শ্যামলেন্দু মিত্র # সিঙ্গুর পেল না শিল্প। হারালো চাষের জমি। শুধু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থাকলো সিঙ্গুর।

এ এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা।।।।

এ এক পাপ।।।।

# সিঙ্গুরের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে সিঙ্গুর-চাষীদের।

সিঙ্গুরে শাসক হেরে গেছে লোকসভা ভোটে।

বাকি রয়েছে সিঙ্গুরের প্রায়শ্চিত্ত।

# ডা.বিধানচন্দ্র রায় মুখ্যমন্ত্রী,দুর্গাপুর স্টিল সিটি গড়ে উঠছে,টাটাদের সেখানে একটা কারখানা করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু টাটারা আসেনি দুর্গাপুরে।

# বিধান রায়কে বাংলার রূপকার বলা হয়।

# জ্যোতিবাবু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও বাংলার নব-রূপকার হওয়ার পথে যাননি।

# জ্যোতিবাবুর ছেড়ে যাওয়া জুতোয় পা গলাননি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

# # বুদ্ধদেব বাংলার নব-রূপকার হতে চেয়েছিলেন।

২০০৬ সালে ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে রতন টাটা বাংলায় তাদের মোটর কারখানা করার সিদ্ধান্ত নেন।

জমি দেওয়া হয় সিঙ্গুরে।

# বিরোধী রে রে করে ঝাপিয়ে পড়লেন। গেল গেল রব তুললেন,চাষের জমি সরকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। চাষীদের ভুল বোঝানো হলো

# ১৯০০ কোটি টাকা খরচ করেও টাটাদের সিঙ্গুর থেকে বিদায় নিতে হলো। উত্থান হলো বিরোধী দলের। পতন হলো শাসকের।

# বাংলার শিল্প সম্ভাবনার কফিনে পেরেক পুতলো সিঙ্গুর।

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

ভবিতব্য ঠিক হয়ে থাকে।

# বুদ্ধদেব হেরে গেছেন। সিঙ্গুর পড়ে আছে সেই তিমিরেই।

বিরোধীনেত্রী ক্ষমতায়, বুদ্ধদেব  ক্ষমতাচূত-অসুস্থ।

১০০০ একর চাষের জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল টাটাদের কারখানার জন্য বাজার দরে ক্ষতিপূরণ দিয়ে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাষীদের জমি ফেরত দিয়েছে সরকার। সেই জমির একটা অংশ চাষের অযোগ্য। বাকি জমিতেও চাষীদের চাষে অনীহা।

# মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সত্যটা বলেছেন বিধানসভায়।

# মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,  সিঙ্গুরে চাষের জমি কমেছে। চাষীরা ভাল দাম পেয়ে জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। সেই টাকায় চাষীরা অন্য কাজ করছেন।

# মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৮-২০১৯ সালে সিঙ্গুরে ৩৬০ একর জমিতে ৭৯২ জন চাষী চাষ করেছেন। তাতে চাষীর ফসলের মূল্য বছরে ২ কোটি টাকা।

# মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যসূত্র ধরে সিপিএম বিধায়ক প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে একজন চাষীর বার্ষিক লাভ ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি।  তাহলে চাষীর আয় তিনগুণ বেড়েছে বলে যে দাবি সরকার করেছে, তা তো টিকছে না।

# মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকে একটা জিনিষ পরিস্কার, সিঙ্গুরের চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত। তারা তাদের ভবিষ্যত নিজেরাই ঠিক করে নিয়েছে। চাষে তাদের আগ্রহ কমেছে। তাই অনেকেই তাদের জমি বিক্রি করে দিচ্ছে।

## আমি হুগলির চাষী পরিবারের ছেলে। আমি জানি,চাষে কিছু নেই। যার কিছু করার নেই সেই বাধ্য হয়ে চাষ করছে। চাষের খরচ যেভাবে বেড়েছে তার তুলনায় ফসলের দাম নেই।

# পাঞ্জাবের মতো এক লপ্তে বেশি জমি থাকলে তাতে ফার্মিং করলে তা লাভজনক হবে।  তার জন্য দরকার জমির সিলিং তুলে দেওয়া।

১০০ দিনের কাজের ফলে গ্রামে চাষের কাজে ক্ষেতমজুর পাওয়া যাচ্ছে না। যান্ত্রিক উপায়ে ধান কাটা ঝাড়া হচ্ছে। কিন্তু ছোট জমিতে যান্ত্রিক উপায়ে চাষের সমস্যা। আল দিয়ে জমি টুকরো থেকে টুকরো হচ্ছে। আল তুলে দিয়ে সমবায় বা চুক্তিতে চাষ হতে পারে। কিন্তু তাতে সরকারের উদ্যোগ নেই।

# তাই চাষীর ছেলে হোম গার্ড,সিভিক পুলিশের কাজ খুজছে। জমি বিক্রির টাকায় ঘুষ দিয়ে চাকরি চাইছে। # # #সিঙ্গুরের চাষীরা যে মুখ্যমন্ত্রীকে আর ভরসা করছেন না তা লোকসভা ভোটের ফলে তা প্রমাণিত।

# সিঙ্গুর থেকে জিতে হুগলি কেন্দ্র থেকে সাংসদ হয়েই লকেট চ্যাটার্জি ঘোষণা করেছেন,তার প্রথম কাজ হলো সিঙ্গুরে টাটাদের ফিরিয়ে আনা।

টাটারা ফিরবে কিনা তা তাদের উপর নির্ভর করছে। কিন্তু সিঙ্গুর ফিরে যেতে চায় কারখানাতেই। সিঙ্গুরকে যে ভুল বোঝানো হয়েছিল তার প্রায়শ্চিত্ত তারাই করতে চায়।

# একটা জিনিষ পরিস্কার যে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন ছিল রাজনৈতিক। তাতে চাষীদের স্বার্থের কথা ছিল না। না হলে সিঙ্গুরে শাসক দলের হার হতো না।

সিঙ্গুর বিরোধী নেত্রীকে ক্ষমতায় নিয়ে এলেও সিঙ্গুর নিয়ে তার বিবৃতির মধ্যেই তার ভুল সিদ্ধান্ত ধরিয়ে দিয়েছে তাকে।

# যাই হোক সিঙ্গুরে যে পাপকাজ করা হয়েছে তার প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য সিঙ্গুর তৈরি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here