সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপিতে:মমতা

0
37

তুহিন শুভ্র আগুয়ান;পূর্ব মেদিনীপুরঃতৎকালীন ৩৪ বছরের শাসনকারী সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপিতে নাম লিখিয়েছে।বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাজকুলে এক প্রকাশ্য জনসভায় সিপিএম কে কটাক্ষ করে এমনটাই বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।তিনি আরো জানান,”তৎকালীন সিপিএমের অত্যাচারে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ মানুষ খুন হত।

এই অত্যাচার থেকে আমরা বাংলার মানুষকে বাঁচিয়েছি।আর এই সকল সিপিএমরা এখন বিজেপির ওস্তাদ হয়েছে।”তিনি নাম না করে প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠকে কটাক্ষ করে বলেন,“রামের ভাইদের এখন তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো জায়গা নেই।আমরা তৃণমূল কংগ্রেস কোনো হার্মাদদের দিয়ে করিনা।

এরাই এখন বিজেপিতে গিয়ে নাম লিখিয়েছে।আর ভাবছে হিন্দুদের সঙ্গে মুসলমানের ঝগড়া লাগাবো আর কখনও শিখদের সঙ্গে মুসলমানের ঝগড়া লাগাবো।যখন কপালেশ্বর আর কেলেঘাই বন্যা ও খরা ভেসে যেতো তখন সিপিএমরা একবারও ভাবেনি এদের কথা ভেবেছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।”

বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফরে বাজকুলে এক প্রকাশ্য জনসভায় উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।এদিন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি,কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের বর্ষিয়ান সাংসদ শিশির অধিকারী,তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারি,পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক রশ্মি কমল,জেলা পুলিশ সুপার ভি স‍্যামুয়েল নেসাকুমার,পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস সহ জেলার সংসদ ও বিধায়করা।

এদিন তিনি প্রথমে সভামঞ্চ থেকে জেলার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।তিনি এই জেলার এক অন্যতম পিঙ্ক ক‍্যাব প্রকল্পে খুশি হয়ে বলেন,“আমার আজকে সব থেকে দেখতে ভালো লাগছে গোলাপি গাড়িগুলোকে।নীল সাদা গাড়ি গুলো ভাইয়েরা চালায় এবং এই গোলাপি গাড়িগুলো বোনেরা চালাবে।

আমি চাই ভাইদের সাথে সাথে সমাজে বোনেরাও উচ্চ অংশে উঠে আসুক।” তিনি ঐতিহাসিক মেদিনীপুর প্রসঙ্গে বলেন,“এই মেদিনীপুর জেলায় মাতঙ্গিনী হাজরা মুখ ফেটে রক্ত দিয়েছেন কিন্তু মাথা নত কোনদিন করেননি।এখান থেকেই বর্ণপরিচয়ের পুরোধা ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহ রোধ করেছেন এবং বিধবা বিবাহ শুরু করেছেন।এই জেলার দামাল ছেলে ক্ষুদিরাম হাসতে হাসতে ফাঁসির কাঠ গলায় নিয়েছিলেন কিন্তু কোনোদিন মাথা নত করেননি।এই জেলার নামই মেদিনীপুর জেলা।”

তিনি এই জেলার প্রসঙ্গে বলেন,“আমরা নন্দীগ্রাম,খেজুরি,পটাশপুর,এগরা,বাজকুল,পাঁশকুড়া কে ভুলিনি।নন্দীগ্রামের অনেক মানুষকে কুচিয়ে কুচিয়ে হলদি নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে ।তারা আজও ফিরে আসেনি।”

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান,“এই জেলায় আমরা গান্ধিজির নামে বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছি এবং তমলুকে মেডিকেল কলেজ দেওয়া হয়েছে।হলদিয়াতে কুড়ি কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে এছাড়াও আপনারা দীঘা এখন দেখে আসুন।এই দীঘা একদিন গোয়াকে ছাড়িয়ে যাবে।দীঘা এখন সাতকিলোমিটার বীচ হচ্ছে।এখানে ইন্টারন্যাশনাল কনভেন্সান সেন্টার হচ্ছে।এছাড়াও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে শুরু করে জল প্রকল্প সবটাই হয়েছে এই জেলায়।

”তিনি মোদি সরকারকে তুলোধুনা করে বলেন,“দিল্লিতে ওরা বড় বড় কথা বলে,আর বড় বড় ভাষণ দেয়।সবচেয়ে বড় ডাকাত সর্দারের এক এক জন।মা বোনেরা জিজ্ঞেস করুন বিজেপির রাজ্যে বারো হাজার কৃষক আত্মহত্যা করে কেন?পরিষ্কার জেনে রাখুন আমায় আঘাত করলে আমি কিন্তু প্রত্যাঘাত করি।

আমরা ৩৪ বছর অনেক আন্দোলন করে বাংলা থেকে সিপিএমদের তাড়িয়েছি।আর যে সিপিএমগুলো এখন বিজেপিতে গিয়ে জুটেছে তাদেরও বলে দেই আগামীদিনে রাজনৈতিকভাবে তোমাদের প্রত্যেককে তাড়াবো আমরা।কারণ হার্মাদের জন্ম আর আমরা বাংলায় করতে দেবোনা।”

বাজকুলে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় এদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।এদিনের জনসভা শেষ করে তিনি সরাসরি দীঘায় পৌঁছান।এরপর তিনি আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকের পর কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here