধান জগন্নাথ রুদ্র। বাজনায় চতুর্থ পুরস্কারটি তুলে দেন জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম ঘোষাল এবং গোটা নবান্নের সেরা এন্টারটেইনমেন্ট পুরস্কারটি সেবা সংঘের হাতে তুলে দেন স্বয়ং পিন্টু ভট্টাচার্য্য, তাদের তারাপীঠ মহাশ্মশান থিমের জন্য। পিণ্টু ভট্টাচার্য জানান, পরবর্তীতে আরো পুরস্কার রেখে, কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের ও পুরস্কৃত করে আরো উৎসাহদান করা হবে। গ্রামের ছেলে হিসাবে তিনি গর্ব অনুভব করেন। মঞ্চের সঞ্চালক মানস মন্ডল বলেন, ” পরের বার আরো উৎসাহ পাবে সব ক্লাবগুলি। এবছর শুরু, প্রতিযোগিতা হবে তো পরের বছর।”

পুরষ্কার বিতরণর পর অনুষ্ঠিত হয় লোকশিল্পী মঞ্চ ও দূরদর্শন খ্যাত নিতাই খ্যাপা ও সম্প্রদায়ের লোকগীতি- বাউল। সর্বোপরি চান্ডুলীর মানুষ খুশিতে মেতে ওঠে আজ, যেন নবান্নের “অষ্টমঙ্গলা”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here