নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া : নদীয়া জেলার কল্যাণী মহাকুমার কল্যাণী আদালত। সেখানেই দেখা গেল কালো কোট গায়ে একদল মানুষের হাতে কোদাল,ঝাঁটা,দা, কাটারি, ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইল নিয়ে। প্রথমে আদালত চত্বরে আসা সাধারণ মানুষ একটু চমকে উঠেছিল।

আরে এরা তো উকিল। এদের হাতে এগুলো কি কাজে। পরে বুঝতে পারে যখন এই কালো কোট পরা উকিলরা নামে সাফাই অভিযানে। কল্যাণী আদালত চত্বরের চারিদিকে জমেছিল অনেক নোংরা, জন্মেছিল আগাছা, ছিল অনেক পার্থেনিয়াম গাছ‌ও।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টা নাগাদ কল্যানি বার অ্যাসোসিয়েশন, কল্যাণী ল- ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশন ও কিছু ক্লায়েন্টদের সঙ্গে নিয়ে নেবে পরে সাফাই অভিযানে। কেঁটে ফেলা হয় আগাছা, পার্থেনিয়াম গাছ, পরিষ্কার করা হয় নোংরা আবর্জনা। এ কাজে পিছিয়ে ছিলেন না মহিলারাও।

সাফাই অভিযানে হাত লাগান তারাও। আদালত চত্বরে আশা সাধারণ মানুষও দেখে এগিয়ে আসেন। তারাও লেগে যায় এই কাজে। কাজের শেষে সকলকেই এই ঠান্ডার মৌসুমে একটু খিচুড়ি খাওয়ানোর আয়োজন করে বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত বার অ‍্যাসোসিয়েশন- এর সম্পাদক প্রদ‍্যুৎ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আদালত চত্বরে আগাছায় ভরে গেছে। নোংরা আবর্জনায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বেড়েছে মশার উপদ্রব।

আদালত চত্বরে বসা তো দুরে থাক দাঁড়ালেও মশার কামড়ে স্থির ভাবে এক জায়গায় দাঁড়ানো যায় না। একপ্রকার বাধ্য হয়েই আদালত চত্বরকে পরিষ্কার রাখতে তারা নিজেরাই নেবে গেলেন ঝাঁটা, ব্লিচিং পাউডার,কোদাল, কাটারি হাতে নিয়ে। বারংবার প্রশাসনকে বলা সত‍্যেও কোনরকম শাফায়ের ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। তাছাড়া আদালত চত্বরে এত বড় জায়গা যে, দু ‘একজন স্থায়ী সাফাই কর্মচারীর প্রয়োজন আছে। এ ব্যাপারে কোন নজর নেই প্রশাসনের। তিনি জানান এই বিষয়টি নজরে আনতে মহাকুমা প্রশাসক – এর কাছে তাড়া লিখিতভাবে জানাবেন।

অন্যদিকে বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সম্পাদক জয়ন্ত লাহিড়ী এই দিন বলেন কল্যাণী পৌরসভা বিশুদ্ধ পানীয় জল আদালত চত্বরে পৌঁছায় না। বাধ্য হয়েই আদালত চত্বরে মাটির তলা থেকে উঠানো আর্সেনিকযুক্ত জল আমাদের সকলকে এবং আদালতে আসা সাধারণ মানুষকে ব্যবহার ও পান করতে হয়। বেশ কয়েকবার পৌরসভাকে বলা সত্যেও পৌরসভার বিশুদ্ধ পানীয় জল কল্যাণী আদালতে পৌছাবার কোন সুবন্দোবস্ত বা প্রচেষ্টা আজ পর্যন্ত হয়নি বলেই তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here