মদনমোহন সামন্ত, ৩ জুলাই, কলকাতা : মনে মনে ‘আশিতে আসিও না’ মেনে চলতেন কি প্যাট দা’? না, সেকথা জিজ্ঞাসা করার সুযোগ হয়নি।

হবেই বা কি করে! দীর্ঘদিন শরীর মন একসঙ্গে সঙ্গত করছিল না বটে! কিন্তু গত সপ্তাহেও কলকাতা প্রেস ক্লাবে যখন তাঁর এই ছবিটি তুলছিলেন আজকাল পত্রিকার প্রাক্তন চিফ ফোটোগ্রাফার অমিত ধর তখন শেষবার দেখার সময়েও একবারের জন্যও মনে হয়নি আর দেখা হবে না প্যাট দা’র সঙ্গে।

আশি’র এক পা আগে ঊনআশিতেই ক্যামেরা কথা বলা বন্ধ করে স্তব্ধ হয়ে মিশে যাবে অসীমকালের গর্ভে! জীবৎকালে যা নিয়ে খেলা করেছেন, সেই ক্যামেরার শাটার স্পীড, অ্যাপারচার, লাইট, আইএসও’র সব হিসাব দূরে সরিয়ে রেখে মঙ্গলবার সকালে প্যাট দা’ বন্ধ রাখলেন সমস্ত অ্যাকশন ফ্রেমবন্দির কাজ।

মঙ্গলবার সকালে দেবালোকের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন প্যাট দা’, প্রখ্যাত চিত্রসাংবাদিক সুব্রত পত্রনবিশ। সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক মহলে ওই নামেই সুপরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯৪০ সালে ধরাধামে পা রেখেছিলেন সময়কে অনন্তকালের জন্য বন্দি করতে পারদর্শী সুব্রত পত্রনবিশ। কর্মজীবনে বিশেষ উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব , ১৯৭8 সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সসম্মানে একটানা দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার চীফ ফোটোগ্রাফারের দায়িত্ব পালন করা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর তোলা বহু ছবি পুরস্কৃত হয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল বিভিন্ন সময়ে, সেকথা ভোলেননি অনেকেই। সাদাকালো যুগ থেকে রঙিন, ফিল্মের যুগ থেকে ডিজিটাল — সবেতেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন প্যাট দা’! সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি চিত্র সমালোচকদেরও অকুণ্ঠ প্রশংসাধন্য হয়েছিল তাঁর তোলা বহু অসামান্য আলোকচিত্র ৷ এছাড়াও ডালহৌসি ক্লাব, আলিপুর এগ্রিহর্টিকালচারাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া, কলকাতা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আজীবন যুক্ত ছিলেন সুব্ৰত পত্রনবিশ ৷ প্রয়াণের আগে বেশ কয়েক মাস ধরে দুরারোগ্য কর্কট রোগে ভুগে শারিরীকভাবে ঝাঁঝরা হয়ে গেলেও মনের দিক দিয়ে অসম্ভব সতেজ ছিলেন প্যাট দা’। মৃত্যুকালে রেখে গিয়েছেন স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ , নাতি, দুই ভাই এবং তিন বোনকে৷ তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে কলকাতার সংবাদমাধ্যম জগতে ৷ তাঁর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রকাশ ও শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে চিত্রসাংবাদিক মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here