ব্যুরো রিপোর্ট : সল্টলেকের সেক্টর-৩,সিসি ব্লকের বাসিন্দা রিয়া বিশ্বাস এবং তার মা দুজনেই পশুপ্রেমী দীর্ঘদিন ধরেই তারা বাড়িতে কুকুর,বিড়াল পোষেন। এবং তাদের যথাযথ যত্নে ও ডাক্তারি চিকিৎসা ব্যাবস্থার মধ্যেই রাখেন। কিন্তু গত রবিবার রাত ১০টা থেকেই অর্থাৎ ২ই জুন রিয়া দেবী তার পোষ্য বিড়ালটি কে খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

কিন্তু খোঁজ করতে করতে যখন পাশের বাড়ির বাসিন্দা মুকেশ দাস কে পুকুর পাড়ে বসে থাকতে দেখেন তখন বিষয়টি জিজ্ঞাসা করেন তখন প্রথমে মুকেশ জানায় যে, ১৫ মিনিট ধরেই দেখছিলাম বিড়ালটি পুকুরে ডুবছে, কিন্তু আমি দেখেও তাকে তুলিনি। পরবর্তী সময়ে রিয়া দেবী মুকেশ কে বলেন যে, যখন দেখতে পারছিলেন একটা অবলা প্রাণী ডুবছে তাহলে তুললে না কেনো ? সেই মুহূর্তেই প্রশ্ন করতে মুকেশ দাস যথারীতি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিয়া দেবীকে সজোড়ে ধাক্কা মারে যার ফলে রিয়া দেবীর কাঁধে, চোট লাগে। এবং রিয়া দেবী আঘাতের জেরে চিৎকার করতে শুরু করেন। তৎক্ষণাৎ এলাকার আর এক বাসিন্দা পঙ্কজ ও তার বন্ধুরা ওই ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। তাদের কে রিয়া দেবী বিষয়টি বলেন ও বিড়ালটি কেও খুঁজতে বলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা মুকেশ দাস কে জিজ্ঞাসা করলে তাদের বিড়ালটি খুঁজে বের করতে ভুল জায়গা দেখায় মুকেশ। কিন্তু পরবর্তীতে ওই মুকেশ দাস যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো পুকুরের পাড়ে, পুকুরের সেইস্থান থেকেই বিড়ালটি কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পঙ্কজ ও তার বন্ধুরা। বিড়ালটি কে পুকুর থেকে উদ্ধার করতেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় মুকেশ দাস। তারপরই রিয়া দেবী তার বিড়ালটিকে নিয়ে পুতে দেয় মাটির নিচে। কিন্তু পরবর্তী সময় এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার টিমের কিছু সদস্য এবং কলকাতা স্ট্রীট ডগ গ্রুপের এডমিন কে নিরুপায় হয়ে রিয়া দেবী পুরো বিষয়টি জানালে, তারা তখন রিয়া দেবীকে বলেন, নির্মমভাবে একটা অবলা পশুকে হত্যা করা হলো তার সাথে সাথে একটা মেয়ে কে মারা হলো তার কি কোন বিচার হবে না ? আমরা সকলেই আপনার পাশে আছি আপনি পুলিশের কাছে FIR করুন। কারণ যেখানে আইন বলছে পশুদের ইচ্ছে করেই হোক কিংবা অনইচ্ছেতেই মারা হোক না কেনো, তাদের যথারীতি শাস্তি হওয়া উচিত এটা আইন বলছে। তার জন্যে আইনের কিছু ধারা রয়েছে যেমন পিসিএ আইন ধারা ১১, এবং আইপিসি ধারা ৪২৮ ও আইপিসি ৪২৯ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দোষীর বাধ্যতামূলক। এছাড়াও পুলিশ কোনো এরেস্ট ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন। সেই কথা শুনে রিয়া দেবী পুনরায় বিড়ালটি কে মাটির তলা থেকে উদ্ধার করে সেটিকে একটি বাক্সে রাখেন। এবং ৪ই, জুন রিয়া দেবী বিধাননগর দক্ষিণ থানা তে যান মৃত বিড়ালটি নিয়ে সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত মুকেশ দাসের নামে FIR করেন। যে মুকেশ নামে ওই ছেলেটি বিড়াল টিকে মারে ও যথারীতি সেটা জানতে চাওয়াতে রিয়া দেবীকেও ধাক্কা মারেন আঘাত করেন। সেই অভিযুক্তর নামে FIR দায়ের করার সাথে সাথেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ পুরো বিষয়টা নিয়ে তদন্তে নামেন এবং বিড়ালের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয় বেলগাছিয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকেই