শ্যামলেন্দু মিত্র # জল বাচান, জীবন বাচান। মুখ্যমন্ত্রী  মমতা ব্যানার্জি এই স্লোগান তুলে কলকাতায় মিছিল করলেন। তার এই উদ্দেশ্য শুভ। মিছিল দেখতে ভাল। সরকারি অফিসার  বুদ্ধিজীবীরা হাটলেন মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে পায়ে।

# কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়।

বাম আমল থেকে পুকুর ভরাট করে নির্মান কাজ যে চলছে তার বিরাম নেই গত আট বছরে। সেই ট্র‍্যাডিশন সমানে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ২০১১ সালে ভোটের ইস্তাহারে তার দল জানিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে ৫০ হাজার পুকুর কাটা হবে।

# গত ৮ বছরে তার সরকার ৩ লাখ পুকুর কেটেছে।

রাজ্যে  ৩৮ হাজার মৌজায় ৪১ হাজার গ্রাম আছে।  শহরাঞ্চলে পুকুর কাটার সুযোগ নেই কারণ ফাকা জমি কোথায়? তিন লাখ পুকুর কোথায় কাটা হয়েছে তা এলাকা ধরে হিসেব করলেই জানা যাবে।

শহরাঞ্চলে পুকুর ভরাটের প্রবণতা বেশি। কারণ এখানেই প্রমোটারির দৌরাত্ম। এখানেই মানুষের হাতে টাকা। বাড়ি ও ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি।

বামেরাই পুকুর ভরাটের মদতদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী

বলেছিলেন,শহরাঞ্চলে পুকুর রাখার দরকার নেই। কারণ,শহরের বাতাসে আদ্রতা বেশি পুকুর থাকার ফলে।

# এই আমলে মুখ্যমন্ত্রী বারবার পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কিন্তু পুকুর ভরাট হয়েই যাচ্ছে।

# কলকাতার মেয়র পুকুর ভরাটের কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, শহরের নতুন এলাকায় প্রায় ৬০ টি পুকুর ভরাট হয়েছে। তিনি এই পুকুর ভরাটের জন্য পুলিশকে কার্যত দায়ি করেছেন। পুলিশ অবশ্য পুকুর ভরাটের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলারদের মদতকেই কার্যত দায়ি করেছে। যাইহোক এই ৬০ টি পুকুর ভরাটের বিষয়ে মেয়র কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

# অনেক দিন আগের কথা। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করলেন মার্কিন যুক্ত্ররাষ্ট্রের বাঙালি বিজ্ঞানি মনি ভৌমিক।  তমলুকের গরিব ঘরের ছেলে মনি ভৌমিক  বিশ্ববিখ্যাত  তার লেজার আবিষ্কারের জন্য। তার রয়ালটিতে তিনি বিলোনিয়ার। তিনি বুদ্ধবাবুর কাছে প্রস্তাব দেন,কলকাতায় একটি আন্তর্জাতিক  মানের শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করবেন। তার জন্য তিনি টাকা দিয়ে জমি কিনতে চান। রাজ্য সরকারকে তিনি ৫ কোটি টাকা দিলেন। রাজ্য সরকার তাকে বাই পাশের ধারে ৫ একর জমি দিল। জমির দখল নিতে গিয়ে তিনি দেখলেন,তাকে যে জমি দেওয়া হয়েছে তা জলাশয়।

এই জলাশয়ে যারা মাছ চাষ করেন  সেই মতস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা আপত্তি তুললেন। রাজ্য সরকার তা না মেনে ওই ৫ একর জলাশয় ভরাট করার জন্য উদ্যোগী হল। ওই সমিতি মতস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দকে জানালেন। তিনি আপত্তি তুললেও তা ধোপে টেকে না।

তারপর মতস্যমন্ত্রীর মদতে সমবায় সমিতি হাইকোর্টে মামলা করলো।

মতস্য দফতর উকিল দিল। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে জলাশয় ভরাট আটকে গেল।

এই নিয়ে আমি ও আমার সহকর্মী মিলন দত্ত আনন্দবাজারে লিখলাম।

তা নিয়ে আমাদের চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। আনন্দবাজারের সম্পাদক অভীক সরকার উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্য সরকারের জলাশয় ভরাটের কাজকে সমর্থন করলেন।

আমাদের সঙ্গে সম্পাদকের বিতর্ক হল।

# প্রশ্ন হল, পুকুর ভরাট হয় ও হচ্ছে সরকারের মদতে।  পুরসভার

# কাউন্সিলার ও কমিশনারের মদত না থাকলে একটা পকুরও ভরাট হতে পারে না।

# উত্তরপাড়া-কোতরং পুরসভায় একের পর এক পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পুর কমিশনার চেয়ারম্যান নীরব দর্শক।

# বেলঘড়িয়ার আদর্শনগরে একটি সমবায় সমিতির  জলাশয় ভরাট করে দেওয়া হয়েছে স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যানের মদতে। ওই জলাশয় আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে।

#গ্রিন নাগরিক নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উত্তর শহরতিলিতে একাধিক ক্লাবকে নিয়ে পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছে।

তারা অনেক পুকুর ভরাট রুখে দিয়েছে। সম্প্রতি তারা গাছ কাটার বিরুদ্ধে মামলা করায় তা নিয়ে হৈচৈ হয়। শেষ পর্যন্ত একটি গাছ কাটার খেসারত হিসেবে ১০ টি গাছ লাগানোর শর্তে মামলা তুলে নিয়েছে গ্রিন নাগরিক। তাদের হিসেবে সিথি এলাকাতেই অন্তত ২০ ট পুকুর ভরাট হয়েছে কাউন্সিলারদের মদতে।

# পুকুর ভরাট রুখতে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া হতে হবে,যেমন তিনি কাটমানি নিয়ে সরব হয়েছেন।

# কাটমানি ফেরতের মতো ভরাট হয়ে পুকুর আবার খুড়ে আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে কি মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হবেন?

পুলিশের উপর দোষ চাপিয়ে পুকুর ভরাটের মতো অপরাধকে এড়িয়ে যাওয়া কি ঠিক?

# পুকুর ভরাট নিয়ে সাধারণ মানুষ ফুসছে কাটমানির মতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here