নিজস্ব প্রতিনিধি:  বাঘ সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে আশি হাজার কিমি পথ ভ্রমণে বের হলেন কলকাতার সল্টলেকের এক দম্পতি।তাদের এই যাত্রা পথে রয়েছে 13 টি দেশ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যাত্রা শুরু হয়ে শেষ হবে আগামী বছর। আজ এই দম্পতি শিলিগুড়িতে এসে পৌঁছলে জার্নালিস্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। আগামীকাল তারা বক্সা টাইগার রিজার্ভ হয়ে আসামের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

একজন হল রথীন্দ্রনাথ দাস অন্যজন হল গীতাঞ্জলী দাস , দুজনের পরিচয় স্বামী-স্ত্রী। তবে এই সম্পর্কের আগে তাদের আলাদা একটা পরিচয় রয়েছে। সেই পরিচয় হয় দুজনেই ভালো বন্ধু। আজ থেকে বছর দুয়েক আগে সোশ্যাল সাইট ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় রথীন্দ্র ও গীতাঞ্জলির।

সেখান থেকেই বন্ধুত্বের পর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক । আর সেই সম্পর্ক পূর্নতা পায় 2017 সালের জুন মাসে দুজনের মধ্যে বিবাহের পর। সাধারণত যে কোনো দম্পতির বিয়ের পর গড়ে ওঠে এক নতুন জীবন। তবে সেই জীবনে হল এক ছাদের তলায় দুটি মানুষ একসঙ্গে থেকে সংসার করা। তবে কলকাতার সল্টলেকের বাসিন্দা রথীন্দ্র গীতাঞ্জলির ক্ষেত্রে তা ছিল একেবারেই উল্টো।দুজনের মধ্যে ভ্রমণের ইচ্ছেটা ছিল ছোট থেকেই, তবে সেই ইচ্ছে পূর্ণতা পায় দুজনের বিয়ের পর। তাই তাদের মধ্যে বিয়ের পরই প্রথম ভ্রমণ ছিল রাজস্থান তবে এই ভ্রমণ স্বামী স্ত্রীর হানিমুন ভ্রমণ নয় তার থেকে একটু আলাদা রকম ভ্রমণ। এক কথায় বলা যেতে পারে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা নিয়ে ভ্রমণ।

এবারও ঠিক একইভাবে বার্তা নিয়ে আবারো ভ্রমণে বেরিয়েছে দাস দম্পতি। হবে এবারে বার্তা বাঘ বাঁচান। চলতি বছরের 15 ই ফেব্রুয়ারী কলকাতার সল্টলেক থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে এবারে যাত্রাটা আর ছোটখাটো নয়। পাহাড় পর্বত সমুদ্র পাড়িয়ে প্রায় আশি হাজার কিলোমিটার পথ পরিক্রমার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। একইসঙ্গে যাত্রাপথে রয়েছে 13 টি দেশ ।

সারা ভারত তো বটেই উত্তর পশ্চিম এশিয়ার থাইল্যান্ড , মালয়েশিয়া , সিঙ্গাপুর , মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া সহ ভিয়েতনামের মত দেশ রয়েছে তাদের এই যাত্রা পথে। সোমবার ওই দম্পতি শিলিগুড়িতে এসে পৌছলে তাদের সবর্ধনা জানানো হয় শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে। এর পরই ওই দম্পতি উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এর বনাঞ্চল হয়ে আসাম হয়েএ মায়নামারের দিকে রওনা দেন।

তবে এই যাত্রাপথের সমস্ত জায়গাতেই মানুষকে বন্যপ্রাণ ও বাঘ রক্ষা নিয়ে সচেতন করা হবে।

এক পরিসংখ্যান থেকে জানতে পারা গেছে আজ থেকে প্রায় 50 বছর আগে সারা বিশ্বে প্রায় 40,000 বাঘ ছিল। কিন্তু কালক্রমে সেই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার আটশো নব্বই টিতে। ভারত সরকারের ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির 2014 সালের বাঘ গণনা অনুযায়ী বর্তমানে ভারতের মোট বাঘের সংখ্যা রয়েছে দুই হাজার দুশো ছাব্বিটি । এই বাঘের সংখ্যা কমার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ক্রমাগত হারে নগরায়ন ও বনাঞ্চল ধ্বংস। পরিসংখ্যান বলছে এই ভাবে লাগাতার বাঘের সংখ্যা কমতে থাকলে একটা সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বাঘ। তাই বাঘ যাতে বিশ্ব থেকে নিশ্চিহ্ন না হয়ে যায় সেই বার্তা নিয়ে দাস দম্পতির এই যাত্রা।

অন্যদিকে রথীন্দ্র বাবু স্ত্রী গীতাঞ্জলির ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল বাইকে চড়ে দেশ ভ্রমনের। কিন্তু বিয়ের আগে বাইকে ভ্রমন তো দুরের কথা বাইকে চড়ার সুযোগ পাইননি তিনি। তাই বিয়ের পর স্বামীর সাথে নিজের ইচ্ছা কেউ যোগ করে তার স্বপ্নকে পূরণ করতে বেরিয়ে পড়েছেন ভ্রমণে । তবে জীবনে প্রথম বাইকে করে এত বড় দেশ ভ্রমণ করতে পেরে যথেষ্ট খুশি তিনি।

তবে একথা অনিস্বীকার্য যেভাবে কমছে বাঘের সংখ্যা তাতে বাঘ নিশ্চিহ্ন হওয়ার সময় আর খুব বেশি দেরি নেই। তাই মানুষ যদি এখনই সচেতন হয়ে যায় তবে প্রাণ পাবে বন্যরা। এক কথায় বলা চলে সার্থক হবে বাঘ ও বন্যপ্রাণ রক্ষা নিয়ে দাস দম্পতির ভ্রমণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here