নিজস্ব প্রতিনিধি  : মতুয়া মহাসঙ্ঘের  বড়মা বীণাপাণি দেবী আর নেই। রাত ন’টা তিনি শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন।  আজ সকালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয় । ওই সময় থেকেই মাল্টি অর্গান ফেলিওর হওয়ায় বড়মার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকমতো কাজ করছিল না। সকাল থেকে তিনবার মেডিকেল বোর্ড বসে । অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলেও ঔষধে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না । বিকেলের পর থেকে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়।
সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম-এ আসেন। জানা গিয়েছে গান স্যালুটে বিদায় জানানো হবে তাঁকে। বড়মার আত্মার শান্তি কামনা করে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর বয়স একশো পেরিয়েছিল। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় গাইঘাটের ঠাকুরবাড়িতে কার্যত শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতি হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বীণাপাণি দেবী।

তাঁর পুত্রবধূ মমতাবালা ঠাকুর বনগাঁর সাংসদ। তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় শতায়ু বড়মার। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক ছিল যে, জ্ঞান হারান তিনি। তড়িঘড়ি বীণাপাণিদেবীকে ভরতি করা হয় কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা তো ছিলই, তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাও ওঠানামা করছিল। কল্যাণীর হাসপাতালে বড়মাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রবিবার বীণাপাণি দেবীকে আনা হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। বড়মার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে রাজ্য সরকার। কিন্তু বড়মার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। শেষমেশ মঙ্গলবার পাঁচজন চিকিৎসককে নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়। কিন্তু তাতেও বাঁচানো সম্ভব হল না ।

মঙ্গলবার অসুস্থ অবস্থায় যখন বড়মা হাসপাতালে ভরতি ছিলেন, তখন তাঁকে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যখন কেউ মতুয়াদের চিনত না, মতুয়াদের বড়মাকে চিনত না, তখন থেকে বড়মার সঙ্গে হৃদ্যতা তাঁর। ২০ বছর ধরে তাঁরা একে অপরকে চিনতেন। বড়মাকে নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তিনি সেসব প্রসঙ্গ তুলতে চান না। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে কাছের লোকের পাশে থাকা খুব দরকার।

পুত্রবধূ মমতাবালা ঠাকুর সর্বক্ষণ তাই করছেন। বীণাপাণি দেবীর পাশে রয়েছেন তিনি। “এর আগে অনেকবার অসুস্থ হয়েছেন বড়মা। প্রতিবারই তাঁকে সুস্থ করে নিয়ে যেতে পেরেছি। এবারও নিয়ে যেতে পারলে খুশি হব। কিন্তু সব সময় সব কিছু তো আর মানুষের হাতে থাকে না। ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন।” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।<br>
বড়মার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্রের মতো অনেক মন্ত্রী উপস্থিত হয়েছেন এসএসকেএম হাসপাতালে। তাঁর প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, বড়মার মৃত্যুতে মতুয়া মহাসংঘের বড় ক্ষতি হল। বুধবার সকাল আটটা নাগাদ তাঁর দেহ বের করা হবে হাসপাতাল থেকে। গান স্যালুটে বড়মাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে ।<br>

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here