শ্যামলেন্দু মিত্র # মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাটমানি ফেরতের আহ্বান জানানোর পর থেকে রোজ এক ভদ্রলোক ফোন করেন। তিনি আদি তৃণমূলি। ব্যবসা করেন। ঘরের খেয়ে তৃণমূল করেন ১৯৯৮ সাল থেকে। তার স্ত্রীও আদি তৃণমূলি। মমতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

এই পরিবার মমতার অত্যন্ত একনিষ্ঠ ভক্ত। আমাকে ফোন করে রোজই গৃহকর্তা বলেন, আপনি মমতা ব্যানার্জিকে বলুন যাতে তিনি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আদি তৃণমূলিদের একটা মিটিং ডাকেন। সেখানে আমরা খুললাম খুল্লা সব বলবো,আর দিদি শুনবেন। আমরা বলবো,কীভাবে দলকে ভাঙিয়ে এক শ্রেণির নব্য তৃণমূলিরা লাখ-লাখ, কোটি-কোটি টাকা কামিয়েছে। অসাধু কাজের সাথে জড়িত।

ওই আদি তৃণমূলির বক্তব্য, দিদি অনেক দেরিতে উপলব্ধি করেছেন যে সরকারি প্রকল্প থেকে ২৫% কাটমানি খেয়েছে এক শ্রেণির তৃণমূলিরা। কাটমানি ফেরত ইস্যু মহামারির আকার ধারণ করেছে। কাটমানি ইস্যুকে বিজেপি ধরে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে।

তাই,এই ইস্যুকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে দিদি একটা মিটিং ডাকুন। সেই মিটিং হোক নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মতো বড় জায়গায়। যেখানে উপস্থিত   থাকবেন শুধু আদি তৃণমূলিরা। অর্থাৎ যারা প্রথম থেকে তৃণমূল করছেন। এদের অনেকে দলের কাজে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ঘৃণায় বসে গিয়েছেন। অনেকে এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। অনেকে বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে আছেন।

এদের কথা আপনি শুনুন। তাহলে বুঝতে পারবেন,দলটা কাদের হাতে চলে গিয়েছে। সিন্ডিকেট,প্রোমোটারি,দালালি, কাটমানির উপর দাঁড়িয়ে আছে।

আগামী ২১ জুলাই অন্য বছরের মতো আপনি বিরাট সভা করবেন ঠিক। সেখানে আপনি বলবেন। বাকিরা শুনবেন। তাদের বলার জায়গা থাকবে না।

তাই ২১ জুলাইয়ের আগেই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মিটিং ডাকুন।

ডা.বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দেখলাম ডাক্তার সাংসদ শান্তনু সেন আপনার পিছনে বসে আছেন। আপনি নিশ্চয় জানেন, এই সাংসদের বিরুদ্ধে সিথির এক প্রোমোটার ৪২ লাখ টাকা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ করেন। এটা কী করে হয়? একজন সাংসদ আবার কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলার? তৃণমূল দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব?  তিনি একদিকে সাংসদ,অন্যদিকে কাউন্সিলার। আবার তিনি ডাক্তার সংগঠন আইএমএ-র সর্বভারতীয় সভাপতি। নূন্যতম সম্মানবোধ থাকলে তিনি সব পদ ছেড়ে কাটমানি তদন্তের মুখোমুখি হতেন।

আসলে এরকম অনেক কথা বলার আছে আদি তৃণমূলিদের। যারা ধীরে ধীরে দলে কোনঠাসা। তাদের কথা আপনি শুনুন।  জানতে পারবেন অনেক কিছু। যাতে আপনার উপকার হবে।

আপনি বলেছেন,দলের নেতা-কর্মীরা পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়েছে। আপনি দলের জন্মলগ্ন ১৯৯৮ সালের প্রসঙ্গ তুলেছেন।  সত্যিই তো তখন টাকা ও পুলিশ  কিছুই ছিল না। আজ কেন টাকা ও পুলিশের  দরকার হচ্ছে?  কেন পুলিশ ছাড়া চলতে পারছে না দলের এক শ্রেণির নেতা-কর্মীরা?

আপনি দেরিতে হলেও  নিজে থেকে এইসব প্রশ্ন তুলেছেন। এইসব প্রশ্ন তো আমাদেরও।

আরও অনেক প্রশ্ন আছে।

শুনতে চাইলে একটা মিটিং ডাকুন। সেখানে খুললাম খুল্লা আলোচনা হোক।

আপনি চমকে যাবেন আমাদের কথা শুনলে।

কীভাবে সব আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে তাতে আর একটা মহাভারত হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here