শ্যামলেন্দু মিত্র # এ আমরা কোন মমতা ব্যানার্জিকে দেখছি। যার মধ্যে  শুধুই মমতাহীন মমতা।

এই মমতাকে দেখার জন্য বাংলার আপামর মানুষ সিপিএম তথা বামেদের নৌকা ছেড়ে তৃণমূলের নৌকায় আস্থা রেখেছিলেন?

এখন দেখছি,মানুষ ভুল করেছিলেন।

এখনকার মমতার সঙ্গে আগের মমতার আকাশ পাতাল ফারাক।

আজকের মমতার থেকে মমতা উধাও। যেমন সততার প্রতীক উধাও।

বাংলাবাসী যে মমতাকে চিনতেন, ইনিই কি সেই মমতা ব্যানার্জি ?

ট্রাক বোঝাই গুণ্ডারা এসে হাসপাতালে ঢুকে ডাক্তারদের মেরে গেল, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এক জুনিয়র ডাক্তার গুরুতর আহত হয়ে চিকিতসাধীন থাকলেও তাকে এই মমতা  একবারও দেখতে যান না। উল্টে বলেন, তেমন কিছু হয়নি ওই জুনিয়র ডাক্তারের,সামান্য একটু লেগেছে,ছোট অপারেশন হয়েছে।

আবার এই মমতাই এনআরএসে না গিয়ে এসএসকেমে চলে যান,মাইক হাতে চিতকার করে বলেন, চার ঘন্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। হস্টেল খালি করতে হবে। সরকার প্রয়োজনে এসমা জারি করবে।

এই মমতা আর আগের  মমতাকে মেলাতে পারছি না।

অথচ,এক সময় এই মমতাই সবার আগে পৌছে যেতেন মানুষের পাশে। এই অভ্যাসই তাকে জননেত্রী করে। কিন্তু আজ কী হলো?

ডাক্তারদের বিষয়ে তিনি একের পর এক ভুল করে গেলেন।

জুনিয়র ডাক্তারদের বহিরাগতরা এসে মেরে গেল,সেটাকে তিনি অন্যায় দেখছেন না!

ডাক্তাররা কেন আন্দোলন করবেন?

তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি কোনও একটি দলের বা একটি সম্প্রদায়ের মুখ্যমন্ত্রী নন,এটা তিনি ভুলে গেছেন।

কোনটা তার কাছে অগ্রাধিকার?

জুনিয়র ডাক্তারদের কাছে যাওয়া না কাচরাপাড়ায় দলীয় জনসভায় গিয়ে রাজনৈতিক বক্তৃতা করা।

আর প্রশ্ন করলে বা প্রশ্ন তুললেই  বিজেপি বলে দেগে দেওয়া। আগে বলতেন নকশাল,মাওবাদী। প্রশ্ন করলে সাংবাদিকদের সিপিএম বলে দেগে দিতেন।

এখন বাম-কংগ্রেস শেষ করতে গিয়ে নিজেই বিজেপির উত্থান ঘটালেন।

এখন বলছেন, তৃণমূলে থেকে কাটমানি নেওয়া চলবে না।

যেন তিনি এই প্রথম আবিস্কার করলেন। তিনি বলেছেন,সাতদিন সময় দিলাম। যারা আমার দল ছাড়তে চায়,চলে যাক।

# আমি নতুন করে দল গড়বো।

এবারে তিনি বখাটে ছেলেদের নিয়ে দল গড়বেন। কারণ বখাটে ছেলেদের কাজ নেই। পাড়ার মোড়ে মোড়ে আড্ডা দেয়। এই বখাটেদের তালিকা চেয়েছেন স্থানীয় নেতাদের কাছে। এইসব বখাটেদের তিনি কাজে ঢুকিয়ে দেবেন।

ভুলে গেলেন স্থানীয় নেতারা আঙুল ফুলে কলাগাছ। যাদের বিড়ি জুটতো না,তারা স্কোরপিও চাপে।

#লোম বাছতে কম্বল শেষ হয়ে যাবে।

জানিনা, দল বাচানোর জন্য এটা তার বিকল্প ভাবনা?

# আসলে,বিজেপি বাংলায় তৃণমূল ভাঙার খেলায় নেমেছে।

# তৃণমূল কোনও আদর্শভিত্তিক দল নয়। তাই ভাঙা অনেক সহজ।

না হলে দলনেত্রীকে  বখাটে ছেলেদের নিয়ে এইরকম ভাবতে হতো না।

# আন্দোলরত ডাক্তারদের তিনি বহিরাগত ও বিজেপি মদতপুষ্ট বলে দিলেন। একবারও ভাবলেন না, যে তারা বিজেপি বা বাম-কংগ্রেস নেতাদের ডাকেনি, প্রবল প্ররোচনা সত্বেও তারা সাম্প্রদায়িক পথে বা বিজেপির সুরে সুর মেলায়নি।

# বুঝতে হবে,প্রশ্ন করা বা অভিযোগ করা মানে বিরোধিতা করা নয়।

কীভাবে মানুষের পাশে থাকতে হয় তা আগের মমতা জানতেন।

# আজকের মমতা পথভ্রষ্টা।

তিনি আজ রাজধর্মের পথ থেকে সরে গেছেন।

তাই তিনি মানুষের কন্ঠস্বরকে ভয় পাচ্ছেন।

তার পুলিশ আছে,প্রশাসন আছে তাই তিনি জোর করতে পারেন।

কিন্তু মানুষের ভালবাসা পাচ্ছেন না। অথচ,মানুষের ভালবাসাকে সাথী করেই তিনি শাসক হন।

তা তিনি বিস্মৃত।

তার মধ্যে অহং দানা বেধেছে।

#এই অহং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শেষ করেছিল।

তিনি অহঙ্কারে মত্ত হয়ে বলেছিলেন আমরা ২৩৫, ওরা ৩৫। এসইউসি দলকে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন,এসইউসি-জয়নগর।

এসইউসি আছে তাদের আদর্শ নিয়ে। কিন্তু বুদ্ধবাবুর সিপিএমের আজ এই দশা কেন?

আজ সেই ওরা-আমরাই আজকের মমতাকে গ্রাস করে ফেলেছে।

# বখাটে ছেলেরা এই গ্রাস থেকে উদ্ধার করলে ভাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here