মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের প্রতিষ্ঠিত রানাঘাটের প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী কালী বাড়ি আজ ও ঐতিহ্য বহন করে চলেছে

0
216

নদীয়ার রানাঘাটে অবস্থিত সিদ্ধেশ্বরী কালী মাতার মন্দির আনুমানিক তিনশো বছরের পুরনো। এই মন্দিরে প্রত্যেক বছর কালী পূজার দিন তৎকালীন সময় থেকেই শাক্ত মতে মায়ের আরাধনা করা হয়।

প্রাচীন এই মন্দিরের কুলো পুরোহিত বংশের এক সদস্য মলয় গাঙ্গুলী বলেন, আজ থেকে প্রায় সাতশো বছর আগে চূর্ণী নদীর পাড়ে এই অঞ্চল ছিল রানা ডাকাত নামে এক দোর্দন্ডপ্রতাপ ডাকাতের বাসভূমি। সেই সময় নদী থেকে কিছু দূরে একটি প্রাচীন অশ্বত্থ গাছের কোটরে এই সিদ্ধেশ্বরী মাতার মূর্তি স্থাপন করে আরাধনা করতেন রানা ডাকাত ও তাঁর সহচরেরা। রানা ডাকাতের নাম অনুসারে পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের নাম হয় রানাঘাট বলে দাবি করেন সেবায়েত মলয় গাঙ্গুলী।

প্রসঙ্গত আনুমানিক ৩০০ বছর পূর্বে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকালে একদিন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই চূর্ণী নদী দিয়ে তাঁর লোক লস্করদের সাথে নিয়ে জলপথে হালিশহর যাওয়ার সময় দূরের জঙ্গল থেকে একটি শিশু কন্যার কান্নার আওয়াজ শুনতে পান এবং সেই কান্নার আওয়াজের অনুসন্ধান করতে গিয়ে একটি প্রাচীন বটবৃক্ষের কুঠুরি থেকে মা সিদ্ধেশ্বরী একটি ছোট্ট মূর্তি আবিষ্কার করেন। জানা যায়, এরপর বেশ কয়েক দিন রাত্রে ঘুমের মধ্যে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র পুনরায় মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নাদেশ পান। প্রথম দিকে বিষয়টি তিনি গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ বিষয়টি তাঁর কাছে পরিস্কার হয়ে যায় এবং তিনি নতুন করে মায়ের মূর্তি ও মন্দির নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে তৎকালীন সময়ে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত মা সিদ্ধেশ্বরী মূর্তি এখনকার মূর্তির তুলনায় আকারে অনেকটাই ছোট ছিল বলে জানা যায়। কথিত আছে, তৎকালীন সময়ে কোন এক সাহেব ছলনার বশে মায়ের মূর্তি স্পর্শ করে ফেলার কারণে সেই পূর্বের নির্মীয়মান মূর্তিকে পরিবর্তন করে আকারে বড় কষ্টিপাথরের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শোনা যায় এরপর থেকে সেই মায়ের মূর্তি ই এখনও পর্যন্ত ধর্মীয় শাক্ত মতে পূজিত হয়ে আসছে।

একসময় কালী পূজার দিন এখানে নরবলি দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন মন্দিরের সেবাইত গাঙ্গুলী পরিবারের সদস্যরা।বর্তমানে সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের পাশাপাশি সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরের সংগে রাধাগোবিন্দ মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার কারণে বলি প্রথা উঠে গিয়েছে তবে পৌরানিক নিয়মনুসারে প্রতিবছর কালী পূজার সময় বলির উদ্দেশ্যে আনা পশুকে মায়ের কাছে উৎসর্গ করে মুক্ত করে দেওয়া হয়।কালী পূজার দিন দূরদূরান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মানুষ আজও ছুটে আসেন মা সিদ্ধেশ্বরী কে দর্শন করার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here