মধুমিতা সরকার, শিলিগুড়ি : এবার কাট মানি নিয়ে দখল করে রাখা জমি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপাকে তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সহ আরো কয়েকজন। শিলিগুড়ির বাগডোগরার ঘটনা। অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় স্তর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল হয়নি বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী প্রমোদ আগরওয়াল। ফলে ১৫বছর আগে কেনা জমি থেকে এখন দখলদার উচ্ছেদ করতে তিনি সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছেন।

যদিও এ বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌতম দেব। তিনি বলেন জমির মালিক বলে তিনি দাবি করেছেন তিনি সবার কাছে গেলেও আমার কাছে কোনদিন আসেননি। অভিযোগ, ২০০৪ সালে বাগডোগরা আয়াপ্পা মন্দির লাগোয়া এলাকায় সোয়া তিন একর জমি কিনেছিলেন শিলিগুড়ির ব্যবসায়ী প্রমোদ আগারওয়াল। মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন উইল করে তার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর চার ছেলেকে খতিয়ান করে দিয়ে যান বলে দাবি প্রমোদবাবুর। ২০০৪ এ কেনা হলেও ২০১৪ পর্যন্ত ওই জমিটি ফাঁকাই পড়ে থাকে। এরপর ওই সময়ে তৎকালীন তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য গৌতম কীর্তনীয়া এবং আইএনটিটিইউসি নেতা আশিস দে ওরফে রাজা, তাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে জমিটি খাস বলে দাবি করে। সে বিষয়ে মিটমাট করিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। প্রমোদ বাবুর দাবি, আমি জমির মালিক এবং সরকারি আধিকারিক ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে সমঝোতায় আসতে রাজি নই।

তাই তাদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই চলে আসি। এরপরই আমাকে শায়েস্তা করার ফন্দি খুঁজতে থাকে তারা। ২০১৪ সালে জমি কেনার ১০বছর পর সিরাজউদ্দিন এর দ্বিতীয় পক্ষের ছেলেকে হাজির করে তাকে উত্তরাধিকারী বলে দাবি করতে থাকে। পাশাপাশি তাকে জমিতে জোর করে বসিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি মিটমাট করতে তাকে ফের আশিস বাবূর সঙ্গে বসে সমঝোতা করে নিতে বলেন দার্জিলিং জেলার সভাপতি অরূপ রতন ঘোষ বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অরূপ রতন বাবুর দাবি তিনি কারো কাছে যাননি তার কাছেই এসেছিল অভিযোগকারীরা পরে মামলা থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে এগতে চাননি। সব জানিয়ে আদালতে মামলা করা হয়। পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি থাকলেও তারপরও জোর করে নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। পাশাপাশি সেখান থেকে কিছু জমি অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে জাল খতিয়ান বের করে বলে অভিযোগ করেন প্রমোদ বাবু।যদিও সিরাজ উদ্দিন এর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর ছেলে সইফউদ্দিন নিজেকে বৈধ অধিকারী বলে দাবি করেন পাশাপাশি জমি কেনা বেচার সময় তার কিছুই জানা ছিল না বলে দাবি করেন।আশিস দের দাবি, তিনি প্রতিবেশী হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া তার কোন স্বার্থ নেই। অন্যদিকে গৌতম কীর্তনীয়া প্রমোদ বাবুর সঙ্গে কোনোরকম সমঝোতায় বসার কথা অস্বীকার করেন।

এমনকি তিনি প্রণব বাবুকে চেনেনই না বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানা নেই বলে জানিয়েছেন বিডিও বাপি ধর। বিএলআরও আমাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছা সত্ত্বেও নিচুতলার কর্মীদের একাংশের দিকে বারবার অভিযোগের আঙুল ওঠায় বিপাকে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here