আমার কথা # দেবদূত ঘোষঠাকুর # শুরু হচ্ছে ধারাবাহিক কথন # আজ মুখবন্ধ # কাল থেকে মূল লেখা

0
36

আমার কথা # দেবদূত ঘোষঠাকুর

যাদবপুরের এক উদ্বাস্তু কলোনিতে শৈশবের বেড়ে ওঠা।

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় আর প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী।

স্নাতোকত্তরের পরে পিএইচডির জন্য গবেষণাও শুরু করেছিলাম।

গবেষণার বিষয় আর্গোনমিক্স বা মানবপ্রযুক্তিবিদ্যা। এই বিষয়টি আবার ক্রীড়াবিজ্ঞানের ভিত্তি।

একটা সময়ে লক্ষ্য ছিল আর্গোনমিস্ট বা ক্রীড়াবিজ্ঞানী হব কিংবা ওই দুটো বিষয়ের একটি নিয়ে পড়াব।

মানুষ ভাবে এক, হয় অন্য।

আর্গোনমিক্সে গবেষণা করতে করতে হঠাৎ করেই আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগদান।

৩৪ বছর ওই প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে অবসর।

তার মধ্যে শেষ ১৭ বছর চিফ রিপোর্টারের দায়িত্ব সামলেছি।

ওই পদে থাকতে থাকতেই ৫০ বছর বয়সে ছেড়ে আসা বিষয়েই গবেষণা শেষ করে পিএইচডি লাভ।

আর্সেনিক সহ অন্য দূষণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আর আবহাওয়ার পরিবর্তনের খবর পছন্দের বিষয়।

সেই সূত্রে বিভিন্ন আলোচনা চক্রে আমন্ত্রিত বক্তা।

তবে চার বছর উত্তর-পূর্ব ভারতে থাকার সময়ে উগ্রপন্থা নিয়ে লিখতে হয়েছে বহু।

অপরাধ জগত নিয়ে কৌতূহল বাড়িয়েছে আমার পেশা।

বিশ্বভারতী, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক থেকেছি দীর্ঘসময়।

বিষয়- ফিজিওলজি ও পরিবেশ বিজ্ঞান। অবসর কাটাচ্ছি টুকটাক, লেখালেখি, বাগান করে আর নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ে কিশোর ছাত্রদের এবং হেলথ ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের জীবন বিজ্ঞান আর পরিবেশ বিজ্ঞান পড়িয়ে।

অবসরের আগে শান্তিনিকেতনের অদূরে কোপাইয়ে কিছুটা জমি কিনে বাড়ি করেছি।

চাষবাস করছি।

ওই বাড়িটাই আমার দ্বিতীয় সন্তান।

স্ত্রী সুতপা কলেজে ইতিহাস পড়ান।

সংসার সামলে ৫৬ বছর বয়সে হালে পিএইচডি করেছে।

একমাত্র পুত্র ঋচীক পদার্থবিজ্ঞানের স্নাতোকত্তর করে বিশ্বভারতীতে পরিবেশ বিজ্ঞানে পিএইচডি করছে।

একটি গবেষক সংস্থায় চাকরি করছে।

স্ত্রী সু গায়িকা।

আর আমি ফুটবল দেখলে থাকতে পারি না। পা নিসপিস করে। এ বয়সেও মাঠে নেমে পড়ি।

কোপাইয়ে আমার দমদমা গ্রামে আদিবাসী মেয়েদের নিয়ে একটা ফুটবল টিম করেছি। আর একটা নেশা আছে।

তালের গান হলে আঙুলগুলি তাল ঠুকতে শুরু করে। একসময় তবলা শিখেছিলাম যে!

ছেলের নেশা পরিবেশ বিজ্ঞান। বিশেষ করে অপ্রচলিত শক্তি।

বাবা-মা গত হওয়ার পরে দিদি (বিষ্ণুপ্রিয়া) আর জামাইবাবু (অলক) ই আমার অভিভাবক।

নিজের জীবনের নামা ওঠা নিয়ে অনেকেই কিছু লিখতে বলছিলেন।

তাই এই ব্লগের সূচনা। সৌজন্যে পুত্র শ্রীমান ঋচীক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here