ডাক্তার, ময়নাতদন্ত করে প্রাথমিক ভাবে বিধাননগর দক্ষিণ থানার এএসআই পুলিশ অফিসার ও হাসপাতালে তার সাথেই উপস্থিত বিড়ালের মালিক রিয়া দেবী কে জানান যে, বিড়লাটিকে শুধুই জলে ডুবিয়ে মারা হয়নি, তার ঘাড় টাকে ভেঙে ফেলা হয়, যার ফলেই শরীরে ভেতরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, তারপর তাকে পুকুরে ফেলে দিলে ডুবে তার মৃত্যু হয়। যার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সাতদিন পরে পুলিশের কাছে পেশ করা হবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর পর অনেকেই রিয়া দেবীকে তার কুকুর বিড়াল সরানোর কথা বলেন, রিয়া দেবী কারণ জিজ্ঞাসা করলে, অভিযুক্ত ব্যাক্তি এটাও বলেন যে, আজ বিড়াল মারতেই FIR হয়েছে, তখন তাদের মধ্যে থেকে এক বলেন কাল কুকুর যদি পিটিয়ে কেউ মেরে ফেলে তাহলে আবার আমাদের ওপর আইনি পদক্ষেপ নেবে তোমরা, তাই ওদের আগের থেকেই সরিয়ে দিতে চাই সরকারী পদক্ষেপ নিয়ে। এরপর দিন যেতে না যেতেই রিয়া দেবী ও তার পরিবারের ওপর একের পর এক বাজে ব্যবহার ও কথা বলতে থাকে অভিযুক্ত। যার ফলে অভিযোগ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে রিয়া দেবী ও তার পরিবারের সদস্যরা । কিন্তু আমাদের সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষ বিচার করে খবর করবার জন্য যখন বিষয়টি জানতে চান এলাকার কোনো এক ব্যক্তির থেকে যার নামে মিথ্যে অভিযোগ করেছেন রিয়া দেবী এটা ওই ব্যক্তির অভিযোগ? সেইসময় ওই ব্যক্তির সাথে সাংবাদিকরা কিছু কথা বলতে গেলে ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। এই সবকিছু শুনেই আমার সাংবাদিকরা ফোনে যোগাযোগ করি ওই সল্টলেক সিসি ব্লক এলাকার কাউন্সিলর নির্মল দত্ত বাবুর সাথে তাকে পুরো বিষয়টি জানাই। সেই ঘটনা শুনে তিনি আমাদের ফোনে জানান, তিনি নিজেও একজন পশু প্রেমী, পশুপাখি দের তিনিও যথেষ্ট স্নেহ করেন। তাই বলে যারা এই নোংরা কাজ করেছে, কিংবা মেয়েটির সাথে দুর্ব্যবহার করছেন  প্রশাসন অবশ্যই তদন্ত করে দোষীদের যোগ্য শাস্তি দেবে বলে আশ্বাস দেন।

এবং এই ঘটনায় তিনি রিয়া দেবী ও তার পরিবারের পাশে থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন এখন একটাই যে ধরণের নোংরা জগন্য ঘটনা আমার একবার এন.আর.এস হাসপাতালের ১৪টি কুকুর শাবক হত্যা কাণ্ডের সময় দেখে ছিলাম যার জেরে গোটা বাংলার মানুষ আন্দোলনে নেমে ছিলো। হয়তো এই ক্ষেত্রেও রিয়া দেবী ও তার পরিবারের সাথেও যে, নিন্দনীয় ঘটনা ঘটছে তার জন্যে প্রশাসনও যথেষ্ঠ সহযোগিতা করছেন ও করবেন বলে আমরা ভীষণ আশাবাদী। ও দোষীর যথাযোগ্য শাস্তি হবে বলে আশাবাদী। কিন্তু এই পশু হত্যার ঘটনা যাতে পুনরায় যাতে আন্দোলের পথ বেছে না নেয়।পশু হত্যায় আবার বাংলার বুকে বিরাট আন্দোলনের সূত্রপাত না ঘটে তার জন্যে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রাখবো বিষয়টি নিয়ে একটু সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার। এবং আমরাও এই পশু হত্যার বিষয়টি নিয়ে ওপর মহলকে জানাতে বাধ্য হবো যাতে এই নির্মম অবলা জীব গুলোর যেনো বিনা কারণে মৃত্যু না হয়। কারণ ইতিমধ্যেই  সরকার এই বিষয়ে ভীষণ তৎপর আইনি পদক্ষেপ তৈরি করেছেন। পুরো বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে প্রশাসন ব্যাবস্থা নেবে বলে আশারাখি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here