মদনমোহন সামন্ত, ৯ জুলাই, কলকাতা : সংখ্যালঘুরা বিশেষ করে সোজা কথায় বলতে গেলে মুসলিমরা জুম্মাবারে অর্থাৎ শুক্রবারে নামাজ পড়ার দিনে নামাজ পড়তে গিয়ে সংখ্যাধিক্য হলে মসজিদ চত্বর ছাড়িয়ে রাস্তার উপরেও নামাজ আদা করেন।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে এহেন ধর্মাচরণে কেউ কখনও বাধা দেয় নি বা আপত্তি করেনি। সহানুভূতি এবং সহনশীলতার দ্বারা অন্যান্য ধর্মের মানুষজনও ধর্মাচরণের এমন রীতি স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিয়েছেন।

তাই মহানগরেও রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ধর্মাচরণে কোন অসুবিধা হয়নি কারও। শুধু তাই নয়, বহু স্থানে ছট্ পূজা, শীতলা পূজা সহ অন্যান্য নির্দিষ্ট কয়েকটি পূজা-পার্বণে রাস্তাঘাট আটকে ধর্মাচরণ করা হয়ে থাকে।

এ নিয়ে ধর্মসহিষ্ণু মানুষজন কখনও কোনও গোলযোগ করেননি। তবে আজ মঙ্গলবার বিকালে এ মহানগর সাক্ষী হয়ে রইল এক নতুন ধর্মাচরণের। যা আগামী দিনে ধর্মাচরণকে হয়তো নতুন সংজ্ঞা দেবে।

আহ্বান ছিল, ভাগোয়া বস্ত্র এবং “হনুমান চালিসা” নিয়ে রাম ভক্ত এবং হনুমান ভক্তদের মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ফাঁড়ির হনুমান মন্দির-এর সামনে সামূহিক “হনুমান চালিসা” পাঠ এবং আরতির জন্য উপস্থিত হওয়ার।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার সহ ভক্তদের যোগদান করতে বলা হয়েছিল। সকল রাম ভক্ত এবং হনুমান ভক্ত পরিষদের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তবে সকাল থেকেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, বিকালের “হনুমান চালিসা” পাঠ হবে রাস্তা আটকে। যেভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রয়োজনে কোন কোন ক্ষেত্রে জুম্মাবারে রাস্তার উপরে নামাজ আদা করেন ঠিক সেইভাবে। বাস্তব ক্ষেত্রে বিকালে দেখা গেল বালিগঞ্জ ফাঁড়ির হনুমান মন্দির-এর সামনে রাস্তার উপর প্রথমে জল দিয়ে ধোয়ানো হল। তারপর সেখানে গঙ্গা জল ছড়িয়ে ত্রিপল পাতা হল।

পুরোহিত মহাশয় এসে কপালে কমলা সিন্দুর-তিলক লাগানোর পর “হনুমান চালিসা” পাঠ করা হল এবং সন্ধ্যারতি করা হল। উদ্যোক্তাদের পক্ষে সুরজ কুমার সিং এবং বিবেক সিং জানালেন, রাস্তা আটকে রাস্তার উপর “হনুমান চালিসা” পাঠে কেউ কোনও রকম বাধা দেয়নি। কোন মহল থেকেও কোনও রকম বাধা আসে নি। রাস্তা আটকে যদি নামাজ পড়া যায় তাহলে “হনুমান চালিসা” পাঠ বা অন্যান্য ধর্মাচরণ কেন করা যাবে না! আগে এই কার্যক্রম জেলাতে নেওয়া হয়েছিল আজ খোদ কলকাতার বুকে অভিজাত এলাকার ব্যস্ত রাস্তায় এই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বালিগঞ্জ ফাঁড়ির পাশাপাশি বন্ডেল গেট-এর শ্যাম মন্দিরের সামনেও একই ধরনের কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here