শ্যামলেন্দু মিত্র # মমতা ব্যানার্জির  মুসলমান  তোষণ নিয়ে  কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ এবং একদা তৃণমূল নেতা সর্দার আমজাদ আলি কয়েক বছর আগে যা বলেছিলেন আজ কলকাতার ৫০ জন  সমাজ সচেতন মুসলমান ভদ্র নাগরিক তাই বললেন।

কলকাতার সমাজসচেতন ৫০ জন মুসলমান নাগরিক  তোষণের বিরোধিতা করে একটি  চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কে।

এই চিঠি সমাজের দর্পন। চিঠিতে তারা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, আমরা,মুসলমানরা তোষণ চাই না। আমরা সমাজে আর পাচ জন মানুষ যেভাবে আছেন মুসলমানরাও তাই চাই।

কেন তারা এই চিঠি লিখলেন, তার ব্যাখ্যাও তারা দিয়েছেন।

এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারদের উপর আক্রমণ  ও মিস ইন্ডিয়াকে  ও হেনস্থার  ঘটনায় যেসব মুসলমান মানুষ জড়িত তাদের অপরাধকে যেন লঘু করে না দেখা হয়। আর পাচ জন মানুষ অপরাধ করলে যা যা শাস্তি হয়, এক্ষেত্রে তাই হওয়া উচিত।

এর পাশাপাশি এক শ্রেণির মুসলমান মানুষের ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতাকেও বিপজ্জনক বলে তারা আখ্যা দিয়েছেন।

এক শ্রেণির মুসলমান মানুষ হেলমেট না পরে বাইক চালান। তারা টুপি পরেন বলে  তাদের হেলমেট না পরার প্রবণতায় শুধু আইন ভঙ্গ হচ্ছে  তাই নয়,নিজেরাও জীবনের ঝুকি নিতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে যাচ্ছেন।

মমতা ব্যানার্জি ও তার সরকার যে মুসলমান তোষণ করে চলেছেন,এই অভিযোগ সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা অনেকদিন থেকেই করে আসছিলেন। ইমাম ও মোয়াজ্জেম ভাতা দেওয়ার ঘটনার তা আরও প্রকট হয়ে দেখা দেয়। মমতা নিজে ইফতার ও নামাজের অনুষ্ঠানে গিয়ে মুসলমানদের মতো  মাথা ঢাকা দেওয়াকে হিন্দুরা ভাল চোখে দেখেননি।

তা সত্বেও এবারের লোকসভা ভোটের পরে মমতা ব্যানার্জি প্রকাশ্যে মুসলমান তোষণ নিয়ে তার নীতি স্পষ্ট করে বলেছেন,হ্যা, আমি তোষণ করি। তোষণ করবো। যে গরু দুধ দেয় তার লাথি আমি খাবো।

সর্দার আমজাদ আলি মূলত কংগ্রেসি।  প্রাক্তণ সাংসদ।  তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।

তিনি যখন তৃণমূলে,বেশ কয়েক বছর আগে, একদিন মমতার কালিঘাটের বাড়িতে যান। ৪ ঘন্টা অপেক্ষা করেন মুসলমান তোষণ নিয়ে মমতাকে সতর্ক করার জন্য।

সর্দার আমজাদ আলির কথায়,উনি চার ঘন্টা পরে তার ঘর থেকে বেরোলেন। আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন,আপনি?  দাঁড়িয়ে আছেন কেন?  কিছু বলবেন?

সর্দার আমজাদ আলি বললেন, হ্যা। আমার কিছু বলার আছে। তোমার শোনার সময় আছে?  মমতা, বেশি মুসলমান-মুসলমান করো না। একদিন বুঝবে।

আজ এত বছর পর  কলকাতার ৫০ জন  সমাজ সচেতন মুসলমান নাগরিক মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে যা বলেছেন,তা কয়েক বছর আগে সর্দার আমজাদ আলি তাকে মুখের উপর বলেছিলেন। কিন্তু সেদিন তিনি সর্দার আলির কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে গাড়িতে উঠে যান।

আজ, এতদিন পর কলকাতায় ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ৫০ জন মুসলমান নাগরিক। তাদের বক্তব্য, দুটি ক্ষেত্রেই অপরাধ ঘটিয়েছে মুসলমান লোকজন। একটা অপরাধ বোধ থেকেই ৫০ জন সচেতন মুসলমান নাগরিকের এই যন্ত্রনাময় চিঠি।

এটা তো ঠিকই মমতা সরকারের মুসলমানদের অপরাধকে গৌন করে দেখার প্রবণতা  প্রথম থেকেই বেড়েছে।

মানুষ দেখেছে,ধুলাগড়,বসিরহাট,ডায়মন্ড হারবার সহ বিভিন্ন এলাকার গোলমালে সরকারের কী ভূমিকা ছিল।

আজ বাংলায় বিজেপির সংগঠন না থাকা সত্বেও বিপুল ভোট কী করে তারা পেল?

সহজ হিসাব।

দিনের পর দিন মুসলমান তোষণ হিন্দুদের এককাট্টা করেছে।

তার প্রতিফলন পড়েছে এভিএমে।

এই সহজ কথাটা খুব সহজভাবেই ৫০ জন সমাজ সচেতন মুসলমান  নাগরিক মুখ্যমন্ত্রীর চোখ খুলে দেবার চেষ্টা করেছেন।

অনেকদিন আগের কথা। দিল্লি থেকে জাকাত ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিনিধি দল কলকাতায় আসেন। তারা বাংলায় ধর্ম ও রাজনীতিকে মিশিয়ে দেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে মুসলমান সমাজকে সতর্ক করে দেন। মুসলমান ধর্মগুরুদের রাজনৈতিক মঞ্চে যাওয়া ও রাজনৈতিক নেতাদের ধর্মীয় মঞ্চে যোগদান,দুটিকেই সঠিক নয় বলে তারা মনে করেন।

দেরিতে হলেও কলকাতার ৫০ জন সমাজসচেতন মুসলমান নাগরিকের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সহজ ও সরল সত্যকে তুলে ধরা নিসন্দেহে বাংলায় নতুন দিক উন্মোচন করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here