মদনমোহন সামন্ত, ৫ জুলাই, কলকাতা : দেখতে গেলে কোনও কাজই নেই তাঁর। হাইকোর্টের একতলার একটি ঘরে রয়েছে তাঁর জন্য অফিস। থাকেন একজন ডেপুটি সহ একাধিক কর্মী। তিনি কলকাতার শেরিফ।

তাঁর ডেপুটি শেরিফের পদখানি সরকারি। শেরিফের দফতরের জন্য বার্ষিক আর্থিক বরাদ্দ যৎসামান্যই। ওই বরাদ্দে শেরিফের কোনও ইচ্ছাই পূরণ হওয়া অসম্ভব। তবুও কলকাতা মহানগরীর জন্য রয়েছেন একজন শরিফ। নিয়মিত এই পদে নিয়োগও হয়ে থাকে। বৃটিশ আমলের ধারা বহন করে থাকে এই নিয়োগ। আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতার নতুন শেরিফ হতে চলেছেন সাহিত্যিক শংকর ওরফে মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। চিকিত্‍সক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন সাহিত্যিক শংকর। ১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের যশোহরের বনগ্রামে জন্ম হলেও হাওড়ায় বেড়ে ওঠা শংকর জীবনের দৌড়ে টিকে থাকতে বিভিন্ন সময়ে কখনও শিক্ষকতা, কখনও হাইকোর্ট পাড়ায় কাজ করেছেন। তাঁর বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় পেশায় ছিলেন আইনজীবী হওয়ার সূত্রে যাতায়াত ছিল হাইকোর্টে। প্রসঙ্গত কলকাতা হাইকোর্টের শেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার নোয়েল ফ্রেডরিক বারওয়েলের অধীনে কাজ করেছেন শংকর। ১৯৫৩ সালে বারওয়েলের মৃত্যুর পর তিনি সাহিত্যরচনার দিকে মন দেন। তাঁর একাধিক উপন্যাসে বারওয়েল সাহেবের উল্লেখও রয়েছে। তিনি কিন্তু নিজের ভেতরে থাকা আগুন জ্বালিয়ে সাহিত্য বিষয়ক রচনা থেকে সরে আসেন নি কখনও। এক সময়ে তাঁর একের পর এক জনপ্রিয় বেস্টসেলার গুলির মধ্যে চৌরঙ্গী, কত অজানারে, জনঅরণ্য, অচেনা অজানা বিবেকানন্দ, সীমাবদ্ধ ইত্যাদির নাম করতেই হয়। তাঁর একাধিক উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন সত্যজিৎ রায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট পরিচালকরা। ‘শেরিফ’ পদটিতে সমাজের বিশিষ্ট মানুষরা থেকেছেন। বিশেষতকাউকে বিশেষ ‘সম্মান’ জানাতেই এই আলঙ্কারিক পদে বসানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here