শেফালী মায়ের পুজো

0
81

দেবাশীষ পাল -তিনি মুসলিম মা কালী স্বপ্ন পেয়ে সুরু করেন মা কালীর পুজো আজও তার নামে হছে শেফালী মায়ের পুজো
এই কালি পুজোর সূচনা এক মুসলিম মহিলার হাত ধরেই। পুজো তো অনেক জায়গায় হয়ে থাকে কিন্তু মালদার হব্বিপুর ব্লকের বুলবুলচন্ডীর মধ্যেমকেন্দুয়ার কালী পুজো একটু নয় বরং অনেকটাই আলাদা।

সাধারণত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষই কালীপুজো করে থাকে। কিন্তু মধ্যেমকেন্দুয়া গ্রামে কালী পুজো শুরু করেছিলেন শেফালী বেওয়া নামে বছর ৪৯ -এর এক মুসলিম মহিলা।

এই পুজো শুরু করার প্রধান কারণ, শেফালীর স্বপ্নে মা কালীর আদেশ। শেফালীর কথায়, “হঠাৎ একদিন তাকে স্বপ্ন দেখায় মা কালী, যে তার পুজো তিনি যেন শুরু করেন। শেফালী মা কালীকে উত্তরে বলেন, আমি মুসলিম! কীকরে পুজো দেবো? স্বপ্নতে মা কালি শেফালীকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, তোর কোনো ভয় নেই তুই আমায় পুজোর দিবি।”

যেহেতু তিনি মুসলিম তাই পুজো শুরু করার আগে গ্রামের মানুষকে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়কে স্বপ্নের কথা জানান, প্রথমে গ্রামবাসীদের এতে একটু দ্বিধা করলেও পরে তা মেনে নেন। গ্রামের মানুষরা তারপর কোনো প্রতিবাদ না করে শেফালীকে সহোযগিতা হাত বাড়িয়ে দেয়।

শুধু এই নয়, শেফালী বেওয়া পুজো তো করেনই। শোনা যায়, মা কালী আবার শেফালী বেওয়াকে ভরও করেন বলে দাবি গ্রামবাসীর। যখন শেফালীর শরীরলে মা কালি ভর করেন তখন এলাকার মানুষ তো আসেই, তাছারাও অনেক দুরদুরান্ত থেকে শেফালী দেবীর কাছে আসেন মানুষ। তিনি ভক্তের মনকামনা পূর্ণ করেন। রোগ ব্যাধিও দূর করেন মা কালীর ভরে শেফালী বেওয়া।

মনকামনা পূরণের পর মা’কে ভক্তি ভোরে তার ভক্তরা প্রচুর প্রচুর উপঢৌকন মায়ের পায়ে অর্পিত করেন। টাকা পয়সা তো থেকেই সাথে সাথে সোনা ও রুপোর গহনাও। আর এভাবে মায়ের পুজোর খরচ জোগার হয়ে থাকে। শেফালী বেওয়ার নাম থেকে এই কালীর নাম হয়ে যায় শেফালী কালী।

৩৬ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে এই পুজো। এই মূর্তির উচ্চতা প্রায় ১৪ হাত লম্বা। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে প্রতিমার করে আসছেন গোলক পাল। তিনি জানান, এই মূর্তি প্রায় ১২ বছর ধরে তৈরি করে আসছি। প্রতিমা তৈরি করার আগে স্নাস করে শুদ্ধ হয়ে রীতিনীতি মেনে নিরামিষ খেয়েই তৈরি করি শেফালী মায়ের এই প্রতিমা।

গ্রামবাসীর বিশ্বাস, পুজোর দিন থেকে ১৫ দিন ধরে প্রতিমা তার জায়গাতেই থাকেন, আর ১৫ দিনের আগে বিসর্জন করতে চাইলে কেউই মায়ের স্থান থেকে তাঁকে নামাতে পারবে না এমনই বিশ্বাস তাদের।

শেফালী মায়ের পুজো প্রথম শুরুর সময় শেফালী বেওয়া বলে দেন মায়ের প্রতিমা কেমন হবে। শেফালী মায়ের গায়ের রঙ কালো এবং মায়ের রূপ ভয়ঙ্কর। এই রীতিনীতি মেনেই আজও হয়ে আসছে মালদার এই গ্রামে শেফালী মায়ের আরাধনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here