মালদা : মহাজনের  টাকা পরিশোধ না করতে পারায় এক কৃষক প্রান হারালেন। জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মহাজনদের ঋণ শোধ করতে না পেরেকীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক কৃষক।

শুক্রবার ভোরে মৃতের বাড়ি থেকে ৫০ মিটার দূরে ফাঁকা জায়গা থেকে ওই কৃষকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বামনগোলা থানার জগদ্দলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পরমেশ্বরপুর গ্রামে।বামনগোলা থানার জগদ্দলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পরমেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা সাঞ্জু মন্ডল। পরিবারে তাঁর স্ত্রী বিমলা মন্ডল এবং তিন ছেলেমেয়ে রয়েছে।

বাড়ি থেকে সামান্য দূরে তিন বিঘা জমি রয়েছে তার। আষাঢ় মাসে সেই জমিতে স্বর্ণা ধান লাগিয়ে ছিলেন তিনি। এই ধান চাষের জন্য বাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার করেছিলেন মহাজনদের কাছ থেকে।

কিন্তু বৃষ্টির অভাবে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। অগ্রায়হন মাসে ধান তোলার কথা ছিল। কিন্তু জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন সাঞ্জু মন্ডল। এর উপর পাওনাদারদের চাপ ও ক্রমাগত বারছিল।

তারই জেরে বাড়ির লোকেদের অলক্ষ্যে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।মৃতের স্ত্রী বিমলা মন্ডল জানিয়েছেন, তার মৃত শশুরের নামে জমি রেকর্ড থাকার ফলে কিষান কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড স্বামী করতে পারেন নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমি রাজস্ব দপ্তরে গিয়েও জমি রেকর্ডের কোন কাজে করা যায় নি। ফলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত ছিলেন। স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে ধান চাষ শুরু করেছিলেন তার স্বামী। কিন্তু তাতে প্রচুর পরিমাণে লোকসান হয়ে যায়। টাকা জোগাড় করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন স্বামী সাঞ্জুমন্ডল ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here