শ্যামলেন্দু মিত্র # ক’জন মন্ত্রী-আমলা,বিধায়ক,নেতা-নেত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিতসা করাতে যান?

এমনকি সরকারি হাসপাতালের রোগী কল্যান কমিটির চেয়ারম্যান নেতা-মন্ত্রীরাও সেই হাসপাতালে চিকিতসা করান না।

তাহলে,সরকারি হাসপাতাল কাদের জন্য?

শুধুই কি গরিব মানুষের জন্য?

অথচ, সব থেকে ভাল চিকিতসার পরিকাঠামো সরকারি হাসপাতালেই রয়েছে।

আসলে গোড়ায় গলদ।

সরকারি চিন্তা ভাবনাতেই গলদ।

মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের ও মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে সব আমলা এবং পুলিশ অফিসারদের সরকারি হাসপাতালে চিকিতসা  করানো বাধ্যতামূলক করা উচিত।

আমি অন্য লোককে বলবো সরকারি হাসপাতালে যাও,আর নিজে যাবো বেসরকারি হাসপাতালে যাবো। আর সরকার মেটাবে বেসরকারি হাসপাতালের লাখ লাখ টাকার বিল।

সরকারি হাসপাতালের মধ্যে অনেক ফাকা জায়গা আছে। সেখানে বেসরকারি ধাচে ঝা চকচকে পৃথক হাসপাতাল বিল্ডিং করা যেতে পারে। সেখানে  বেসরকারি হাসপাতালের থেকে অপেক্ষাকৃত কম খরচে চিকিতসার ব্যবস্থা করা যায়। তাহলে যাদের সামর্থ আছে তারা সেখানে চিকিতসা করাতে পারবেন।এজন্য পিপিপি মডেল চালু করা হোক। তাহলে বেসরকারি হাসপাতালের একচেটিয়া আগ্রাস থেকে কিছুটা রেহাই মিলবে।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ও তারপরিবার এসএসকেমে চিকিতসা করাতেন। অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তকেও দেখেছি এসএসকেমে চিকিতসা করাতে।

কিন্তু এই আমলে এরকম উদাহরণ দেখি না। মুখ্যমন্ত্রীর সাংসদ ভাইপোর চোখের চিকিতসা   করানো হলো বেলভিউ হাসপাতালে।  চিকিতসা ভাল হয়নি। ওই সময় আমাকে এসএসকেএমের ডাক্তাররা বলেছিলেন,আমাদের এখানে এলে অনেক ভাল চিকিতসা হতো।

সরকারি হাসপাতালে মন্ত্রী আমলা সাংসদ বিধায়করা চিকিতসা করাতে এলে পরিবেশের উন্নতি হতে বাধ্য। হাসপাতালের ভাল মন্দ তারা দেখতে পাবেন। সরকারকে বলতে পারবেন। তাতে কাজ হবে।

আর একটা কথা গোড়া কেটে আগায় জল দিলে গাছ বাচে না।

স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার মূল প্রাইমারি হেলথ সেন্টার। এক সময় এখানে প্রচুর রোগী আসতো। ডাক্তার নার্স থাকতো। কোয়ার্টার ছিল। আজ তা ডকে উঠে গেছে।

শুধু সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করলে চলবে না।

পিএইচসিকে চাঙ্গা করতে হবে। তাহলে জেলা ও কলকাতার হাসপাতালে চাপ কমবে। রোগী রেফার করা কমাতে  হবে। তার জন্য প্রাইমারি হেলথ সেন্টারগুলিকে পূর্ণ গ্রামীণ হাসপাতাল করতে হবে।

কলকাতার  প্রতিটি হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমশ  বাড়ছে। হাসপাতালের ৮০ শতাংশ কাজ তো জুনিয়র ডাক্তাররা করে। ফলে তাদের কথায় কথায় হেনস্থা করলে তারা কাজ করবে কিভাবে?

রোগী মারা যাবেই। আর মারা গেলেই পাড়া থেকে দলে দলে লোক লুঙ্গি তুলে এসে ডাক্তারকে মারতে লাগলো। বেসরকারি ক্যালকাটা হাসপাতালের ডাক্তাররা তো সব সময় ভয়ে থাকেন। রোগী মারা গেলেই দলে দলে লোক ঢুকে যায় হাসপাতালে। ভাঙচুর লেগেই আছে। পুলিশ কত সামাল দেবে? তাই বলছি,অনেক হয়েছে।

আর চুলকাইয়া ঘা করিবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here