শ্যামলেন্দু মিত্র # কাটমানি ফেরত আসলে মমতা ব্যানার্জির সততার সমীকরণে গভীর রাজনৈতিক কৌশল।

রাজনীতি মানেই এই কৌশল।

তা কোনও সময় সফল হয়,আবার কোনও সময় ব্যর্থ হয়।

তবু কৌশলই রাজনীতির অন্যতম কৌশল।

স্ট্র‍্যাটেজি।

তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আবার রাজনৈতিক কৌশলবিদ অর্থাৎ পলিটিক্যাল স্ট্র‍্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ নিচ্ছেন।

নিতেই পারেন। নেওয়াই উচিত।

এই নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই।

# তবে, একটা প্রশ্ন এসেই যায়,মমতা ব্যানার্জির মতো জনপ্রিয় নেত্রীর কেন এই ধরনের রাজনৈতিক কৌশলবিদের পরামর্শ নিতে হচ্ছে?

# তাহলে তার একার জনপ্রিয়তায় ভোট বৈতরনী পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

# ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের ফল তো তাই বলছে।

তাই তিনি আর নিজের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না।

# তৃণমূল সূত্রের খবর, সব দিক বিবেচনা করে ও কৌশলবিদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি কাটমানি ফেরতের মতো সাংঘাতিক ঝুকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

# তিনি নিশ্চয় জানতেন যে এর ফলে বাংলা জুড়ে তার দলের নেতা-কর্মীরা বিব্রত হবেন।

# এই ইস্যু ধরে নেবে বিজেপি,যে দল তার দলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে।

# কাটমানি ফেরতকে ইস্যু করে বিজেপি বাংলায় গণ বা জন আন্দোলন তৈরি করে ফেলেছে।

# কাটমানি ফেরতের থেকে আর ভাল বা জনপ্রিয় আন্দোলন এখন বাংলায় আর নেই।

## তাই এসব কি মমতা আন্দাজ না করে কাটমানি ফেরত দেওয়ার কথা বলেছেন?

# আমি মমতাকে ব্যানার্জিকে ১৯৮০ সাল থেকে চিনি,আমি যখন আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা পড়ি ৷ তিনি ছিলেন সুব্রত মুখার্জির রাজনৈতিক শিষ্যা। ১৯৮৪ সালে যাদবপুরে সিপিএমের হেভিওয়েট নেতা সোমনাথ চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে কংগ্রেস যখন কাউকে প্রার্থী করতে পারছিল না,তখন কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে সুব্রতদা তার নাম সুপারিশ করেন দিল্লিতে হাইকম্যান্ডের  কাছে। তিনি প্রার্থী হন। সেই তার উত্তরণ। অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে সিপিএমের মতো সুসংগঠিত ক্যাডার-ভিত্তিক দলকে হারিয়ে তিনি মহাকরণে পৌছান।

# যিনি বলতেন, সব আসনে আমিই প্রার্থী। ৪২/৪২ সিটে আমরা জিতবো।

# আন-চ্যালেঞ্জড সিপিএমকে তিনি যেমন কঠিন পরীক্ষায় ফেলে পর্যুদস্ত করেছিলেন,এবারে লোকসভা ভোটে কার্যত তিনি বিজেপির কাছে  সেইভাবেই পর্যুদস্ত হয়েছেন।

# তাই কি ঘুরে দাড়াতে কৌশলবিদের পরামর্শ?

# তাই কি খুরে দাড়াতে কাটমানি ফেরত ইস্যু বাজারে ছেড়ছেন?  ## কাটমানি ফেরত ইস্যুর মাধ্যমে তিনি বাংলাবাসীর কাছে কি বার্তা দিতে চাইছেন,আমি সৎ,আমার দলের একটা অংশ অসত।

আমি অসতের সঙ্গে নেই।

তাই এত বড় ঝুকি নিয়েছি,আপনারা দেখুন।

# কিন্তু কাটমানি ফেরত নিয়ে রাজ্যজুড়ে গৃহযুদ্ধ বেধে গেছে। প্রতিদিন তা বাড়ছে। মমতাই এটা বাড়তে দিচ্ছেন।

তিনি কি চান দুধ মেরে ক্ষির থাকুক। ছানার সব জল বেরিয়ে যায়।

# কাটমানি ফেরত ইস্যু বাংলা ছাড়িয়ে দিল্লিতে সংসদে পৌছে গেছে।

বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী লকেট চ্যাটার্জি চাচাছোলা ভাষায় মমতা ব্যানার্জিকে আক্রমণ করেছেন।

# লকেট লোকসভায় বলেছেন,” বাংলার মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন যে কাটমানি নেওয়া হয়। তিনি তার দলের নেতা-কর্মীদের তা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কাটমানি কাণ্ডে জড়িত রয়েছেন মন্ত্রীরাও। ৮/১০ বছরের মাথায় মুখ্যমন্ত্রীর মনে হল,টাকা ফেরাতে হবে! মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বলেছিলেন, দলীয় কর্মীরা কাটমানির ২৫% রেখে ৭৫% তাকে দিক। যার মানে হল,৭৫% অর্থ তার কাছে রয়েছে। কালিঘাটে ১৩ টি ফ্ল্যাট,পুরী ও গোয়ায় একাধিক হোটেল ওই কাটমানির টাকায় হয়েছে। তাইল্যান্ড থেকে অবৈধ সোনা আনা হয়েছে। কোথায় রয়েছে সেই টাকা? ”

লকেট লোকসভায় মুখ খুলতেই তৃণমূল সাংসদরা প্রবল হইচই শুরু করেন।  লকেট বলেন,” শুধু চিতকার করে লাভ নেই,তৃণমূল নেত্রীকে এর জবাব দিতে হবে।”

# মমতা ব্যানার্জি পোড় খাওয়া রাজিনীতিবিদ। তিনি কি কাটমানি ফেরতের মতো ইস্যু বিজেপি লুফে নেবে তা  আন্দাজ করতে পারেননি তা হতে পারে না।

তিনি সব জেনেবুঝেই নিজের দলের নেতা-কর্মীদের অগ্নিপরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছেন। যারা এই পরীক্ষার উত্তীর্ণ হবে ভাল,না হলে সলিল সমাধি।

# তিনি জানেন দল জীর্ণ হয়ে গেছে টাকার কাছে। তিনি এও বলেছেন, দলের নেতা কর্মীরা পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়েছে,তা ছাড়তে হবে।

তিনি ১৯৯৮ সালের কথা দলের নেতা-কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। যখন না ছিল পুলিশ না ছিল টাকা।

তাই আপাতত মনে হচ্ছে,কাটমানি ইস্যুতে দল বিপাকে পড়েছে।

# তবে, এর মধ্যে থাকতে পারে সততার সমীকরণের গভীরে রাজিনৈতিক কৌশল। তাই এর গতিপ্রকৃতি অনুধাবন করতে কয়েক মাস লাগবে।

কারণ,পুরসভার ভোট হবে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের তত্বাবধানে। সেখানে বিজেপি কতটা সফল হবে? নাকি পুরভোটে তৃণমূল কিছুটা সামলে নেবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here