মিনাখাঁয় সাঁতারে গ্রিনিজ বুক অফ ওয়াল্ড

0
53

অর্ণব মৈত্রঃ মিনাখাঁর ভ্যান চালকের ছেলের সাঁতারে গ্রিনিস বুক অফ ওয়াল্ড। উত্তর 24 পরগনার

মিনাখাঁর চৈতল চড় পাড়ার বাসিন্দা আহম্মদ গাজী (২০ ), স্থানীয় চৈতল পল্লী মঙ্গল বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

বাবা রহমান গাজী পেশায় ইঁট ভাটার ভ্যান চালক। ভ্যান চালিয়ে চার ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার রমাহন গাজীর। এমন অবস্থায় ছেলে সাঁতার প্রতিযোগিতায় এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়ে খুশিতে আপ্লুত। শুধু পরিবার না গোটা এলাকার মানুষও এখন আনন্দিত আহম্মদ গাজীর গ্রিনিস বুক অফ ওয়াল্ড রেকর্ড দেখে।

বাবা পেশায় ইঁট ভাটার ভ্যান চালক, সাঁতারের শিক্ষক তো দুরে থাক সাঁতারে ড্রেস বা খাওয়া দাওয়াও ঠিক মতো দিতে পারেন না।

সুইমিং পুলে নয় বাড়ির পাশে বিদ্যাধরী নদীতে, আবার কখনো পাড়ার খালে, বিলে সাঁতার কেটে নিজেকে তৈরী করে নেয় আহম্মদ গাজী। শুধু অভাব নয় এক মারাত্মক দূর্ঘটনায় তার ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়। তবে তাকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেই প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে সে এই জায়গায় পৌঁছে গেছে।

২০১৫ সালে ইঁট ভাটার লরিতে খালাসির কাজে গিয়ে আহম্মদ গাজীকে ডান পা হারাতে হয়। সেই দূর্ঘটনায় প্রায় থাইয়ের নিচ থেকে পা কেটে বাদ দিতে হয় তার। এক পা হারিয়ে গেলেও জলে নেমে আপন খেয়ালে ঘন্টার পর ঘন্টা খেলা করতে সে। সাঁতার নিয়ে কিছু করার যে স্বপ্ন দেখে ছিল সে তা ভোলেনি আহম্মদ গাজী। এক পা দিয়েই একটু একটু করে এগিয়ে সে আজ বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলে। চলতি মাসে গুজরাট এর গোদরা স্পোর্টস কম্পল্পেক্স এ প্রতিবন্ধীদের সাঁতার ম্যারাথান প্রতিযোগিতায় দশ ঘণ্টা ধরে সাঁতার কেটে গ্রিনিস বুক অফ ওয়াল্ড রেকর্ড এ নাম লেখায় সে। এখন তার এক মাত্র স্বপ্ন ইংলিশ চ্যানেল, বাংলাদেশের একটি চ্যানেল সহ বেশ কয়েক টি চ্যানেল পার হওযা। তবে তার এই স্বপ্ন ক্ষিন হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের অভাবের কারনে। তার এই অর্থের অভাবে খানিকটা মেটাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে এলাকার তাজউদ্দিন মোল্লা, আসরাফুল লস্কর, বাবু বৈদ্য, বিট্টু মণ্ডল সহ আরো অনেকে। আজ তাকে সম্বর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যও করেন তারা। এই আর্থিক সাহায্য পেয়ে কিছুটা বুকে সাহায্য পেয়েছে আহম্মদ গাজী। তাকে সাহায্য করতে পেরে খুশি এলাকার মানুষ। আগামী দিনে তার পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here