প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে সরব মমতাঃ রাজ্যসভায় বিল আনবে তৃণমূল

0
33

পক্ষপাতেই দুষ্ট কেন্দ্র! কারণ প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল, স্বচ্ছ ভারত কোষ এবং নির্মল গঙ্গা তহবিলে অর্থ দান করা হলে তা যে কোনও বাণিজ্যিক সংস্থার সামাজিক দায়িত্ব পালন হিসেবে বিবেচিত হয়।

‌ফলে করছাড় পায় সংস্থাটি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ত্রাণ তহবিলে এমন বৈষম্য কেন? অনেক আগেই এ প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের এমন দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁরই নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলকে সিএসআর (‌কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি)-এ‌র আওতায় আনার দাবিতে রাজ্যসভায় ‘‌প্রাইভেট মেম্বার্স বিল’ আনতে চলেছেন এক তৃণমূল সাংসদ।

আসলে করছাড় না পাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে টাকা দিতে আগ্রহী থাকে না বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি। এ কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যায় না দুর্ভোগে পড়া বহু মানুষের কাছেই। তাই আমজনতার কথা ভেবেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সংসদের দুটি কক্ষেই এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। তবে তা গ্রাহ্যের মধ্যেই আনেনি কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, এই বিলে ২০১৩ সালের কেন্দ্রীয় কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রতি অর্থবর্ষে বাণিজ্যিক সংস্থার মোট লভ্যাংশের ২ শতাংশ স্থানীয় এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করতেই হয়। কোম্পানি আইনের ৭ নং ধারায় বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির সামাজিক দায়িত্ব পালনে উল্লিখিত বিষয়গুলির মধ্যে যাতে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেটাই এই বেসরকারি সদস্যের বিলের প্রস্তাব।

তৃণমুলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলকেও প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের সমতুল্য করা হোক। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে এই দাবি জানিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মমতার পথে হেঁটেই একই দাবিতে মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। যার ফলে এবার আটঘাট বেঁধেই আসরে নামছে দল। সূত্র থেকে পাওয়া খবর, এই বিল নিয়ে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে তেলেগু দেশম, শিবসেনার মতো দলগুলিও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here