শ্যামলেন্দু মিত্র # মেদিনীপুর পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলার মৌ রায় এক কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন স্থানীয় প্রমোটার বিদ্যুৎ ঘোষের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, আমি কারও কাছ থেকে একটা পয়সা নিইনি।

মুখ্যমন্ত্রী কাটমানি ফেরতের কথা বলার পর মেদিনীপুরের ওই প্রমোটার প্রকাশ্যে ওই মহিলা কাউন্সিলারের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। এই নিয়ে কাউন্সিলারের বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয় লোকজন।

প্রমোটার বলেছেন, টাকা দেওয়ার প্রমাণ আমি রাখিনি। কিন্তু ওই কাউন্সিলারকে আমি প্রমোটিং-এর জন্য টাকা দিয়েছি।

# মেদিনীপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার কাটমানি ফেরতের ঘটনায় যার পর নাই বিব্রত।

# # ওই তৃণমূল কাউন্সিলার মৌ রায়  গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন, দিদি আবেগের বশে কাটমানি নিয়ে প্রকাশ্যে এইসব বলে কি ঠিক করেননি। একে ভোটের এই রকম ফল,তার উপরে কাটমানি। বিজেপি একেবারে লুফে নিয়েছে। আমাদের কাজ করাই কঠিন হয়ে গিয়েছে। আমার কথা হয়তো দিদির খারাপ লাগতে পারে । দলের ছেলেরা কারও কাছ থেকে টাকা চাইলে তা কি প্রকাশ্যে বলা উচিত?  যারা এসব করছে,তাদের গোপনে ডেকে সাবধান করাই যেতো। দিদি যদি মনে করে থাকেন তিনি একাই সৎ,তাহলে ভুল করছেন। আমাদের মতো কিছু মানুষ আছে যারা সৎ।

# কাটমানি ফেরতের বিষয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ  মেদিনীপুরে সভা বলেছেন, সাধারণ মানুষ যান টাকা চাইতে। বিজেপি পাশে আছে।

# এদিকে,কলকাতা পুরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার এক প্রমোটার  ডাক্তার-নেতা তথা তৃণমূল সাংসদ-কাউন্সিলার শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে ৪২ লাখ টাকার কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ করেন।

# এবার সেই প্রমোটার সুমন্ত্র চৌধুরির বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন ডা.শান্তনু সেন। তিনি মামলা করার আগেই বলেছিলেন,তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রমোটার কাটমানি নেওয়ার  যে অভিযোগ করেছেন তা অসত্য।

# প্রমোটার বলেছিলেন,মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে কাটমানি ফেরতের কথা বলে অভয় দিয়েছেন বলেই তিনি কাটমানি নিয়ে অভিযোগ করার সাহস দেখিয়েছেন। এবং তিনি কাটমানি নেওয়া-দেওয়ার প্রমাণ দেবেন।

# কাটমানি ইস্যু এখন বাংলায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিজেপি এর ফায়দা নিচ্ছে।

# কিন্তু কাটমানি ইস্যু তো বিজেপি সৃষ্টি করেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ভুল বল তুলে দিয়েছেন,বিজেপি তা লুফে নিয়েছে।

# মমতা ব্যানার্জির মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ কেন কাটমানি ফেরত দিতে হবে বলে নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিপদের মুখে ঠেলেদিলেন?

# আসলে উনি অনেকদিন থেকেই দলের লোকেদের টাকা খাওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হন। তিনি প্রকাশ্য সভা থেকে বলেছিলেন, ২৫ % রেখে ৭৫ % দলকে দাও। তার সরলীকরণ করে দিদি ঘনিষ্ঠ নেত্রী সাংসদ দোলা সেন বুঝিয়ে দিয়েছিলেন,৪ আনা রেখে ১২ আনা দলকে দাও।

# এরপর হঠাত একদিন প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিলেন,সরকারি প্রকল্পের জন্য যারা গরিব মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছে তাদের তা ফেরত দিতে হবে। কত টাকা কাটমানি নিয়েছে তার দলের নেতা-কর্মীরা তাও তিনি ফাস করে দিলেন। বললেন, গরিবের ঘর তৈরির টাকা থেকে ২৫ % কাটমানি নেওয়া হয়েছে। এমনকি মৃতদেহ সতকারের ২০০০ টাকা থেকেও ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে কাটমানি বাবদ।

## মুখ্যমন্ত্রীর এই কথায় আগুনে ঘি পড়ল। এমনিতেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দাপটে মানুষ অতিষ্ঠ। মুখ্যমন্ত্রী  প্রকাশ্যে বলায় গরিব মানুষ মনে বল পেলেন। তাতে হাওয়া দিল বিজেপি।

# এখন লাখ টাকার  প্রশ্ন, কেন সব জেনেশুনে মুখ্যমন্ত্রী নিজের দলের নেতা-কর্মীদের এইভাবে ফাসালেন?

নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য?

# কিন্তু এতে তো কোটি টাকার প্রশ্ন খুরপাক খাচ্ছে।

# কোটি কোটি টাকার কাটমানি খাওয়া নেতাদের গায়ে কি আচ পড়বে?

# মন্ত্রী-সাংসদরা কি কাটমানির আগুন থেকে নিজেদের বাচাতে পারবেন?

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here