শ্যামলেন্দু মিত্র # মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উপস্থিত বুদ্ধি অনেক রাজনৈতিক নেতার থেকে বেশি। প্রখর।

তাই তিনি কাটমানির মতো দলের কর্কট রোগের দাওয়াই দিয়েছেন নিজেই।

কাটমানির টাকা ফেরত দাও।

তারপর দলে থাকো। নচেত দল ছেড়ে চলে যাও।

এতেই কাজ হয়েছে। মোক্ষম দাওয়াইয়ে দলের অভ্যন্তরে ছেড়ে দে মা কেদে বাচি।

গ্রামে গ্রামে পাড়ায়,শহরে মহল্লায় কাটিমানি ফেরতের জন্য বাড়ি ঘেরাও। বাড়ি ছেড়ে অনেক নেতার পালিয়ে বাচার চেষ্টা। কেউ কেউ চাপে টাকা ফেরত দিচ্ছে।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তার কাটমানি ফেরতের সিদ্ধান্ত থেকে এক চুল সরছেন না। বরং এর ফলে মন্ত্রী-বিধায়ক-সাংসদরাও কাটমানি ফেরতের কোপে পড়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী সরাকারি প্রকল্প থেকে নেওয়া কাটমানির কথা বলতে গিয়ে দুটি ক্ষেত্রের উদাহরণ দিয়েছেন।১) গরিব মানুষের ঘর তৈরির টাকার ২৫ % কাটমানি ২) মৃতদেহ সতকারের সামান্য ২০০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কাটমানি।

যাইহোক চাপে পড়ে কিছু নেতা টাকা ফেরত দিচ্ছেন। অনেকে আবার কাটমানি নেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন।

এদিকে, একটি তথ্যে বলা হয়েছে,গরিবদের ঘর তৈরি প্রকল্পে টাকা খরচে বাংলা প্রথম। বাংলায় ১৪ লাখ ৬৯ হাজার ১০৬ টি বাড়ি হয়েছে। তাহলে একটি বাড়ি থেকে ২৫ % মানে প্রায়  কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা। হিসেব করলে দেখা যাবে কি বিপুল পরমান কাটমানি তুলেছে নেতা-কর্মীরা।

এই তথ্য ধরেই বলা যায় যত বেশি টাকা খরচ তত বেশি কাটমানি।

মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলার গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষজন দুহাত তুলে আর্শিবাদ জানাচ্ছেন।

কাটমানির টাকা ফেরতের মতো কঠিন কাজে তিনি হাত দিয়েছেন।

বাংলার প্রান্তে প্রান্তে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা যে আঙুল ফলে কলাগাছ হয়েছে তা মুখ্যমন্ত্রী বলায় বৈধ্যতা পেয়েছে। এবং মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সবাই নড়েচড়ে বসেছে।

অন্যায় সব সময় অন্যায়। তবে নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ কাটমানি নেওয়ার কথা অস্বীকার করায় এই ইস্যু ধরে নিয়েছে বিজেপি।

মুখ্যমন্ত্রী বলার পরে নেতা-কর্মীরা নিজে থেকে এগিয়ে এসে কাটমানির টাকা ফেরত দিলে সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করতো না।

বিজেপির হাতে কাটমানি ইস্যু তুলে দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হয়তো ভেবেছিলেন,তার কথাই কাফি। তিনি দলের সুপ্রিমো। তার তার কথাই নির্দেশ। বেদবাক্য। তাই হওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু দলের নেতা-কর্মীরা যে কি জিনিষ তা এবার বোঝা গেল।

তা সত্বেও বলছি,কাটমানি ফেরত ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর ইমেজ ভালো হয়েছে।

কিন্তু তার দলের নেতা-কর্মীরা এতোটাই বেহায়া ও ছ্যাচরা যে টাকা ফেরত না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বদনাম করছে।

কাটিমানি ফেরত দেওয়ার কথা বলে দলে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত শুদ্ধিকরণ করতে চেয়েছেন। দুষ্ট লোক বেশি থাকার থেকে ভাল লোক কম থাকা শ্রেয়।

তাই তিনি কাটিমানি ইস্যু নিয়ে কোনও কম্প্রোমাইজ করতে চান না।

রাজ্য জুড়ে এক শ্রেণির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা যেভাবে লুটপাট চালিয়েছে,এবার তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। বাড়ি ছেড়ে পালিয়েও রক্ষা নেই।  টাকা ফেরত দিতেই হবে।

মুখ্যমন্ত্রী অনেক আগেই এটা করলে ভাল হত।

সিপিএম থেকে বেনো জলের মতো বাজে লোকেরা ঢুকে আদি নেতা-কর্মীদের ঠেলে সরিয়ে দিয়েছে।

যেমন বিজেপিতে তৃণমূল থেকে বেনোজল ঢুকছে।

আরএসএসের পত্রিকা স্বস্তিকাতে এই নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

এই নিয়ে বিজেপি দলেও বিতর্ক হচ্ছে। কেন বীরভূমের মনিরুলের মতো কুখ্যাত লোককে বিজেপি নিয়েছে?

এছাড়া  তৃণমূল থেকে এমন অনেকে আসছে,যাদের নিয়ে এলাকার মানুষের প্রশ্ন আছে।

তৃণমূলের জন্য যেসব মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে তার বিরূপ হচ্ছে।

ঠিক ২০১১ সালের পর সিপিএমের কুখ্যাতরা তৃণমূলে ভিড়েছিল  ও দলকে কলূষিত করে।

মমতা ব্যানার্জির কাটমানি ফেরত ইস্যুকে তাই আদি ও সৎ তৃণমূলিরা সাপোর্ট করছে৷

গায়ে লেগেছে কাটমানি-খেকোদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here