শ্যামলেন্দু মিত্র # বাংলায় তৃণমূল যে ব্যাকফুটে তা কৌশলবিদ প্রশান্তকিশোরের শরণাপন্ন হওয়াতেই জলের মতো পরিস্কার হয়ে গেছে।

# যে মমতা ব্যানার্জি দোর্দণ্ড প্রতাপ সিপিএমকে হারিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এল,তার কী এমন হলো যে কৌশলবিদের পরামর্শ ছাড়া এক পা এগোতে পারছেন না!

# মমতা ব্যানার্জি নিজের দলের নেতা-কর্মীদের কাটমানি ফেরতের মতো কেস খাইয়ে নিজেকে আবার সততার প্রতীকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিজেপির কাছে ৪২এ ১৮ গোল খেয়ে তিনি দিশেহারা। দলকে শুদ্ধিকরণ করতে উদ্যোগী হয়েছেন।

# দল আর প্রশাসনকে আর এক সারিতে ফেলা যাবে না।

দল দলের মতো চলবে। প্রশাসন ও দলে এক নেতা থাকতে পারবেন না।

তাই যদি হয় তাহলে প্রথমেই ড.পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একটি পদ ছাড়তে হবে। হয় শিক্ষামন্ত্রী থাকবেন না হলে দলের মহাসচিব থাকবেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেও (বালু) একইভাবে খাদ্যমন্ত্রী বা দলের উত্তরচব্বিশ পরগণার সভাপতি, একটা পদ ছাড়তে হবে।  দলের হুগলির সভাপতি তপন দাশগুপ্তের পদ চলে গিয়েছে। তিনি এখন মাত্র কৃষি বিপণনমন্ত্রী।

# এইভাবে সব নেতাদের ক্ষেত্রে এক ব্যক্তি এক পদ।

# আসলে প্যান্ডোরা বাক্স তিনি নিজেই খুলে দিয়েছেন।

নিজের ইচ্ছেই খুলেছেন, না কৌশলবিদের পরামর্শে?  এটা মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন।

# যাইহোক দলকে যে শুদ্ধিকরণের মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়ে আবার পুরনো মেজাজে ফেরাতে যে তিনি চান,এই নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই।

# এদিকে, যে বিজেপির জুজু দেখছেন তিনি সেই বিজেপি ১৮ টি সিট জিতে ও বাকি প্রায় অন্য সিটে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে কি সঠিক পথে এগোতে পারছে?

# বাংলায় দলের হুরুমদুরুম কাজকর্মে বিজেপি ও আরএসএস সন্তুষ্ট নয়। আরএসএসের মুখপত্রে যেভাবে অন্য দলের আজেবাজে নেতা-কর্মীদের দলে নেওয়া হচ্ছে তার তীব্র বিরোধিতা  করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে দলে নেওয়ার পরে আবার পুরনো দলে ফিরে যাওয়া নিয়ে।

# প্রশ্ন উঠেছে, মনিরুল ও শঙ্কুদেবদের মতো লোককে কি আদৌ নেওয়ার দরকার ছিল?

# কৃষ্ণনগরে দল হেরে যাওয়ার পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দিলীপবাবু অবশ্য তার মন্তব্য থেকে সরে না এসে বরং জোর গলায় যুক্তি দিয়েছেন, কৃষ্ণনগরে হিন্দুরা যখন মুসলমানদের কাছে মার খায় তখন বিজেপি তাদের পাশে দাঁড়ায়। আর  তারা অন্যকে ভোট দেয়, ভোট দেয় না বিজেপিকে। তাই বলেছি, হিন্দুদের শিক্ষা  হোক। হিন্দুরা আরও মার খাক। তিনি  হিন্দুদের উপর অভিমানে এই কথা বলেছেন।

# মুকুল রায়  রোজ বলছেন, তৃণমূল থেকে তার কাছে ফোন আসছে বিধায়ক-সাংসদদের। এই ধরনের কথাবার্তা আরএসএস ভালো চোখে দেখছে না।

# দিলীপবাবু অবশ্য বলছেন, দল বদল রাজনীতির অঙ্গ। তবে কাদের দলে নেওয়া হবে তা আমরা ঠিক করবো।

# কাটমানি ইস্যু নিয়ে তিনি পরিস্কার করে দিয়েছেন, এটা সাধারণ গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের আন্দোলন। আর এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। আমরা শুধু এই আন্দোলনকে সমর্থন করছি।

# এটা ঠিকই মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে কাটমানি ফেরত দিতে বলায় গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষ বুকে বল পান। তারা টাকা ফেরতের জন্য রাস্তায় নামেন। এটাও ঠিক অনেকে টাকা ফেরত পাচ্ছেন। অনেক নেতা-নেত্রী টাকা ফেরতের ভয়ে পাড়া ছাড়া।

# তোষণ বাংলার ভোটে একটা উল্লেখযোগ্য ইস্যু হয়ে দাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এর কারণ। বাংলার ভোটে মেরুকরণ আগে হয়নি। এই ক বছরে হিন্দুরা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। না হলে বিজেপি এত ভোট পেত না। তাই আগামী ভোটে এই ইস্যুকে কীভাবে তৃণমূল মোকাবিলা করবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

কৌশলবিদ এই নিয়ে এখনও প্রবেশ করেনিনি মেরুকরণের রাজনীতির প্রসঙ্গে।

তাই বিজেপির আগ্রাসন  ও দলের ব্যাকফুট থেকে ঘুরে দাড়াতে কতটা সহায়ক হবে মমতা-প্রশান্তকিশোর জুটি, তাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here