গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, পূর্ব বর্ধমান : পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার ঘোড়ানাশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক দক্ষিণারঞ্জন রায় পরলোক গমন করলেন শুক্রবার সকাল ৮টা২০ নাগাদ নিজবাসভবনে।মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

প্রয়াত শিক্ষকের বাড়ী কাটোয়া ২নং ব্লকের জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমডাঙ্গা গ্রামে।দক্ষিণারঞ্জন রায় কর্মজীবন শুরু করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে।প্রথমে তিনি হুগলী জেলার রামজামনা গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর ঘোড়ানাশ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।১৯৯৩ সালের ৩০ মে তিনি ঘোড়ানাশ উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষকতা কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতেন।মৃতুদিন পর্যন্ত তিনি একনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন।১৯৮৩-১৯৮৮ পর্যন্ত তিনি জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন।দীর্ঘদিন তিনি জগদানন্দপুর অঞ্চল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।পরবতীকালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি মুস্থূলী ঘোড়ানাশ সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সম্পাদকও ছিলেন। শুক্রবার দক্ষিণারঞ্জন রায়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই প্রয়াতের শিক্ষকের বাড়িতে যান জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম ঘোষাল সহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ। মৃতদেহ বাড়ি থেকে প্রথমে আনা হয় মুস্থূলী তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে।সেখানে জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম ঘোষাল মরদেহে মাল্যদান করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী,সমর্থকরা মাল্যদান করেন।
তারপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মুস্থূলী ঘোড়ানাশ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে।সেখানে সমিতির সদস্য ও কর্মচারীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। তারপর মরদেহ ঘোড়ানাশ উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক -শিক্ষিকা,পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মাল্যদান করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।স্কুলে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর জগদানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে পঞ্চায়েতের নির্বাহী সহায়ক রবীন পাল,,

পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম ঘোষাল সহ পঞ্চায়েতের স্টাফরা মাল্যদান করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।সেখান থেকে মরদেহ দাঁইহাট শ্মশানঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। দক্ষিণারঞ্জন রায়ের মা প্রতিমা রায়,স্ত্রী গীতা রায়,দুই ছেলে নিখিলরঞ্জন রায় ও অখিলরঞ্জন রায়,দুই বিবাহিত কন্যা বকুল বটব্যাল ও পুতুল চ্যাটার্জ্জী বর্তমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here