মদনমোহন সামন্ত, ১৩ জুলাই, কলকাতা :
শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ, অথচ জাতির ভবিষ্যৎকে শপিং মলের মোটা প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগে জড়িয়ে ব্যাকপ্যাকে ভরে দুই মহিলা কসবার নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের শৌচাগারের কোনে রেখে চলে গেলেন।

যেমনভাবে পৌঁছেছিলেন তেমন ভাবেই। কলেজের শৌচাগার থেকে গত ২৬ জুন রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হয়েছিল এক সদ্যোজাতের দেহ। নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সদ্যজাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলেজের প্রবেশদ্বারে এবং অন্যান্য স্থানে লাগানো সিসি ক্যামেরাতে যে ছবি ধরা পড়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে দুই মহিলা, যাদের একজনের পরিধানে নীল বস্ত্র এবং অন্য জনের পরিধানে গোলাপি বস্ত্র, কলেজের প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ঢুকছেন।

নীল বস্ত্র পরিহিতা মহিলার পিঠে কালো রঙের ভারী ব্যাকপ্যাক। তিনি প্রথম ঢুকছেন, তার পিছু পিছু ঢুকছেন গোলাপি বস্ত্র পরিহিতা মহিলা।

তারা তড়িঘড়ি সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছেন কলেজের তিনতলার শৌচাগারে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তারা সেখান থেকে নেমে এসে প্রবেশদ্বার দিয়েই বেরিয়ে যাচ্ছেন। নীল বস্ত্র পরিহিতা মহিলার পিঠের ব্যাকপ্যাক তখন হালকা। দেরিতে খবর পেয়ে কসবা থানার পুলিশ তদন্তে নেমেছে। সব দিক খতিয়ে দেখছে তারা। তবে এ নিয়ে এখনই কিছু মন্তব্য করতে চাইছে না। তারা জানিয়েছে, এখনও সবকিছু জানানোর সময় হয়নি। অবশ্য কলেজ কর্তৃপক্ষ অনুমান করছেন, দুই মহিলার মধ্যে একজন কলেজের বর্তমান ছাত্রী হতে পারেন। তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন তারা। অনুমান তারাই ক্যারিব্যাগে জড়িয়ে শিশুটিকে শৌচাগারের এক কোনায় রেখে যান। সাফাই কর্মী দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে সদ্যজাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অধ্যক্ষ সুকোমল দত্ত জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে লক্ষ্য করা গিয়েছে শৌচাগারে বেশি লোক ঢোকেনি। যারা ঢুকেছিল তাদের মধ্যে এই দু’জন একসঙ্গে ঢুকেছিল সরাসরি। পাঁচ মিনিটের মধ্যে দু’জনেই শৌচাগার থেকে বেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে যান। সন্দেহভাজন দুজনের কথা পুলিশকে জানানো হয়েছে। কলেজ থেকে সিসি ক্যামেরার ত্রিশ ঘণ্টার ফুটেজ পুলিশ নিয়ে গিয়েছে এবং সেটি দেখে তারা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদন্তের কাজ চালাচ্ছে। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশের তদন্তের শ্লথ অগ্রগতিতে মোটেও খুশি নন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here