জলপাইগুড়ির কলেজপড়ুয়া তীর্থকুমার  সাইকেল চড়ে রাজ্য ভ্রমণে, এলেন ভাতারে 

0
66

নিজস্ব প্রতিনিধি,পূর্ব-বর্ধমান:সবুজ সাথী প্রকল্পে পাওয়া সাইকেলে চড়ে রাজ্য ভ্রমণে বেড়িয়ে ভাতারে এলেন জলপাইগুড়ির বাসিন্দা কলেজপড়ুয়া তীর্থ কুমার রায়(২১) ।

সম্বল বলতে একটি ব্যাগ । ব্যাগে কিছু পোশাক আর বইপত্র ।

ভ্রমনের পাশাপাশি চলছে তার পড়াশোনা । বিগত প্রায় দু’বছর ধরে সাইকেলে চড়ে তিনি রাজ্যের অধিকাংশ জেলা ঘুরে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি ।

মঙ্গলবার তিনি ভাতার থেকে বীরভুমের নানুর উদ্দেশ্যে রওনা হন ।

জানা গেছে, জলপাইগুড়ি জেলার কোতোয়ালী থানা এলাকার নাথুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তীর্থ কুমার রায় বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান । তাঁর এক বছর বয়সে বাবা সুশীলচন্দ্র রায় ও ক্লাস নাইনে পড়ার সময় মা লক্ষীদেবী মারা যান । তারপর থেকেই মামার বাড়িতে ।

তীর্থবাবু জানিয়েছেন, সোনাউল্লা হাইস্কুলে একাদশ শ্রেনীতে পড়ার সময় সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল পান । তারপর থেকে সাইকেলে চড়ে রাজ্য ভ্রমনের নেশা জাগে ।

এরপর জ্যাঠা ও জেঠিমা বাসন্তীদেবীর অনুমতি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ তিনি সাইকেলে চড়ে রাজ্য ভ্রমনে বেড়িয়ে পড়েন।  ভ্রমনের পাশাপাশি চলে পড়াশোনা ।

ভ্রমন করার সময় কোন পরীক্ষা এসে গেলে সেই সময় যে এলাকায় থাকেন সেখানকার থানায় সাইকেল রেখে দিয়ে বাসে বা ট্রেনে পরীক্ষা দিতে চলে যান । তারপর পরীক্ষা শেষে ফিরে এসে পুনরায় সাইকেল নিয়ে ভ্রমন শুরু করেন ।

এইভাবেই তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কলকাতার গড়িয়াহাট রোডের একটি কলেজে বানিজ্য বিভাগে স্নাতকে ভর্তি হন । বর্তমানে তাঁর দ্বিতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টার চলছে ।

জানা গেছে, মুর্শিদাবাদ, বীরভুম, নদীয়ার কয়েকটা জায়গা ঘোরার পর তিনি কাটোয়ায় আসেন । তারপর কাটোয়া থেকে কালনা,মন্তেশ্বর হয়ে দিন দুয়েক আগে ভাতারে এসে পৌঁছোন । ভাতার থানায় সাইকেল রেখে পড়াশোনার কাজে কলকাতায় যান ।

এদিন থানা থেকে সাইকেল নিয়ে পুনরায় বীরভুমের নানুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন ।
তীর্থবাবু বলেন, ‘সমগ্র উত্তরবঙ্গ আমার ঘোরা হয়ে গেছে । এবছরের মার্চ-এপ্রিল মাসের মধ্যে দক্ষিনবঙ্গের জেলাগুলো ঘোরা হয়ে যাবে । তারপর বাড়ি ফিরে যাবো ।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাইকেল নিয়ে গোটা দেশ ঘোরা আমার লক্ষ্য । পাশাপাশি আমি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে চাই ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here