অচল হাসপাতাল, বিদ্রোহ চারিদিকে বিদ্রোহ আজ, প্রতিবাদ নিজেদের ঘরেও # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

0
78

 

শ্যামলেন্দু মিত্র # চ্যারিটি বিগিনস এট হোম।।।

এবারে প্রোটেস্ট বিগিনস এট হোম।

বিদ্রোহ চারিদিকে বিদ্রোহ আজ।

প্রতিবাদ রাজ পরিবার থেকেও। প্রতিবাদ কোর কমিটির অন্যতম সদস্য-সদস্যাদের পরিবার থেকেও৷ প্রতিবাদ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো থেকে মন্ত্রী-কন্যা। প্রতিবাদে সাংসদ-পুত্রও।

প্রশ্নটা ন্যায়-অন্যায়ের।

হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু।  তার জন্য ডাক্তার দায়ি?  এটা হতে পারে?

মৃত্যু সব সময় বেদনার।

কিন্তু মৃত্যুর প্রতিবাদ কি ডাক্তারদের মেরে?  তাও আবার দল বেধে! পাড়া থেকে ট্রাক ভর্তি ক্রিমিন্যালরা এসে হাসপাতালের গেট  অবাধে টপকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঢুকে কুকুর মারার মতো ডাক্তারদের মারা। লাঠিসোটা,লোহার রড,ইট- পাথর দিয়ে ডাক্তারদের থেতলে মারা।

এটা কি মেনে নেওয়া যায়?  কলকাতা ছাড়িয়ে বাংলা,দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের দেশে দেশে এর প্রতিবাদ হচ্ছে। ডাক্তাররা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী এর মধ্যে রাজনীতি দেখলেও তার ভাইপো হবু ডাক্তার আকাশ ব্যানার্জি কিন্তু ডাক্তারদের পক্ষে দাড়িয়েছেন। ডাক্তারদের মারধরের নিন্দা করে সরকারি ব্যবস্থার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেয়র-কন্যা হবু ডাক্তার সাব্বা হাকিম। ডাক্তারদের উপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার-পুত্র বৈদ্যনাথ।

বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার মেয়র-কন্যা সাব্বা হাকিমের সুরেই ফেসবুকে পোস্ট করে বলেছেন, যেভাবে ২০০ দুস্কৃতি সরকারি হাসপাতালে প্রবেশ করে একজন ২৩ বছরের ডাক্তারকে কার্যত মেরে ফেলেছিল সেটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২০০ জনের মধ্যে মাত্র ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটাও আশানুরূপ নয়। আমি এনআরএসের পাশে আছি। গোল্লায় যাক রাজনীতি।

( সাংসদ-পুত্র আবার তার পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরে  ফেসবুক থেকে পোস্ট মুছে দিয়েছেন। তিনি ডাক্তার।)

চারদিকে হতাশার ও রাজনীতির অন্ধকারের মধ্যেও আলোর দিশা।

যে ডাক্তারকে ফেলে মারা হল তার আঘাত গুরুতর নয় বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য, ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর ডাক্তাররাও মারপিটে জড়িয়েছিল।

একটা প্রশ্ন, ঘটনাটা হয়েছে হাসপাতালের মধ্যে। সেখানে বাইরে থেকে শয়ে শয়ে লোক লাঠিসোটা,লোহার রড নিয়ে ঢুকলো কি করে?

এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ডাক্তারদের গায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগানো হচ্ছে কেন?

# মন্ত্রী-মেয়র ফিরহাদ(ববি) হাকিমের বক্তব্য, ডাক্তারবাবুরা সাধারণ মানুষের কাছে তো ভগবান। আর সেই ভগবানরা যদি কাজ বন্ধ রাখে তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ বাঁচবো কি করে। নিশ্চয়ই যারা ডাক্তারবাবুদের গায়ে হাত দিয়েছে তাদের উচিত ছিলো, যদি চিকিৎসায় গাফিলতি সন্দেহ করতেন তাহলে নির্দিষ্ট উপায়ে যেতে পারতেন। তা না করে যারা ডাক্তারবাবুদের পেটান তারা গণশত্রু এবং আদালতের কাছে দাবি থাকবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক,  যাতে ভবিষ্যতে ডাক্তারবাবুদের গায়ে কেউ হাত দেওয়ার সাহস না পায়।

মন্ত্রী-মেয়র ও তার কন্যার স্পষ্ট বক্তব্যকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরে নতুন করে বিতর্ক হচ্ছে।

আসলে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন যে কোনও মানুষই মনে করে ডাক্তার পেটানো অন্যায়।

তাই তার প্রতিবাদ হচ্ছে দিকে দিকে।

মুখ্যমন্ত্রীর ইগো ছেড়ে এখনই এন আর এসে গিয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে বসে সমস্যার মীমাংসা  করা উচিত।

মুখ্যমন্ত্রী,এসমা প্রয়োগের মনোভাব ত্যাগ করুন।

আপনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই আপনার যাওয়া উচিত। আপনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here