প্রিয়াঙ্কা বাড়ুই ,মহেশতলা :-  শনিবার সন্ধেবেলা এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী রইল কলকাতা মেট্রো। ইতিহাসে প্রথমবার কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। যা নিয়ে রাজনীতির দড়ি টানাটানিও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনা জন্য সরাসরি মেট্রোর গাফিলতিকে দায়ি করে এর অন্তর্বর্তী রাজনীতির দিকে আঙুল তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

অন্যদিকে বাম পরিষদীয় দলনেতা তথা যাদবপুরের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী এদিন হাজির হন মৃত সজল কুমার কাঞ্জিলালের বাড়িতে,
মেট্রোর দরজায় হাত আটকে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন ষাটোর্ধ্ব সজলবাবু। তিনি নন্দন চত্বরে লিটল ম্যাগাজিন বিক্রি করতেন। এদিন সজলবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানান সুজন চক্রবর্তী। সবরকম বিপদে আপদে পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও আখ্যা দেন তিনি।

 

 

অন্যদিকে গতকালের ঘটনার পর ইতিমধ্যেই সেই মেট্রোর চালক এবং গার্ডকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। দু’জনের বয়ানও রেকর্ড করা হবে বলে জানা গিয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, সব দিক খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেট্রোর বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় জোড়া এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সজল কুমার কাঞ্জিলালের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ কোনও পদক্ষেপ নিতে চাইছে না প্রশাসন।
তবে এই দুর্ঘটনা অনেকগুলি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের সামনে। যার উত্তর নেই বললেই চলে। কারণ যারা মেট্রোয় নিয়মিত যাতায়াত করেন তারা ভালভাবেই জানেন, দরজা না আটকালে মেট্রো চালু হয় না। তাহলে দরজা পুরো না আটকালে কী ভাবে মেট্রো ছুটল সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে মোটর ভ্যানের ভূমিকা নিয়েও। মেট্রোর একদম পিছনে যে মোটর ভ্যান থাকেন তিনিও প্রত্যেকটি গেট দেখেই তা বন্ধ করেন। এবং তিনি সিগন্যাল দেওয়ার পরই মেট্রো চালু হয়। তিনি কী করছিলেন? এই প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে যেসব আরপিএফ থাকেন, তারা কী করছিলেন?
আর এখানেই প্রযুক্তিগত গাফিলতির দিকে নজর ঘুরেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের। কেন দরজা খুলে থাকা সত্ত্বেও মেট্রো চলতে পারল তা অনুসন্ধান করতে চেন্নাই থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আসছে। একই সঙ্গে মেট্রোর ভেতরে থাকা অ্যালার্মও কেন কাজ করল না সেই নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here