মদনমোহন সামন্ত, ৩ জুলাই, কলকাতা :কলকাতার বর্তমান মেয়র তথা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সাত বছরের ছায়াসঙ্গী অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় এলাকার দু’শ কুড়ি জন সঙ্গী নিয়ে মুকুল রায়ের হাত ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির মুরলীধর সেন লেনের সদর দফতরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন।

যোগ দেওয়ার পর অনির্বাণ জানালেন তিনি ফিরহাদ হাকিমের আপ্তসহায়ক ছিলেন না, ছিলেন ছায়াসঙ্গী। “দাদা (ফিরহাদ হাকিম) যখন মেয়র হলেন, আমি তখন মেয়রের অফিসে আপ্তসহায়ক-এর চেয়ারটাতেই বসতাম।

ঝামেলার সূত্রপাত হয় ওখানকারই কয়েকজনের বেআইনি কাজের প্রতিবাদ করায়”, বললেন অনির্বাণ। ৩০ এপ্রিল ২০১৯ অনির্বাণ স্বেচ্ছায় “দাদা’র” সঙ্গ ত্যাগ করেন। পরে সরকারি কাজ থেকেও পদত্যাগ করেন।

জুনের ১ তারিখে অনির্বাণকে পেটানো হলে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়। থানাতে অভিযোগও দায়ের করা হয়। কিন্তু পুলিশ কোন সূত্র খুঁজে না পাওয়াতে তদন্তের তেমন অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু এলাকাতে অনির্বাণ-এর নামে বিভিন্ন বদনাম রটানো হয়েছে।

অনির্বাণ যুক্ত রয়েছেন স্থানীয় “আলাপি” সংঘের সঙ্গে। এ বছরের দূর্গাপুজোর খুঁটিপুজো করতে গিয়ে দিন স্থির থাকা সত্ত্বেও তারা খুঁটিপুজো করতে পারেননি। কারণ হিসাবে মেয়রের নাম করে কমিউনিটি হল-এর পরিচালকরা জানিয়েছিলেন ‘এখানে কমিউনিটি হল থাকায় পুজো করা যাবে না’। তারা আপাতত খুঁটিপুজো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সঙ্গে অবশ্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে সেদিন রাতেই তারা মেয়রের বাড়িতে মেয়রের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানান। ঘটনা শুনে মেয়র বলেন, তিনি বিষয়টির কিছুই জানতেন না। বরং বলেন, “তোমরা পুজো করো”। পুজো করার কথা বললেও যাদের সম্পর্কে অভিযোগ মেয়রের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের অধিবাসীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। মূলত নিরাপত্তা পাওয়ার জন্যই ওই দুটি ওয়ার্ড এলাকার দু’শ কুড়ি জন অধিবাসী আজ বুধবার বিজেপির সদর দফতরে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। যোগদান অনুষ্ঠানে মুকুল রায়ের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে উপস্থিত ছিলেন প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। যোগদানের পরে এক প্রশ্নের উত্তরে অনির্বাণ জানান, “দাদা (ফিরহাদ হাকিম)-র বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। আমাদের অভিযোগ দাদা’র অধস্তনদের বিরুদ্ধে যারা দাদা’র নাম করে এলাকায় মৌরসিপাট্টা চালিয়ে দাদা’র নাম বদনাম করতে চাইছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here