কাটোয়ায়  দেবাসিন চণ্ডীমাতার পুজোয় ভোগে    প্রধান উপকরণ হল মাগুর মাছ 

0
49

গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, কাটোয়া: পূর্ব-বর্ধমানের কাটোয়া ২নং ব্লকের সিঙ্গি গ্রাম পঞ্চায়েতের আমূল গ্রামে রয়েছে দেবাসিন চণ্ডী মা। মহানন্দা নবমীতে দেবাসিন চণ্ডীমাতার পুজোকে ঘিরে মেতে উঠেছে কাটোয়ার আমূলগ্রামের বাসিন্দারা।

সেবাইত কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন,শরৎকালে এখানে দুর্গাপুজো হয় না।তার পরিবর্তর মাঘ মাসে দেবাসিন চণ্ডীমাতার পুজোকে ঘিরে মেতে উঠেন আমূলগ্রামের বাসিন্দারা। এই গ্রামে দ্বিতীয় কোনো দুর্গাপুজো হয় না।

৪০০ বছর আগে মা এখানে বিরাজমান হয়ে আছে। মায়ের মূর্তি দুর্গা রূপে কিন্তু এখানে দেবা সিন চন্ডী নামে পূজিত হয়। মায়ের পাষাণ মূর্তি ও আছে মা। এখানে সারা বছর পূজো হয়।বাৎসরিক মায়ের পুজো মহানন্দা নবমীতে অনেকের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়।

মা সরস্বতী পুজোর পরে যে নবমী হয় সেই নবমী তিথি ধরে মায়ের পূজা হয় । এই পূজার বিষয় প্রত্যেকটা পঞ্জিকাতে উল্লেখ আছে।

এখানে প্রত্যেকটা জেলার লোক আসে যেমন বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ ও ভারত বর্ষের বহু দূরের লোক এখানে মাকে দর্শন করতে আসে।বৃহস্পতিবার মায়ের মহা পুজো হচ্ছে।দেবাসিন পুজো বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুজো হলেও বর্তমানে তা সর্বজনীন পুজোর চেহারা পেয়েছে।

এখানে দুটি মূর্তি রেখে পুজো করা হয়। একটি আদি শিলা মূর্তি ও অপরটি মৃন্ময়ী মূর্তি। একদিনের পুজো হলেও আচার মেনে উৎসব চলে চারদিনই।সপ্তমী থেকে নবমী এই তিথির পুজো শেষ করতে হয় নবমীতে।প্রতিবছর মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরি হয় না।চারবছর অন্তর পাল্টানো হয়।

ভক্তদের জন্য মহা ভোগ বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি বড় মেলা বসেছে মায়ের মন্দিরের সামনে।তিনদিন ধরে রয়েছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেমন বাউল,যাত্রা ও বিচিত্রানুষ্ঠান।প্রতিদিন মায়ের নিত্য সেবা পূজা হয় এবং ভোগ ও সন্ধ্যা আরতি হয়। মায়ের ভোগে লাগে মাগুর মাছ। । পুজোকে ঘিরে মন্দিরচত্বরে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here