তারাশঙ্কর গুপ্ত, বাঁকুড়া:সাড়া জাগিয়ে শুরু হলো ৩১ তম বর্ষ ‘বিষ্ণুপুর মেলা’। রবিবার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট পুরাতত্ত্ববিদ চিত্তরঞ্জন দাশগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এস, মহকুমাশাসক (বিষ্ণুপুর) মানস মণ্ডল, সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু, চেয়ারম্যান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি প্রমুখ।

এবারের মেলার থিম ‘জেলার পর্যটন ও হস্তশিল্প’। সেই হিসেবে জেলার কুটির শিল্পকে তুলে ধরতে ‘যামিনী রায় আর্ট গ্যালারি’ নামে মেলার মাঠে আস্ত এক গ্রামের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে । যেখানে জোড় মন্দির যাওয়ার পথে খড়ের ছাউনি আর পাটের দেওয়ালে গ্রাম বাংলার কুঁড়ে ঘরের আদলে ৬৪ টি স্টল তৈরী করা হয়েছে। মেলা কমিটির সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, কুটির শিল্পীদের জন্য এই ৬৪ টি স্টল বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁত ও বস্ত্র, হ্যাণ্ডলুম শিল্পীদের জন্য ১০ টি, সরকারী ও বেসরকারী দপ্তরের ১০ টি ও ‘বাংলার মুখ’ বিভাগে বিভিন্ন জেলার ১০টি মোট 99 টি স্টল থাকছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে মেলার আয়তন । শহরের নন্দলাল মন্দিরের সামনে ফাঁকা মাঠ, জোড় মন্দির সংলগ্ন ফাঁকা মাঠ ওখ হাই স্কুল মাঠে মেলা বসবে। মেলার মঞ্চ গুলির নাম বাঁকুড়ার তিন কৃতি সন্তান যদুভট্ট, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ও গোপেশ্বরের নামে করা হয়েছে। মেলার দিন গুলিতে নানা স্বাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন ঐ তিন মঞ্চে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতা ও মুম্বাইয়ের বিখ্যাত শিল্পীরা অনুষ্ঠানে করবেন। এছাড়াও এই মেলার মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন প্রকল্প যেমন কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, সবুজশ্রী, লোকপ্রসার, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ ও বাংলার আবাস যোজনার মতো আলু প্রকল্প গুলিকে মেলায় বিশেষ ভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও এবারই প্রথমবার মহকুমা শাসক মানস মণ্ডলের বিশেষ উদ্যোগে স্থানীয় তরুণ-তরুণীরাও কলকাতা-মুম্বাইয়ের পেশাদার মডেলদের সাথে রাম্পে হাঁটার সুযোগ পাবেন। যেখানে মূলত তুলে ধরা হবে বিষ্ণুপুরের বালুচরী, স্বর্ণচরী, সোনামুখী শিল্কের নানান পোষাক ও ডোকরা, টেরাকোটার গয়ণা। এছাড়াও একেবারে মেলার শেষ দিন দুপুরে থাকছে ‘সারমেয় প্রদর্শণী’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন হোক। রাজ্যের হস্তশিল্পের উন্নয়নে রাজ্য সরকার বিশেষ চিন্তাভাবনা নিয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরে তৈরী হওয়া বড় বড় মল গুলিতে একটি ‘ফ্লোর’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরী করা জিনিসপত্র বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার এই ক’বছরে রাজ্যের সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে দাবী করে কেন্দ্র সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র সরকার তার বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও পুরাণো দেনা শোধ করার জন্য কেন্দ্র 48 হাজার কোটি টাকা কেটে নিয়েছে। এর পরেও সাধারণ মানুষের উপর এক টাকাও কর না বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বাড়িয়েছেন।

লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে বর্ণময় সূচনা হয়ে গেল বিষ্ণুপুর মেলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here