কবিতা # মোহিতকুমার মণ্ডল # উৎপলকুমার ধারা # কাকলী চ্যাটার্জি # প্রবীর রঞ্জন মণ্ডল # মৃত্যুঞ্জয় হালদার

0
53

কবিতা

ঢেলে সাজাবো
(সিদ্ধার্থ সিংহ প্রবর্তিত রতিছন্দের কবিতা)

মোহিতকুমার মণ্ডল

ভাবছি একেবারেই ঢেলে সাজাবো নিজেকে!

আবেগ আর বাস্তবতার তফাৎ বুঝেছি বহুবার
প্রমাণিত সত্য দেখেছি চেতনার গবেষণাগারে
রং বদলের শত মায়াবী নয়ন ডাকুক যত বার!

ভাবছি এ বার আমার আমিকে দেখাবো তোমায়

সংস্কারহীন দাসত্বের দস্তখতে উইল করিনি নিজেকে!

————

নজরুল মানে

উৎপলকুমার ধারা

নজরুল মানে বিদ্রোহী বীর কালবোশেখীর ঝড়
বিঘ্ন-বাধার সরিয়ে আঁধার ভয়হীন অন্তর
অগ্নিবীণা-র সুর ঝংকারে সাম‍্যবাদের গান
আগলে রাখা বাংলা মায়ের সবটুকু সম্মান!

উথাল পাথাল ঢেউয়ের নদীর অঢেল নির্ভীকতা
নজরুল মানে উন্নত শীরে এগিয়ে যাওয়ার কথা
ধর্মের বেড়া টপকে মায়ের শিকল ভাঙার পণ
নব উদ‍্যোমে সত‍্য-ন‍্যায়ের সংগ্রাম আজীবন!

নজরুল মানে শিশুর খেলায় সকাল বেলার সুর
একবৃন্তে দুইটি ফুলের সুগন্ধে ভরপুর
দুই বাংলার দামাল ছেলের কাব‍্য-গানের হিয়া
দুঃখ-শোকের শৈশবকাল ছোট্ট দুখুমিয়া!

দুর্গম গিরি কান্তর মরু দুস্তর পারাপার
নজরুল মানে বন্ধন হারা সদা অবারিত দ্বার
জাতের নামে বজ্জাতি সব বজ্রকন্ঠে বলা
উর্ধ গগনে বাজিয়ে মাদল আলোর পথেই চলা !

নজরুল মানে নতুন প্রভাত সূর্যের রঙে রাঙা
অত‍্যাচারীর বুকে করাঘাত লোহার গারদ ভাঙা
কদম কদম এগিয়ে চলা দাঁতে-দাঁত চেপে লড়া
নায‍্য পাওনা ছিনিয়ে একটা নতুন জীবন গড়া!

————

অব্যক্ত

কাকলী চ্যাটার্জি

প্রতি ভোরে মাটির কান্নায় ঘুম ভাঙে
ও যে জাগানিয়া গান গায়…
শিশির ভেজা সিক্ত বুকে হাহাকার জাগায়
নিঃশব্দ সে কান্না, অন্তর ভেদ করে
শত শত যন্ত্রণারা ওর বুকে’র পরে
খড়কুটো উড়ে গেছে কবেই দানবীয় ঝড়ে

নদীর পাড় ভাঙে, মাটির আঁচল সরে
ধরনীকে নিল সে গর্ভে, সহস্র বছর ধরে
তবু তাকে কেউ নিল না—
না গো, কেউ নিল না, আপন করে নিজের ঘরে।

————

কিছুক্ষণ আগে

প্রবীর রঞ্জন মণ্ডল

একটু আগে একটা বয়ে যাওয়া নদী
কেমন যেন সমাধিস্থ হয়ে গেল পূর্বাপর!
ওর স্রোত ঢেউ খেয়ে নিল আগুন পলি
বুকের উপর জমে গেল পলি বালি নুড়ি
একেবারে পুড়ে জমা হওয়া ছাইয়ের মতো।
ওর কোনও আর অস্তিত্বই থাকল না
আমাদের শৈশব চরা ভিটের উপর।

আজন্ম চুপিচুপি বেড়ে উঠল ঘাস,
কচিকচি চারাগাছ, ঠিক আমাদের মতো
ডালপালা বিস্তার করে একেবারে মাথা তুলল।
আর ভুলে গেল স্রোতাবহ ফল্গুনদীর কথা
নীরবতায় নীরবতায় কেটে গেল অনেকটা কাল।
এখন একটা চক্রব‍্যূহ তৈরি হল চারিপাশ জুড়ে
আশপাশে আঁটঘাট বেঁধে শাপলা শালুক
মর্স ফার্ন ইত্যাদি ইত্যাদি অবলীলায় ঘর বাঁধল।

বাদ সাধল তোমার আমার নিরিবিলি থাকায়;
আমাদেরও বুঝি জীবাশ্ম জীবন পেতে
আর বেশি বাঁকি নেই এখন।

————

কালরাত

মৃত্যুঞ্জয় হালদার

এখন আর আবদার করি না।
অবসন্ন অঙ্গ নিথর নৈনিতালে
আকছার স্বপ্ন ফেরি করে
ব্যথায় বিলুপ্ত রাত
বেকুব বনে যায়
তোষামোদি তুলো ওড়াই না আর
আলটপকা আলাপ সারি হপ্তাহান্তে
দৈহিক দৈন্যতায় দিনলীপি লিখে রাখি
আশ্চর্য শব্দ সোপানে স্বপ্ন যাপনে
আত্মার আত্মীয়কে মুক্তির ময়দানে হাঁটাই
বর্ষার কদমে কর্দমাক্ত মন করে উচাটন
বৃষ্টি ফোঁটায় ফুরিয়ে যায় যাবতীয় যৌবন
বেদনার বায়নাক্কায় বেওয়ারিশ লাশ হয়ে
পড়ে থাকে কত কামনার কালরাত!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here