বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে চলছে অবৈধ জলের ব্যবসা

0
145

নিজস্ব প্রতিনিধি : বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে চলছে অবৈধ জলের ব্যবসা এই মুহূর্তে হাওড়া জেলায়.রাজ্য প্রশাসন কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে “ব্যাঙের ছাতার মতো ” গজিয়ে ওঠা এই বোতল বন্দি জলের অবৈধ ব্যবসা চলছে.৷

যেভাবে এই জল মাটির তলায় থেকে তলায় হচ্ছে, মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্য বিধি নিষেধ.
এখানকার অপরিশোধিত জল পৌঁছে যাচ্ছে মুর্মূষু রোগী থেকে শুরু করে সদ্যজাত শিশুর মুখে.৷

ডোমজুড় দাসপাড়ার বাসিন্দা জনৈক নির্মল মাঝি “মাঝি এন্টারপ্রিস” নামে নিজের বসত বাড়িতেই খুলে ফেলেছেন এই অবৈধ জলের কারবার.৷

আমরা যখন কথা বলেছিলাম তার সাথে
তিনি একটু বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন যে আমরা কেন পৌঁছেছি তার কাছে, কি উদ্দেশ্য আমাদের!হাওড়া জেলা যেখানে আর্সেনিক দূষণ এলাকা বলে চিহ্নিত এবং এই জেলাকে আর্সেনিক দূষিত এলাকা বলে ঘোষণা করেছে w.h.o.
(হু), সেই জেলাতেই চলছে এই অবৈধ জলের কারবার, যার শিকার সাধারণ মানুষ থেকে
হসপিটাল, নাসিংহোম ছোট বাচ্চারাও, যারা নিয়মিত এই জল খাচ্ছেন.৷

রাজ্য গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী
চাষের ক্ষেত্রে ছাড়া অন্যান্য যেকোনো বাণিজ্যিকভাবে এই জল তুলতে নির্দিষ্ট দপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন, সেই নির্দেশ কে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ও প্রশাসনের নাকের ডগায় হাওড়া জেলায় চলছে রমরমিয়ে এই অবৈধ জলের ব্যবসা.৷

বাড়ির বাথরুমের পাশেই মাত্র দেড়শ ফুট
মাটির নিচ থেকে জল তুলে সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্ধারিত জল প্রক্রিয়াকরণ নির্দেশিকা কে অমান্য করে চলছে এই জলের অবৈধ কারবার. এই ব্যাবসায় তিঁনি মুনাফা লুটছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ.৷

সামান্য ট্যাক্সের টাকা যেখানে সরকারের ঘরে পৌঁছচ্ছে না, সেখানে জলের অপর নাম জীবন নিয়ে চলছে ছিনিমিনি খেলা.৷

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী আর্সেনিকমুক্ত আর্সেনিকযুক্ত এলাকাতে 2000 ফুট বেশি গভীর নলকূপ বসিয়ে জল তোলা স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া রয়েছে.৷
সেখানে এই অবৈধ কারবারি দৈনিক 1000 লিটার জলের বোতল বন্দি করছেন মাত্র দেড়শ ফুট এর বোরিংয়ের পাম্প দিয়ে জল তুলে. ফলশ্রুতি জলস্তর কমছে এই এলাকাতে.আমরা কথা বলেছিলাম এই জলের অবৈধ এককাল বাড়ির সাথে তিনি খুব তাচ্ছিল্যভরে বললেন এত টাকা দিয়ে আইএসআই করে কি হবে!এই জলের ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে যখন আমরা দেখলাম তার বোরিং বসানো রয়েছে বাড়ির পায়খানার যে সুয়ারেজ সিস্টেম সেই সুয়ারেজ সিস্টেমের থেকে চার ফুট দূরত্বে. কোনো স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে না. তিনি কার্যত স্বীকার করলেন যে এর আগে তিনি রঙিন মাছের ব্যবসার জন্য. এলাকার পঞ্চায়েতের দেওয়া সেই অনুমতিপত্র নিয়েই তিঁনি তিনি ভূগর্ভস্থ জল তুলে কুড়ি লিটার ড্রামে ভরে, সেই জল ভরে পঁয়ত্রিশ টাকা তে বিক্রি করছেন সাধারণ

মানুষকে.আমরা যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করি আপনি এই জলের ব্যবসা করার জন্য যা যা অনুমতি পত্রের দরকার তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের থেকে সংগ্রহ করেছেন কিনা তার উত্তরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বললেন যে না এই মূহুর্তে তার কাছে সেই সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি পত্র নেই.৷

বিনা অনুমতিতেই তিনি ব্যবসা করে যাচ্ছেন এবং সেই ব্যবসার মুনাফা তিনি তার স্বার্থে ব্যবহার করছেন, সাধারণ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলছেন.এই জলের গুণগত মান সম্বন্ধে প্রশ্ন চিহ্ন থেকে যাচ্ছে.যে ভূগর্বস্থ জল মাটি থেকে তিনি তুলছেন সেই জলের টি.ডি.এস. এর মাত্রা যেটা থাকা উচিত সেটা অব্দি সেখানে মানা করা হচ্ছে না. নেই কোনো ল্যাবরোটরিও.তিঁনিই জানাচ্ছেন এলাকার এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার কথা অনুযায়ী তিনি এই জলের প্ল্যান্ট বসিয়েছেন.আমরা কথা বলেছিলাম এই এলাকার স্থানীয় বিধায়ক এবং মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি সাথে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দ্বর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন এই ধরনের জলের প্লান্ট যদি থাকে তিনি তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্তরে নির্দেশ দিয়ে ব্যবস্থা অবশ্যই নেবেন এবং তিঁনিই প্রশাসন কে নিৰ্দেশ দেন এই ধরণের জলের কারবার গুলোর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য. এখন দেখার পুলিশ ও প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় এবং কতটা তৎপর হয়.৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here