শ্যামলেন্দু মিত্র # এতদিন মমতা ব্যানার্জিকে দেখে ও তার কথাকে বিশ্বাস করে মানুষ ভোট দিয়ে এসেছে তৃণমূলকে।

তিনি নিজেও বারবার বলেছিলেন, ধরে নিন সব সিটে মমতা ব্যানার্জি প্রার্থী।

সেই অনুযায়ীই চলে আসাছিল।

# কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী শূন্য করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হলো। মানুষ চটে গেল।

# পাচ বছর অন্তর একটা ভোট,তাও দিতে পারলাম না।

# ঠিক আছে এর প্রতিশোধ নেবো পরের ভোটে।

# লোকসভা ভোটে মমতা ম্যাজিক কাজ করলো না।

বিজেপির সংগঠন না থাকা সত্বেও সাধারণ মানুষ ওই দলকেই আকড়ে ধরলো। ব্যাপক প্রতিরোধের মধ্যে সেন্ট্রাল ফোর্স থাকায় মানুষ ভরসা করে বুথে গেল ও তৃণমূল বিরোধী ভোট হলো।

# বিজেপি ১৮ টি সিট জিতেছে,কিন্তু প্রায় সব সিটেই দ্বিতীয় স্থান দখল করে তৃণমূলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে।

# এই অবস্থায়  তৃণমূল সুপ্রিমো বুঝে গেছেন যে তার একার পক্ষে আর ভোট বৈতরণী পার হওয়া কঠিন।

তাই ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক ডাক্তার পরামর্শ দিচ্ছেন আর দলনেত্রী তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন।

# কাটমানি ফেরতের কথা বলে বিতর্ক বাধিয়েছেন। এখন বলছেন,বিধায়করা এ নিজের এলাকা চষে ফেলুন। সাধারণ মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করুন। মানুষ কী বলছেন শুনুন। বাড়ি বাড়ি যান।

।।।।কিন্তু সমস্যাটা অন্য যায়গায়।।।।

# একজন বিধায়ক প্রতিনিধিত্ব করেন কমপক্ষে দু’লাখ  মানুষের। গ্রামের দিকে ১২ থেকে ১৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত তার নির্বাচনী এলাকায় পড়ে।  ফলে বিধায়করা নির্ভরশীল তৃণমূল স্তরের কর্মী ও নেতাদের উপর। তারা এলাকায় ভাল কাজ করলে ভাল প্রভাব পড়ে এলাকায়,আর খারাপ কাজ করলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া হয়।

# কাটমানি বা বখরা তো আজ নতুন নয়।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বলায় তা অন্য রকম মাত্রা পেয়েছে।

বিজেপি এর ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে এটা যেমন ঠিক কাটমানি যে মহামারি হয়ে গেছে সেটাও ঠিক।

# সিন্ডিকেট রাজ যেমন প্রতিষ্ঠিত তোলাবাজি,তেমনি পাড়ায় পাড়ায় কাটমানি নেওয়া প্রতিষ্ঠিত।

# এখন প্রশ্ন, সব জেনেশুনে নিজের সততাকে বাজি রেখে দলনেত্রী কেন কাটমানির মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে খুচিয়ে দিলেন?

দলনেত্রী  হয়তো অনেক ভেবেই এটা করেছেন। তাতে এতটা ব্যুমেরাং হবে তা হয়তো বুঝে উঠতে পারেননি।

# এখন বিধায়কদের বলেছেন, তার এলাকার ৪ জন কর্মী বাছাই করতে হবে। যারা এলাকার ভোটে কৌশলী ভূমিকা নিতে পারবেন।

# বিধায়করা জানেন, কাটমানি কেসে এলাকায় এলাকায় মানুষ ক্ষিপ্ত। এর মধ্যে বিধায়কদের কাজ করা শক্ত।

আসলে বিধায়করা নির্বাচিত ঠিকই। কিন্তু তারা সরাসরি প্রশাসনে যুক্ত নন। তৃণমূল স্তরে গ্রাম পঞ্চায়েত,তাদের হাতে বছরে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা আসে। ফলে সেখানেই মানুষের ভিড়। পঞ্চায়েত  সমিতি ও জেলা পরিষদে তারা অপাংক্তেয়।

# ফলে বিধায়কদের নির্ভর করতে হবে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের কর্মী ও নেতাদের উপর। এখন কাটমানি কেসে জর্জরিত প্রায় সব পঞ্চায়েত। তা কাটিয়ে ওঠা সময় সাপেক্ষ ও কঠিন।

কারণ বিজেপি মাথা চাড়া দিয়েছে সর্বত্র। ঠিক বা বেঠিক কেউ বিচার করছে না।

# রাস্তায় পকেটমার ধরা পড়লে পাবলিকের যে মানসিক অবস্থা হয়,মার মার করে তেড়ে যায়,

কাটমানি কেসে অনেক সময় তলিয়ে দেখছে না কেউ। ভাল লোকও মার খেয়ে যাচ্ছে।

# তাই এই অবস্থায় এলাকায় এলাকায় ঘুরে বিধায়কদের যে দলনেত্রী কাজ করতে বলেছেন  সপ্তাহে সাতদিনই,তাতে তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হল। কারণ,আর দলনেত্রীর ফ্লেক্স টাঙিয়ে ভোট হচ্ছে না,এটা পরিস্কার হয়ে গেছে। তাই রাজনৈতিক  ডাক্তার প্রশান্ত কিশোর যা যা ফরমুলা বা দাওয়াই দিচ্ছেন তা তেতো হলেও গিলতে হচ্ছে।

# ডাক্তারের কথা রোগীকে মানতেই হবে।

রোগী ঠিক হয়ে যাবে কি না এই প্রশ্ন ডাক্তারের কাছে তোলা যায় না। ডাক্তার সব সময় বলে থাকেন, রোগীকে সুস্থ করাই তাদের কাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here