নিজস্ব সংবাদদাতা : পুজোর ঠিক মাস দুয়েক আগে কলকাতার বাগরি মার্কেটে আগুন লাগে । মেয়র তখন শোভন চট্টোপাধ্যায় । তিনি তখন দমকল মন্ত্রীও বটে । প্রায় শত কোটি টাকার ধ্বংসাবশেষ তখন বাগরি ।

সেখানে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আঙুল তুলেছিলেন প্রাক্তন মেয়রের দিকে । অবশ্যই দিদির অনুপ্রেরনায় যাবতীয় দোষ চাপিয়ে ছিলেন শোভনের ওপরে ।

তারপর আবার দিদির অনুপ্রেরনাতেই আজ মেয়র ফিরহাদ হাকিম । মাত্র কয়েকমাস গড়িয়েছে তাঁর মেয়রত্ব প্রাপ্তির আর তারমধ্যেই একডজনেরও বেশি আগুন লাগার ঘটনা । আর সেই আগুনের বলি এবার ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র বিপনী ট্রেডার্স এ্যাসেম্বলী।

শনিবার গভীর রাতে যখন এলাকা ঘুমে আচ্ছন্ন, সে সময়ে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে গড়িয়াহাট মার্কেটে। খবর পেয়ে দমকলের ২০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং একাধিক দমকল কর্তাও। শনিবার গভীর রাতের সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রবিবার বেলা ১১টা বেজে যায়।

প্রায় দশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লড়াই চালানোর পর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় আগুন।
দমকল সূত্রের খবর,  গড়িয়াহাট মোড়ে শনিবার গভীর রাতে একটি পাঁচ তলা বহুতলে আগুন লাগে। বহুতলের নীচে কাপড়ের দোকানে প্রথমে আগুন লাগে। সেখান থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ে। ওই বাড়িতে রয়েছে নামী পোশাকের বিপণি-সহ বেশ কিছু দোকান ও আবাসিক ফ্ল্যাট।তাতে থাকেন জনা ৪৫। আগুন লাগে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ। প্রাথমিক ভাবে, আগুনের জেরে কয়েক জন আবাসিক আটকে পড়েন বলেও দমকল সূত্রে জানানো হয়েছিল। তবে, আটকে পড়া প্রত্যেককে উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে রবিবার সকালে দমকলের তরফে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দমকল কর্মীরা জানাচ্ছেন, আগুন লাগার পরে বাকি সব বাসিন্দা নেমে এলেও পা ভাঙা থাকায় এক মহিলা আটকে পড়েন।

এখনও আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক ভাবে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পরই আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট জানা যাবে বলে দমকলের তরফে জানানো হয়েছে।
দমকল কর্মীরা জানান, বাগরির মতো এ ক্ষেত্রেও পকেট ফায়ারের কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছিল। দাহ্য পদার্থ থাকায় দ্রুত আগুন পাশের কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ফলে এলাকাবাসীরা। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক ছিল না বলে দমকলের তরফে অভিযোগ করা হয়। দমকলের অনুমান বাইরে থেকে আগুন লেগেছে। পরে তা ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে ।
এবারেও কয়েক কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে । সব মিলিয়ে কলকাতা আছে কলকাতাতেই । আগুনে সর্বস্ব হারানোর আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটবে তার । মেয়র বদলে নতুন মেয়র আসবে কিন্তু তার প্রতি আঙুল তোলার লোক পাওয়া যাবেনা এখন কারন সেক্ষেত্রে অনুপ্রেরনার বড়ই অভাব ।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here