নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দলত্যাগ করলে পদত্যাগ করা উচিৎ # না হলে, তাকে যারা ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাদের অপমান করা হয় # বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র

0
5

# বেঙ্গল ওয়াচের জন্য কলম ধরলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামলেন্দু মিত্র #

 

দলত্যাগ করতেই পারেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

তা দলত্যাগ আইনে পড়ল কি না পড়ল সেটা আইনের কথা।

কিন্তু নীতিগত কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগ  করা উচিৎ।

নির্বাচিত কাউন্সিলার,বিধায়ক বা সাংসদ দলত্যাগ করলে তার সঙ্গে সঙ্গে  পদত্যাগ করা উচিৎ।

কারণ, তিনি এক দলের হয়ে ভোটে জিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছেন।

অন্য দলে যাওয়ার আগে তো তিনি তার ভোটারদের সম্মতি নিচ্ছেন না।

তিনি আচমকা নিজ সিদ্ধান্তে অন্য দলে যাচ্ছেন।

তারভভোটারদের অপমান করা হয়।

এই উদাহরণ সব দলের জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বাম আমলে এই ধরনের উদাহরণ প্রায় নেই বললেই চলে।

পরে পরে ভুরি ভুরি জনপ্রতিনিধি এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন।

কিন্তু  নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে খাতায় কলমে তিনি পুরনো দলেই থেকে যান।

ব্যতিক্রম শুভেন্দু অধিকারি।

তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সাথে  সাথে মন্ত্রী ও বিধায়ক পদ ছাড়েন।

কিন্তু বিজেপিতে যোগ দিলেও রাজীব ব্যানার্জি ছাড়েননি বিধায়ক পদ।

সুনীল মন্ডল বিজেপিতে যোগ দিলেও সাংসদ পদ ছাড়েননি।

একই উদাহরণ তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারি।

টাটকা উদাহরণ মুকুল রায়।

তিনি সদ্য নির্বাচিত বিজেপির বিধায়ক।

সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন।

কিন্তু বিধায়ক পদ ছাড়েননি।

তিনি আবার পিএসির চেয়ারম্যান পদের দাবিদার।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারির কটাক্ষ, উনি বিধায়ক থাকলে তো পিএসির চেয়ারম্যান হবেন!

শুভেন্দু অধিকারি বলেন ……….

১) আগামী ১৬ জুলাই মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের প্রথম শুনানি স্পিকারের কাছে।

২) সেখানে আমি সব তথ্য ও নথি তুলে ধরবো আমার যুক্তির স্বপক্ষে।

৩) সদ্য মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

৪) আবার তৃণমূলই তাঁর নাম পিএসি কমিটিতে প্রস্তাব করেছে।

৫) গত বৃহস্পতিবার আমি ৬৪ পাতার একটি অভিযোগ জমা দিই স্পিকারের কাছে।

৬) বুধবার আমার সেই অভিযোগ সত্যতা প্রমাণিত হয়ে গেল।

৭) ওঁর বিধায়ক পদই থাকবে না।

৮) বিধায়ক না থাকলে পিএসি’র চেয়ারম্যান হওয়ার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে!

৯) স্পিকার আমাকে ১৬ তারিখে ডেকেছেন শুনানির জন্য।

১০) আমি সেই শুনানিতে যাব, সব তথ্য নথি জমা দেব।

১১) তার পর তো আর বেশি দিন অপেক্ষা করব না।

১২) আদালতে চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

১৩) বিধায়কই থাকবেন না।

১৪) আর পিএসি কী!

বিধানসভার উপ মুখ্য সচেতক তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন………..

১) পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি সহ বিধানসভার সমস্ত কমিটির চেয়ারম্যান ঠিক করার অধিকার রয়েছে স্পিকারের।

২) এখানে সরকার পক্ষের কোনও হাত নেই।

তৃণমূলের দাবি, মুকুল রায়ের মনোনয়নে তাদের কোনও হাত নেই।

যদিও প্রস্তাবক হিসেবে মুকুল রায়ের মনোনয়নে সই করেছেন কার্শিয়াঙের তৃণমূল সমর্থিত মোর্চার বিধায়ক রুদেন সাদা লেপচা ও এগরার বিধায়ক তরুণ মাইতি।

শুভেন্দুর বক্তব্য………….

১) ভাবের ঘরে বসে চুরি করে লাভ নেই।

২) খুব সুন্দর কাজ করেছেন ওঁরা।

৩) কালীদাসের মতো কাজ করেছেন।

৪) তাই আমার কাজ অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।

৫) আমার লড়াই আইনগত।

৬) বিধায়ক পদ খারিজের লড়াই।

৭) সেই লড়াইয়ে আরও এক ধাপ আমি এগিয়ে গেলাম।

৮) সেই সুযোগটা  আমাকে করে দিয়েছে শাসকদল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here